পাকিস্তানের আদালত প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফকে ২০০৭ সালে দেশের সংবিধান ভঙ্গের কারণে পার্লামেন্ট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে দেবে না বলেছে. এর একদিন আগে – সোমবারে নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করতে হয়েছে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজা পারভেজ আশরাফকেও নির্বাচনের অংশ নেওয়া থেকে বিরত করা হয়েছে. আর একই সঙ্গে নাম রেজিস্ট্রি করা থেকে বিরত করা হয়েছে এক সারি প্রার্থীকেও, যাদের উপরে এখনও শাসনভার হাতে রাখা দল পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি বিশেষ আশা করেছিল. খুবই সম্ভবতঃ, পাকিস্তানে নির্বাচনের এক মাস আগে অনেকেই এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, নির্বাচনের ফলাফল এখনই জানা হয়ে গিয়েছে, আর জয় হবে বর্তমানের বিরোধী পক্ষ পাকিস্তানের মুসলিম লীগ (ন) দলের.

বোধহয়, পাকিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তব এই কদিন আগের চেয়ে খুবই বেশী রকমের পাল্টে গিয়েছে, মনে করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“বিগত পঞ্চাশ বছরেরও বেশী সময় ধরে স্বাধীন অবস্থায় পাকিস্তানের থাকার সময়ে প্রত্যেকবারই, যখনই এই দেশের অসামরিক প্রশাসন কোন কানাগলিতে পৌঁছেছে, আর দেশের সামাজিক- রাজনৈতিক পরিস্থিতি জটিল হয়েছে, নিজেদের হাতে ক্ষমতা নিয়েছিল সামরিক বাহিনীর লোকরা. আজ সামরিক বাহিনী খুবই বিশেষ প্রদর্শনী করে রাজনীতির বাইরে থাকতে চাইছে. এটাই অনেকটা আলাদা করে আগে থেকেই ঠিক করে দিয়েছিল বিগত পার্লামেন্টের ঐতিহাসিক ভাবে প্রথমবার সম্পূর্ণ মেয়াদ ক্ষমতায় আসীন থাকাকে. এমনকি পর্যবেক্ষকদের মতে বর্তমানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি – পাকিস্তানের অসামরিক নেতাদের মধ্যে ইতিহাসে সবচেয়ে দুর্বল নেতা হওয়া স্বত্ত্বেও”.

কিন্তু সামরিক বাহিনীর লোকদের জোর করে রাজনীতি থেকে নিজেদের দূরে থাকার মানে একেবারেই এটা নয় যে, এবার থেকে সব ঠিক করবেন নির্বাচকরাই. এখানে ব্যাপার শুধু রাজনৈতিক জীবনের ঐতিহ্যই নয়, যখন সাধারণ নির্বাচকদের হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন স্থানীয় জমিদাররা. ব্যাপার হল যে, বিগত বছর গুলিতে পাকিস্তানের রাজনৈতিক জীবনে বিশাল ক্ষমতা অর্জন করতে পেরেছে দেশের বিচার ব্যবস্থা. তারাই সেই সময়ে ২০০৮ সালে তত্কালীন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফকে দেশের সুপ্রীম কোর্টের সঙ্গে বিরোধের সময়ে বাধ্য করেছিল শাসনভার ত্যাগ করাতে.

আর আজও আদালত, এক সঙ্গে বেশ কিছু প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড়াতে না দিয়ে আবার করে নিজেদের শক্তি দেখিয়েছে. তার মধ্যে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফকেও, যিনি এখন সারা পাকিস্তান মুসলিম লীগের নেতা, তাই ভলখোনস্কি বলেছেন:

“অনেক পর্যবেক্ষকের জন্যই এটা একটা সঙ্কেত হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, নির্বাচনের ফলাফল ইতিমধ্যেই বুঝি ঠিক হয়ে গিয়েছে, আর আজ খুব কম লোকই সন্দেহ করছেন যে, ১১ই মে তারিখে হওয়া পার্লামেন্ট নির্বাচনে জিততে চলেছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বে মুসলিম লীগ (ন) – যিনি এই বারের হেমন্তে দেশের রাষ্ট্রপতি হবেন.

মনে হচ্ছে, এই বিষয়ে দল নিজেই এবারে আস্থা অনুভব করতে পেরেছে, অন্তত পক্ষে তাদের নির্বাচনী প্রচার এখন শুরু করা হচ্ছে শো হিসাবে. গত সোমবারে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তাদের হয়ে নির্বাচনী প্রচারে নামছেন পাকিস্তানে বর্তমানে এক পাউন্ড ফিশ নামের গান গেয়ে ইন্টারনেটে সব থেকে পরিচিত মুহম্মদ শহীদ নাজির. তিনি আবার ফ্রান্স প্রেস সংস্থাকে বলেছেন যে, এই জন্য তিনি আরও একটা গান তৈরী করেছেন ও আশা করেন যে, এটাও খুব হিট গান হবে ও প্রচারের কাজে লাগবে”.

প্রসঙ্গতঃ, সেই পরিস্থিতিতে, যখন বহু নির্বাচকই সেই নিয়ে দুঃখিত যে, তারা সাধারণ রাজনীতিতে আর রাজনৈতিক দল গুলির মধ্যে কোন রকমের নীতিগত তফাতই দেখতে পাচ্ছেন না. তাই ভোটের দিনে হয়ত অচেনা ঘোড়ার মত করে রেসে জিততে পারে ইমরান খানের দল তেহরিক এ ইনসাফ দল.

সোমবারেই ইমরান খান ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর দলের প্রার্থীদের তালিকায় শতকরা আশি ভাগ লোকই আগে কোন নির্বাচনে অংশ নেন নি, আর তাঁদের মধ্যে একের তৃতীয়াংশের বেশী লোকেরই বয়স চল্লিশের নীচে. তিনি এই বিষয়টিতেই দেখতে পাচ্ছেন নিজের দলের শক্তি, যা একমাত্র দাবী করতে পারে নবীকরণের ধারণাকে বয়ে নিয়ে যাওয়ার. প্রসঙ্গতঃ, যৌবন ও অভিজ্ঞতার অভাব – এটা একই সময়ে আবার তাঁর দলের দুর্বলতাও. সুতরাং খুব সম্ভবতঃ, ইমরান খানের ও তাঁর দলের এবারে নির্বাচনে যোগ দেওয়ার ফল – এটা ভবিষ্যতের জন্যই প্রথম একটা দাবী পত্র, এই রকমই মনে করছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ.