জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়াকে ঘিরে সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য মস্কো ও ওয়াশিংটন সম্মিলিত ভাবে কূটনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করছে. এই বিষয়ে সোমবারে ক্রেমলিনে রাশিয়ার সরকারি মুখপাত্রদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে রাষ্ট্রপতির সহকারী টমাস ডনিলনের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে আলোচনা করা হয়েছে. তাতে কিছু সময়ের জন্যে যোগ দিয়েছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন.

মস্কো ও ওয়াশিংটন সহযোগিতার জন্য বিন্দু হিসাবে দেখতে পেয়েছে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় উত্তেজনা নিরসনের কাজকে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী ইউরি উশাকভ. তিনি রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতা করার বিষয়ে প্রস্তুত থাকাকে সমর্থন করে ঘোষণা করেছেন.

এর আগে দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানরা সের্গেই লাভরভ ও জন কেরি পিয়ংইয়ংকে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাবে মেনে চলার জন্য আহ্বান করেছেন ও নতুন প্ররোচনা থেকে বিরত হতে বলেছেন. আর সেটা হল – মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক রকেটের পরীক্ষা মূলক উড়ান ও চতুর্থবার পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে. মস্কো ও ওয়াশিংটনের এই সমস্যার ক্ষেত্রে যোগাযোগ এই এলাকায় উত্তেজনা প্রশমনে সাহায্য করবে বলে বিশ্বাস করে সামাজিক- রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইভসেয়েভ বলেছেন:

“কিম চেন ঈনের কাজ বাধ্য করেছে উত্তর পূর্ব এশিয়াতে অস্ত্র প্রতিযোগিতার. কারণ উত্তর কোরিয়ার রকেট আঘাত বন্ধ করার জন্য আমেরিকার রকেট বিরোধী ব্যবস্থা শক্তিশালী করার যে কোন রকমের প্রচেষ্টাতেই চিনের পক্ষ থেকে বাধা দেওয়া হবে. খুবই গুরুতর বিপদ রয়েছে রকেট – পারমানবিক সমরাস্ত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু হওয়ার. আর এই দৃষ্টিকোণ থেকে যে কোন রকমের সমঝোতা খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে – কিম চে ঈনের উপরে সেই রকমের চাপ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তিনি আন্তর্জাতিক সমাজের দাবী মেনে নেন ও সকলকে প্ররোচনা না দেন”.

একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চিনের কাছেও চাওয়া হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার উপরে এই প্রসঙ্গে চাপ বৃদ্ধি করার. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরি. তিনি মনে করেন যে, এখানে পরিস্থিতি আরও বেশী করেই খারাপ হতে পারে, যদি বেজিংয়ের তরফ থেকে পিয়ংইয়ংয়ের উপরে যথেষ্ট রকমের প্রভাব না ফেলা হয়. চিনের পক্ষ থেকে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় সঙ্কট অতিক্রমের জন্য আরও অবদান আশা করেছে জাপানও. এই বিষয়ে ১৬ই এপ্রিল জাপানের প্রধানমন্ত্রী সিনদ্জো আবে ঘোষণা করেছেন. তিনি মনে করেন যে, চিন উত্তর কোরিয়ার পদক্ষেপ গুলিকে সঠিক দিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে. আর সঠিক ভাবে বললে- পিয়ংইয়ংকে রকেট উড়ান বন্ধ রেখে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকাকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করার জন্য আলোচনায় বসতে বাধ্য করতে পারে.

টোকিও পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে তৈরী, যদি তারা নিজেদের রকেট – পারমানবিক প্রকল্প থেকে নিরস্ত হয়. এই বিষয়ে জাপানের মন্ত্রীসভার সাধারন সম্পাদক ইয়েসিহিদা সুগা ঘোষণা করেছেন. গত সপ্তাহের শেষে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা শুরু করার জন্য দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্ব বক্তব্য জানিয়েছে. তারই মধ্যে পিয়ংইয়ং থেকে এই প্রস্তাবকে বলা হয়েছে “ঘোরতর চালাকি” আর ঘোষণা করা হয়েছে “আলোচনার অর্থহীণতা” সম্বন্ধে.

আর ১৫ই এপ্রিল তারা আবারও দক্ষিণ কোরিয়ার উপরে শক্তিশালী আঘাত হানার কথা বলেছে. এর কারণ হয়েছে সিওলে একদল সক্রিয় লোকের পক্ষ থেকে উত্তর কোরিয়ার বর্তমান ও প্রাক্তন নেতাদের কুশ পুত্তলিকা দাহ করা. রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ কনস্তানতিন আসমোলভ মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন যে, এই ধরনের ঘটনা আগেও ঘটেছে, তিনি বলেছেন:

“আশা করব, যে এটা উত্তেজনা আরও একটা নতুন পাক বেশী বাড়ার কারণ হবে না, কারণ এই সব কিছুই আগে হয়েছে. খুবই স্বাভাবিক, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লী মেন বাকের সময়ে উত্তরের লোকরা তাঁর কুশ পুত্তলিকা দাহ করেছিল. আর দক্ষিণের লোকরা উত্তর কোরিয়ার নেতাদের প্রতিকৃতির উপরে গুলি চালনা করেছে. এই প্রসঙ্গে প্রতিকৃতিকে গুলি চালানোর লক্ষ্য বা বেয়নেট চার্জের লক্ষ্য করা প্রথমে দক্ষিণ কোরিয়ার লোকরা লী মেন বাকের সময়ে শুরু করেছিল”.

উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ার কাছ থেকে এই সমস্ত শত্রুতা মূলক আচরণের জন্য ক্ষমা চাওয়ার দাবী করেছে. সিওলের পক্ষ থেকে এই ধরনের চরম শর্ত অগ্রাহ্য করা হয়েছে. একই সময়ে তারা পিয়ংইয়ংকে সাবধান করে দিয়েছে যে, কোন রকমের প্ররোচনা দেওয়া হলে, তাদের পক্ষ থেকেও কঠোর প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে.