রবিবারে জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের অন্তর্গত জেডিইউ-র পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে যে, তারা ২০১৪ সালের সারা দেশ জোড়া লোকসভা নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা – ৮৭ বছর বয়সী লালকৃষ্ণ আডবাণীকে প্রার্থী হিসাবে প্রস্তাব করার বিষয়ে আপত্তি করবে না. এটা ঘটল ঠিক একদিন বাদেই, যখন এই দলের পক্ষ থেকে কঠোর ভাবে নরেন্দ্র মোদীর আগামী প্রধানমন্ত্রী পদের মুখ্য প্রার্থী হিসাবে এগোনোর বিপক্ষে কথা বলা হয়েছে, তার পরে, যদিও মোদীকেই বর্তমানে অনেকে দেখেছেন প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে. এখানে বলা কঠিন, জেডিইউ দল একজন চরমপন্থী রাজনীতিবিদের জায়গায় আরেক জনকে বদলে নিতে গিয়ে কি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু দেখাই যাচ্ছে যে, এই ধরনের লড়াই দিয়ে আর যাই হোক, নির্বাচনের আগে বিরোধী পক্ষের ভিতরে ঐক্য প্রদর্শন করা সম্ভব হচ্ছে না.

জেডিইউ দলের নরেন্দ্র মোদীর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছার বিরুদ্ধে প্রধান কারণ খুবই বোঝা সম্ভব. এটা তাঁরই ২০০২ সালে গুজরাত দাঙ্গার সময়ে শেষ অবধি স্পষ্ট না হওয়া ভূমিকার প্রতিই অভিযোগ. তিনি সেই সময়ে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, অথচ তিনি এই দাঙ্গার সময়ে কম করে হলেও – তা থামানোর জন্য কিচ্ছুই করেন নি, আর বেশী করে হলে এমনকি তাতে উস্কানি দিয়েছিলেন. মোদী নিজে তাঁর বিরুদ্ধে করা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন. জেডিইউ দলের প্রতিনিধিদের কথামতো, মোদীর প্রার্থী পদকে সমর্থনের অর্থ হল যে, দলের একটি প্রধান নীতি থেকে বিরত হওয়া – রাষ্ট্রের ধর্ম নিরপেক্ষ গঠনের প্রতি নিষ্ঠা রাখা.

জেডিইউ দলের এই বিরোধী পক্ষের জোট ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়া কতটা গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি আনতে পারে, তা বলা শক্ত, এই কথা উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি, তিনি বলেছেন:

“দেশের পার্লামেন্টে এই দলের সদস্য পদের সংখ্যা ২০ টি, আর তাদের আরও বেশী পদ পাওয়ার সম্ভাবনাও খুব একটা বেশী নয় যে, তার জন্য জাতীয় গণতান্ত্রিক জোটের পক্ষে তাদের ছাড়া চলতে অসুবিধা হবে. তার ওপরে জেডিইউ দলের নেতারা ঘোষণাই করেছেন যে, জাতীয় মঞ্চে দল বিজেপির প্রধান বিরোধী পক্ষের সঙ্গে কোন রকম জোটে যাবে না – অর্থাত্ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে. কিন্তু ভারতীয় রাজনীতির জটিলতা ও বহু স্তরে হওয়া এমন পরিস্থিতি তৈরী করে দিতে পারে যে, একটি দলের উদাহরণ অন্য দলের জন্য উপমা হতে পারে ও তার পদাঙ্ক অনুসরণ করতে পারে প্রথমে আরেকটি, তারপরে আরও একটি এইভাবে, আর তার ফলে জোটের কোন চিহ্নই পরে নাও থাকতে পারে, যা শুধু রাজনৈতিক ভাবে বিরোধীদের জন্যেই সুবিধাজনক হতে পারে”.

রবিবারে জেডিইউ দল ঘোষণা করেছে যে, তাদের নেতাদের কাছে স্পষ্টই হয়েছে একটি সমঝোতার উপায়: প্রধানমন্ত্রীর পদে বিজেপি দলের একজন প্রবীনতম নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণীকে প্রস্তাব করা. তাঁর সময়মতো নির্বাচন হলে, বয়স হবে ৮৭ বছর. আডবাণী বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহের চেয়ে পাঁচ বছরের বড়.

এনডিএ বিগত সময়ে লালকৃষ্ণ আডবাণীর নেতৃত্বে নির্বাচনে লড়েছে – ঘোষণা করেছেন জেডিইউ দলের এক নেতা দেবেশ ঠাকুর. তিনি বলেছেন - আমি মনে করি না যে, এনডিএ জোটের কোনও দলের পক্ষেই তাঁর নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেওয়া কঠিন হবে. আডবাণী কোন সন্দেহই নেই যে, জোটের বেশীর ভাগ দলের জন্যই গ্রহণযোগ্য হবেন.

জোটের দল গুলির জন্য হতেই পারে যে, তিনি বেশী গ্রহণযোগ্য হবেন. কিন্তু প্রশ্ন হল যে তিনি কি নির্বাচকদের জন্য বেশী গ্রহণযোগ্য হবেন? আর তা শুধু তাঁর বয়েসের জন্যই নয়, এই রকম মনে করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“বাস্তবে, মোদী ও আডবাণীর মধ্যে দৃষ্টিকোণের বিশেষ তফাত অন্তত অভিজ্ঞতার বিচারে দেখতে পাওয়া যায় না. দুজনকেই বিজেপি দলের চরমপন্থী পক্ষের প্রতিনিধি বলে মনে করা যেতে পারে. আর যদি নরেন্দ্র মোদীকে স্রেফ দাঙ্গার সময়ে উস্কানি দেওয়ার জন্য সন্দেহ করা হয়ে থাকে, তবে আডবাণী সম্পর্কে সন্দেহ আরও কম. প্রথমে তিনি নব্বইয়ের দশকে অযোধ্যা শহরে বাবরি মসজিদ হঠানোর বিষয়ে একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন, তার পরে ১৯৯২ সালে এক হিন্দু নামধারী চরমপন্থীদের হিংসার ঢেউয়ে এই প্রাচীন স্মৃতি সৌধ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল, যে আন্দোলনের পুরোধা ছিলেন আডবাণী নিজে”.

সুতরাং একদিক থেকে এই বদল, সরকারের আগামী রাজনৈতিক নীতিতে কোনই বদল আনবে না, আর অবশ্যই যদি এই এনডিএ জোটই ক্ষমতায় আসে তাহলে. আবার অন্য দিক থেকে – খুবই জটিল করে তুলবে এই জোট ঐক্যবদ্ধ রাখায়, আর তার মানে হল – বিজয়ের সম্ভাবনাকে আরও বেশী করেই কুয়াশাছন্ন করে দিচ্ছে বলে মনে করেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.