দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী কিম গ্ভান চ্ঝিন ঘোষণা করেছেন যে, জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া তৈরী হয়ে রয়েছে ব্যালিস্টিক মিসাইল উড়ান করার জন্য. কিন্তু উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ অর্থে যুদ্ধ প্রস্তুতির লক্ষণ দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় যুদ্ধের কাজ অবধি ব্যাপারটা গড়াবে না.

১৫ই এপ্রিল উত্তর কোরিয়াতে সূর্য উত্সব পালন করা হচ্ছে. সেখানে এই নামেই দেশে ক্ষমতাসীন কিম বংশের প্রতিষ্ঠাতা – যিনি চুচহে নীতির স্রষ্টা, সেই কিম ইর সেনের জন্মদিনকে আখ্যা দেওয়া হয়ে থাকে. এই ঘটনার জন্য দেশে দুই দিন থাকে রাষ্ট্রীয় ছুটি. পিয়ংইয়ং শহরে থাকা সাংবাদিক প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন যে, রাজধানীতে এখন পরিস্থিতি উত্সবের. এখানে পুরুষ ও মহিলারা উত্সবের পোষাকে কিম ইর সেন ও তাঁর পুত্র কিম চেন ইরের স্মৃতি সৌধে পুষ্প স্তবক অর্পণ করছেন. আর বর্তমানের উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চেন ঈন আজ মুসোলিয়ামের ভিতরে এসেছিলেন, যেখানে তাঁর পিতা ও পিতামহের কবর রয়েছে. কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের উত্সব অনুষ্ঠান আগ্রহের বিষয় নয়, তাঁরা লক্ষ্য করতে চাইছেন উত্তর কোরিয়ার তরফ থেকে ব্যালিস্টিক রকেট উড়ানের প্রস্তুতি. যদিও সমস্ত রকমের প্রস্তুতি কয়েকদিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল, তবুও এই উড়ান এখনও হয় নি. পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের কোরিয়া পরিকল্পনা কেন্দ্রের ডিরেক্টর গিওর্গি তলোরায়, তিনি বলেছেন:

“এক গুচ্ছ প্রচার মূলক ঘোষণার পরে ও নিজেদের শত্রুদের প্রতি যথেষ্ট কঠোর বক্তব্য প্রকাশের পরে আর অবিলম্বে যুদ্ধ শুরু করার হুমকি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার লোকরা হঠাত্ করেই চুপ করে গিয়েছেন. আর সেই রকেট, যা এখন দাঁড় করানো হয়েছে, তা যদিও উড়ানের জন্য প্রস্তুত, তবুও সেগুলির উড়ান বন্ধ করেই রাখা হয়েছে. কারণ যদি তা যদি কোনও লোক দেখানো বা রাজনৈতিক কারণে করা হত, তবে তা হয়ে যেত দেশের সবচেয়ে বড় উত্সবের আগেই – কিম ইর সেনের জন্মদিনের আগেই. তাহলে হলটা কি? আমার মনে হয় যে, খুব সম্ভবতঃ, উত্তর কোরিয়ার লোকদের সাথে কোন একটা যোগাযোগ শুরু হয়েছে, যেটা নিয়ে আমরা এখনও কিছু জানি না. আর তাই উত্তর কোরিয়ার লোকরা উত্তেজনা বৃদ্ধির বিষয়ে একটা সাময়িক বিরতি নিয়েছে”.

পিয়ংইয়ং এর পক্ষ থেকে কিছুদিন আগের একেবারেই আগ্রাসী স্বর শোনা যাওয়া স্বত্ত্বেও বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন না যে, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় যুদ্ধ শুরু হতে চলেছে. এখানে বিরোধ বাঁধাতে কোন পক্ষই আগ্রহী নয়.. সম্পূর্ণ রকমের যুদ্ধ শুরু হতে পারে শুধু উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান অথবা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপরে আঘাত করা হলে তবেই, এই রকমের বিশ্বাস নিয়ে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি সংক্রান্ত সভার প্রধান ফিওদর লুকিয়ানভ বলেছেন:

“কিন্তু এটা, খুব সম্ভবতঃ হবে না. কারণ উত্তর কোরিয়াতে শাসন কোনও আত্মঘাতী উন্মাদ লোকে করছে না, বরং নিজেদের মত করে, এক ধরনের খুবই বাস্তববাদী লোকেরা করছে. শুধু তাদের বাস্তববাদী লক্ষ্য একদিকে যাতে তাদের কেউ না ছোঁয়, যাতে সকলেই তাদের স্রেফ ছেড়ে দেয়. তাই এই ধরনের ফাউল করার সীমানায় খেলা আরও অনেকদিন ধরেই চলতে থাকবে”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, তারা দেখাই যাচ্ছে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এখন জুটতে চাইছে না. যদিও উত্তর কোরিয়ার রকেট প্রযুক্তি যথেষ্ট সাধারণ আর এই দেশের কাছে পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে. কেউই চাইবে না, কিন চেন ঈন পারমানবিক অস্ত্রের বোতাম টিপবেন কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে. একই সময়ে বর্তমানের পরিস্থিতিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে: পিয়ংইয়ং নিজেদের অভিভাবক চিনকে খুবই বেশী রকমের রাগিয়ে দিয়েছে. বেজিংয়ে ভয় পেয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার কাজ কারবারের জন্য আমেরিকার লোকরা তাদের সামরিক উপস্থিতি এবারে এই এলাকায় বাড়িয়ে দেবে, আর তা দিয়েই পরিবর্তন হবে বর্তমানের সামরিক শক্তির ভারসাম্য. তাই চিন সবচেয়ে বেশী শক্তি প্রয়োগ করছে সেই কারণে, যাতে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় উত্তেজনার মাত্রা কমে.