বস্টন শহরে ম্যারাথন দৌড়ের সময়ে পরপর দুটি বোমা ফাটার ঘটনা ঘটে যাওয়ার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহর গুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয়েছে. নিউইয়র্কে রাস্তায় টহল দিচ্ছে সন্ত্রাস বিরোধী শক্তি. শহরে বাড়তি পুলিশ বাহিনী আনা হয়েছে. বিশেষ করে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে সেই সব জায়গাতেই, যা পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়. শহরের রাস্তায় ঘুরে চলেছে ভ্রাম্যমান নির্দেশ কেন্দ্র গুলি. বিষয় নিয়ে বিশদ করে বর্ণনা দিয়েছেন আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক প্রতিনিধি রমান মামোনভ.

বস্টন ম্যারাথনের সময়ে অন্তর্ঘাত মূলক কাজ করার জন্য পুলিশের বর্তমানে অন্তত একজন সন্দেহ ভাজন ব্যক্তি রয়েছে. বস্টন শহরের উপকণ্ঠে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদীর বাড়ীতে বিশেষ বাহিনী তল্লাশী করেছে.

জানা রয়েছে যে, এই ব্যক্তি একজন কালো চামড়ার যুবক, যাকে এই বিস্ফোরণের কয়েক মিনিট আগে বিস্ফোরণের জায়গায় দেখা গিয়েছিল. ক্ষতিগ্রস্তদের সম্বন্ধে তথ্য নতুন করে দেওয়া হচ্ছে.

তিন জন নিহত ও ১৪০ জনেরও বেশী আহত হয়েছেন. চিকিত্সকদের তথ্য অনুযায়ী নিহতদের মধ্যে একজন – ৮ বছর বয়সী এক বালক. সব মিলিয়ে কম করে হলেও কুড়িটি বাচ্চা আহত হয়েছে. ১৬ জন আহত লোকের অবস্থা আশঙ্কা জনক, ২৫ জন যথেষ্ট গুরুতর ভাবে আহত. বেশীর ভাগেরই আঘাত বোমার টুকরো থেকে. এখানে বিস্ফোরিত বোমা গুলির মধ্যে ছিল লোহার বল. ম্যাসাচুসেটস্ রাজ্যের হাসপাতালে শল্য চিকিত্সক পিটার ফেইগেনহোলত্স এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“শুধু আমাদের হাসপাতালেই আনা হয়েছে ২৯ জন অসুস্থকে, তাদের মধ্যে ৮ জন এখন সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছে. অনেকেরই আঘাত গুরুতর.সবচেয়ে গুরুতর ভাবে আহতদের এখানে আনা হয়েছিল বিস্ফোরণের পরে ১৫ মিনিটের মধ্যেই. তখনও আমরা জানতাম না যে, এটা হিমশৈলের শুধু চূড়া”.

বিস্ফোরণের মুহূর্ত বেশ কয়েকটি টেলিভিশন ক্যামেরায় ধরা পড়েছে, যা এই দৌড়ের শেষ পর্যায়ে রাখা হয়েছিল. বিস্ফোরণের সময়ে ২৪ হাজার ম্যারাথন দৌড়ে অংশ নেওয়া লোকের মধ্যে বেশীর ভাগই মূল দূরত্ব অতিক্রম করতে পেরেছিল. তোলা ছবিতে দেখতে পাওয়া গিয়েছে যে, বোমা রাখা হয়েছিল দর্শকদের গ্যালারির কাছে. প্রথমে দেখতে পাওয়া গিয়েছে একটি বিস্ফোরণ, তারপরে আরও একটি, কিন্তু তা হয়েছে আরও বেশী জোরে. দর্শকদের মধ্যে (আর বস্টনে এই দিনে এসেছিলেন প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ) শুরু হয়েছিল আতঙ্ক.

এখনও একটিও গোষ্ঠী এই কাণ্ডের দায়ভার নিজেদের উপরে নেয় নি. আর সরকার জানে না, কে বা কারা এই সন্ত্রাসের পিছনে রয়েছে. কিন্তু বারাক ওবামা জাতির উদ্দেশ্য বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেছেন যে, অপরাধীরা শাস্তি পাবেই, তিনি এই সূত্রে বলেছেন:

“আমি নির্দেশ দিয়েছি রাষ্ট্র প্রশাসনের সমস্ত রসদ কাজে লাগাতে, যাতে রাজ্য গুলিতে আমাদের মানুষদের রক্ষা করা সম্ভব হয়, দেশের সমস্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে ও তদন্ত করতে. আমাদের এখনও সমস্ত প্রশ্নের উত্তর মেলে নি, কিন্তু আমরা জানি, যে অনেক লোকই আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর. ততক্ষণ পর্যন্ত কোন রকমের সিদ্ধান্ত করা ঠিক হবে না, যতক্ষণ না আমাদের কাছে সমস্ত তথ্য জমা হয়. কিন্তু আমরা তাদেরকে খুঁজে বার করবোই, যারা এই কাণ্ড করেছে, যে কোন লোক, গোষ্ঠী, যারা এর জন্য দায়ী, - তারা সকলেই নিজেদের উপরে আইনের কড়া শাসনভার টের পাবেই”.

রাশিয়া- ২৪ টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বস্টন ম্যারাথনে অংশ নেওয়া ১৯জন রুশ প্রতিযোগীদের ম্যানেজার আন্দ্রেই বারানভ বলেছেন:

“আমরা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরপর দুটি বিস্ফোরণ শুনতে পেয়েছি. আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম যে, এটা স্যালুট হচ্ছে, কিন্তু তা হওয়ার শব্দ এত শক্তিশালী কি করে হয়! বলা যেতে পারে তার কয়েক মিনিট পরেই আমাদের হোটেলের চারপাশে, একেবারে জানলার নীচেই শুনতে পেয়েছিলাম পুলিশের গাড়ীর সাইরেন. তারপরে আমরা টেলিভিশনে খবর দেখতে শুরু করেছিলাম ও বুঝতে পেরেছিলাম, কি হয়েছে. অবশ্যই আমাদের ভয় করছিল, এই মুহূর্তে আমাদের হোটেল বাইরের থেকে সম্পূর্ণ ভাবেই বন্ধ করে রাখা হয়েছে, আমরা বের হতে পারছি না. আমাদের বের হতেও দেওয়া হচ্ছে না. এমনকি যাদের এখন বিমানে উড়ে যাওয়ার কথা, তাদেরও বলা হচ্ছে যে, ফ্লাইট দেরী করানো হচ্ছে. আমাদের কাছেই রয়েছে রেলওয়ে স্টেশন, কিন্তু সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, সেটাও এখন বন্ধ রাখা হয়েছে”.

বিস্ফোরণের একটু পরেই বস্টনে আংশিকভাবে মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছিল. মনে করা হয়েছে যে, এই বোমা গুলি চালু করা হয়েছে এই মোবাইল ফোন ব্যবহার করেই. বস্টনের আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরও বন্ধ রাখা হয়েছে. এখনও প্রশাসন বুঝতে চাইছে, এই ম্যারাথনের সময়ে বিস্ফোরণ ও জন কেনেডির নামাঙ্কিত লাইব্রেরীতে যে ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে কোন সম্পর্ক রয়েছে কি না. সেখানে আগুন লেগেছিল, কেউই ক্ষতিগ্রস্ত হন নি.