রাশিয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণী ধীরে ধীরে, কিন্তু বাড়ছে. উপরন্তু, তার গুণগত মানেরও উন্নতি ঘটছে. ব্যবসায়ী ও বুদ্ধিজীবিরা ছাড়াও স্বচ্ছল মানুষের তালিকার অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে ক্রমশঃ বেশি করে সরকারী কর্মচারী ও সামরিক কর্মচারীরা.

বিশ্লেষকরা জোর দিয়ে বলেন, যে উন্নত সমাজে, যেখানে স্থিতিশীল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সেখানে গোটা জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত. এই শ্রেণীতে মুখ্য ভাগ থাকে ব্যবসায়ী ও বুদ্ধিজীবিদের. রাশিয়ায় সাম্প্রতিককালে এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বাজেট থেকে মাইনে পাওয়া নাগরিকদের একাংশও. রাষ্ট্রের সামাজিক অভিমুখী নীতির দৌলতে তাদের সক্রিয় পরিভোগী হওয়ার সুযোগ আসছে. শেয়ার মার্কেট ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক অধিকর্তা ইগর কোস্তিকভের মতে, এটা সমাজে স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও দেশের ক্রমাগত অর্থনৈতিক উন্নয়নও তা সুনিশ্চিত করে.-

সবার আগে, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরিভোগের মাত্রা হচ্ছে সেই চালিকাশক্তি, যা স্থিতিশীল অর্থনৈতিক উন্নয়নের আবহ তৈরী করে দেয়. এবং দ্বিতীয়তঃ, মধ্যবিত্ত শ্রেণীর নিজস্ব পরিচয় সচেতনতা সমাজে স্থিতিশীলতা আনে. পরিসংখ্যান বলছে, যে রাশিয়ায় যতসংখ্যক নাগরিক নিজেদের মধ্যবিত্ত বলে গণ্য করে, তাদের সংখ্যা ক্রমশ্ঃ বাড়ছে. তবে, আমরা চাইছি, যে এই প্রক্রিয়ার উর্দ্ধগতি ত্বরাণ্বিত হোক.

দুই বছর আগে, রুশ ফেডারেশনের অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মুল্যায়ণ অনুযায়ী, দেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত ছিল ২৫ শতাংশ জনসাধারণ. ২০১২ সালে অনুপাত আরও ২ শতাংশ বেড়েছে. এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় প্রকাশিত দীর্ঘমেয়াদী আর্থ-সামাজিক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, যে ২০ বছর পরে রাশিয়ায় মধ্যবিত্তরা হবে জনসংখ্যার ৫২ শতাংশ. অবশ্যই ইতিবাচক পরিস্থিতিতে.

তবে এটাও বোঝা জরুরী, যে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সূচক কি, এবং কাদের এই শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য করা যেতে পারে – বলছেন হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের অধ্যাপক ইয়োসিফ দিসকিন.

সামাজিক সংজ্ঞা অনুসারে, এরা হল তারা, যাদের ভরনপোষণের সমস্যা নেই, তারা, যারা নিয়মিত দীর্ঘকাল ব্যবহারযোগ্য পণ্যদ্রব্য কিনতে পারে, আর সময়ে সময়ে নতুন গাড়ি – ব্যাখ্যা করে বলছেন বিশেষজ্ঞ. এই সামাজিক সূচকগুলি বহুলাংশে পরিসংখ্যানের সাথে মানানসই. সংখ্যাতত্ত্ববিদদের মতে, রাশিয়ায় মধ্যবিত্ত শ্রেণীর আয়ের নিম্নতম সীমা হচ্ছে মাথাপিছু মাসিক ৩০ হাজার রুবল, মানে মাসিক এক হাজার ডলারের কাছাকাছি. এই অঙ্ক এখনো ইউরোপীয় মানের তুলনায় অনেক নীচে.

গত এক দশক ধরে ব্রিক্সের সদস্য দেশগুলি – ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা সমাজে স্বচ্ছল নাগরিকদের অনুপাত বৃদ্ধির বাহবাযোগ্য হার প্রদর্শন করছে. মধ্যবিত্তের সংখ্যা বড় হারে বাড়ছে আরও ফিলিপাইন্সে, ইরানে, ভিয়েতনামে, ইন্দোনেশিয়ায়. একমাত্র মহাদেশ, যে মধ্যবিত্তদের বিজয়ের শোভাযাত্রায় দর্শকই থেকে গেল – সেটা আফ্রিকা. গোল্ডম্যান সাকসের মূল্যায়ণ অনুযায়ী, ২০৩০ সাল নাগাদ আফ্রিকা মহাদেশে বসবাস করবে বিশ্বের ৯০ শতাংশ দরিদ্র মানুষ.