এই বছরে সাড়ে বিশ হাজার রুশ মুসলমান হজে যেতে পারবেন. তত জনই, যতজন গত বছরে হজে গিয়েছিলেন. রাশিয়ার হজ কমিটির সৌদি আরব ভ্রমণের এইটাই প্রধান ফলাফল.

রাশিয়ার প্রতিনিধি দল, যাঁদের মধ্যে রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকার প্রধান ধর্মীয় নেতারা, তাঁরা হজ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাতেম বেন হাসান কাদি ও তাঁর সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন. এই সফরে পাঁচটি চুক্তি ও প্রোটোকল স্বাক্ষরিত হয়েছে, যাতে ২০১৩ সালে রাশিয়ার লোকদের তরফ থেকে হজ যাত্রা করার নিয়ম স্থির করা হয়েছে.

এই প্রসঙ্গে রেডিও রাশিয়াকে রাশিয়ার মুফতি সভার উপ সভাপতি দামির গিজাতুলিন বলেছেন:

“রাশিয়ার মুসলমানদের জন্য সাড়ে বিশ হাজার লোকের যাওয়ার অনুমতি খুবই কম. আমরা ব্যাখ্যা করেছি যে, এই ২০ বছর ধরে রাশিয়াতে পুরনো সোভিয়েত দেশের মধ্য এশিয়ার রাজ্য গুলি থেকে কম করে হলেও পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ এসে নাগরিকত্ব নিয়েছেন. তাছাড়া রাশিয়ার ভিতরেও মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকদের মধ্যেই জন্মের হার সব চেয়ে বেশী, এই কারণ গুলিকে ধর্তব্যের মধ্যে রাখা দরকার.

আমরা বুঝতে পারি যে, এখন পবিত্র মক্কায় চলছে বিশাল আকারে পুনর্গঠন, আমরা নিজেরাই সব কিছু চোখে দেখে এসেছি. কিন্তু তাও আমাদের পক্ষ থেকে যাওয়ার জন্য অনুমতি বাড়ানো বা আলাদা করে হজ করতে বাড়তি যেতে দেওয়ার সুযোগ পাওয়ার জন্য এই বছরে আমরা মন্ত্রণালয়ে দিয়ে এসেছি”.

বিগত কয়েক বছর ধরে রাশিয়াতে হজ করার জন্য আবেদন পত্র জমা দিয়েছেন যত অনুমতি রয়েছে প্রায় তার দ্বিগুণ – প্রায় চল্লিশ হাজার মানুষ. ফলে রাশিয়া আয়োজকরা প্রাথমিক ভাবে তাঁদের দলিল পত্রই গ্রহণ করে থাকেন, যাঁরা ইসলামের পঞ্চম নিয়মের একটিকে জীবনে প্রথমবার করতে চান.

কিন্তু এই ধরনের লোকদেরও অপেক্ষা করে থাকতে হয়. যেমন, উত্তর ককেশাসের ইঙ্গুশেতিয়া রাজ্যের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে দেড় হাজার জায়গা, কিন্তু যেতে চান তার থেকে অনেক বেশী মানুষ. ইঙ্গুশেতিয়া রাজ্যের মুসলমানদের ধর্মীয় সভার প্রধান ইসা-হাজি খামখোয়েভ বলেছেন:

“গত বছরে আমাদের জন্য আরও আড়াইশো জায়গা দেওয়া হয়েছিল, আর আমরা সব মিলিয়ে ১৭৫০ জনকে পাঠিয়েছিলাম. এই বছরে আমরা জায়গা পেলে দুই থেকে আড়াই হাজার জনকে পাঠাতে পারতাম.কিন্তু আমাদের জন্য জায়গা যখন নেই, তখন বাধা দিতে হবেই. আমাদের সমস্ত হজ যাত্রীরাই ইঙ্গুশেতিয়া থেকে সরাসরি সৌদি আরবে উড়ে যাবেন. এই নিয়ে গত দুই বছর ধরে আমাদের এখান থেকেই সরাসরি বিমানের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা খুবই সহজ করে দিয়েছে হজ করার কাজকে”.

গত দুই –তিন বছর ধরেই হজ যাত্রীদের পবিত্র ভূমিতে পৌঁছে দেওয়ার কাজকে প্রাথমিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে. রাশিয়া সম্পূর্ণ ভাবেই গাড়ীতে যাওয়ার উপায় বাদ দিয়েছে. এই বছরে জেড্ডা ও মদিনাতে সরাসরি বিমানে পাঠানো হবে সাড়ে বারো হাজার রুশ হজ যাত্রীকে, জর্ডনের আকাবি অবধি জোড়া দেওয়া ফ্লাইটে যাবেন আট হাজার মুসলমান.

গত বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের ৬২ টি এলাকার মুসলমানরা হজে গিয়েছিলেন. তত জনই এই বছরও এই সব এলাকা থেকে যাবেন বলেই মনে করা হচ্ছে.

এই নিয়ে দামির হজরত গিজাতুলিন বলেছেন:

“সৌদী মন্ত্রীর প্রথম উপমন্ত্রী আমাদের বলেছেন যে, রাশিয়ার মুসলমানেরা বিশ্বের সমস্ত মুসলমানদের মধ্যে সব থেকে শিক্ষিত লোকদের মধ্যেই পড়েন. সৌদি আরবের লোকেরা রাশিয়াতে হজ আয়োজনের উন্নত স্তরের কথা এই ভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আপনাদের মুসলমানেরা – যেমন লেখা পড়ায় উচ্চ শিক্ষিত, তেমনই খুব খুঁটিয়ে জানেন ধর্মীয় নিয়ম কানুন, তারা কোন রকমের বাদানুবাদ না করেই আমাদের সমস্ত রকমের দাবী মেনে চলেন, সেটা যেমন মক্কায় তেমনই মদিনাতেও. রাশিয়ার হজ আয়োজনের কাজকে সেরা বলে মেনে নেওয়া হয়েছে ও তা উদাহরণ হিসাবে অন্যদের দেখানো হয়েছে”.

কিন্তু হজ যাত্রীর সংক্যা নির্ণয়ে এটা কোন ভাবেই প্রতিফলিত হচ্ছে না. এপ্রিল মাসের শেষে, সৌদী আরবের পক্ষ থেকে দেওয়া পুরনো সাড়ে বিশ হাজার যাত্রীর জন্য জায়গা, রাশিয়ার নানা এলাকার ধর্মীয় সভার মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে. আর বহু মুসলমানই, যাঁরা হজ করতে যেতে চান, তাঁদের ইচ্ছা পূরণ কি এবারে হতে চলেছে, নাকি আরও অপেক্ষা করতে হবে.