মস্কোয় এখন চলছে ‘হিমালয়ের দুর্মূল্য সামগ্রী’ নামক প্রদর্শনী, যেখানে বুদ্ধদেবের ব্রোঞ্জের ভাস্কর্য, থানে অঙ্কিত বুদ্ধমূর্তি, যা বহু শতাব্দী আগে সৃষ্টি করা হয়েছিল ও এখনও হয়, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র, কাঠ ও ধাতু খোদাই করে সৃষ্টি করা শিল্পসামগ্রী – সবমিলিয়ে ৬০০ টিরও বেশি শিল্পদ্রব্য সেখানে প্রদর্শন করা হচ্ছে. প্রদর্শনীটির ব্যবস্থাপিকা স্ভেতলানা বিলিয়ায়েভা বলছেন, যে প্রদর্শনীটি ভ্রাম্যমাণ. এটা ইতিমধ্যেই রাশিয়ার পয়তাল্লিশটিরও বেশি শহর সফর করেছে. হাজার হাজার রুশবাসী প্রদর্শনীটি দেখতে এসেছিল. আট বছর পরে পরিবর্ধিত ও সম্প্রসারিত প্রদর্শনীটি মস্কোয় এসেছে, যেখানে জড়ো করা হয়েছে সত্যিকারের অমূল্য সব শিল্পসামগ্রী বিশ্বের বিভিন্ন বড় মিউজিয়াম ও ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা থেকে. সেগুলো সৃষ্টি করা হয়েছে ভারতবর্ষ, নেপাল, তিব্বত, মঙ্গোলিয়া ও বুরিয়াতিয়ার বিভিন্ন মঠে.-

সবচেয়ে প্রাচীণ ও অমূল্য সামগ্রীর মধ্যে আছে কাঁচের নীচে ক্যানভাসের উপর আঁকা মিনিয়েচার বুদ্ধমূর্তি, যা ধাতব ফ্রেমে বাঁধানো. সেগুলির বয়স ২০০ বছর. স্ভেতলানা বিলিয়ায়েভা বলছেন, যে একজন বৌদ্ধ লামা ঐগুলো উপহার দিয়েছেন প্রদর্শনীকে.

প্রদর্শিত বস্তুগুলির একাংশ প্রদর্শনীর সংগঠকরা উপহারস্বরুপ পেয়েছেন, অন্যান্যগুলি কেনা হয়ে থাকে নেপালে, ভারতে আধুনিক কারিগরদের কাছ থেকে. স্ভেতলানা বলে চলেছেন – ওখানে গিয়ে প্রত্যেকবার মুগ্ধ হয়ে যাই এমব্রয়ডারি, ধাতু, কাঠ খোদাইয়ের কাজের উত্কর্ষতা দেখে. এই সব হস্তশিল্পের ঐতিহ্য ও কানুন খুব সতর্কতার সঙ্গে পালন করা হয় হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলিতে. রাশিয়া থেকেও বৌদ্ধ শিল্প বিশেষজ্ঞরা ওখানে যায় শিক্ষা নিতে. তাদের শ্রেষ্ঠ সৃজনগুলোও প্রদর্শনীতে স্থান পেয়েছে.

রাশিয়ার যে সব অঞ্চলে বৌদ্ধ ধর্ম প্রচলিত আছে, সেই বুরিয়াতিয়া, কালমিকিয়া, আলতাইয়ের নবীন শিল্পীরা ঐ সব ঐতিহ্যের প্রতি ব্যবহারিক আগ্রহ প্রকাশ করে আর আমরা সর্বতোভাবে তাদের এই ক্ষেত্রে মদত যোগাই – বলছেন রাশিয়ায় বৌদ্ধসংঘের সভাপতি আলেক্সান্দর কাইবোগারোভ.-

নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে রাশিয়ার ১০ জন শিল্পী আমাদের এখানে এবং হিমালয় অঞ্চলের দেশগুলিতে শিল্পশিক্ষা গ্রহণ করেছে – বলছেন আলেক্সান্দর কাইবোগারোভ এবং হিমালয়ে শ্রদ্ধার পাত্র – বুদ্ধদেবের মূর্তি ও ভাস্কর্য সৃষ্টির জন্য পারদর্শিতা অর্জন করেছে. তাদের সৃষ্টি করা শিল্পদ্রব্যের উচ্চ মূল্যায়ণ করা হয়ে থাকে ভারতে, নেপালে, ভূটানে. আমাদের প্রদর্শনী দেখতে এসে ঐ সব দেশের লোকেরা স্বীকার করেন, যে রুশী কারিগররা সাফল্যের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলের কারিগরদের ঐতিহ্য রক্ষা করে যাচ্ছে.

মস্কোয় হিমালয়ের দুর্মূল্য সামগ্রী প্রদর্শনীর আওতায় আয়োজন করা হবে তিব্বতী চিকিত্সাবিদ্যা, যোগ ও উপজাতীয় নৃত্যের উপর মাস্টার-ক্লাসের. হিমালয় অঞ্চলের বিশেষজ্ঞরা ঐ সব ক্লাস পরিচালনা করবেন.

প্রদর্শনীটি প্রথম সপ্তাহেই দেখতে এসেছিল হাজার হাজার দর্শকঃ ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, অধ্যাপক, ব্যবহারিক শিল্পকর্মী ও থিয়েটারের মঞ্চশিল্পীরা. এপ্রিলের শেষে প্রদর্শনীটি যাত্রা করবে ভ্লাদিভস্তোক শহরে. আর জুলাই মাসে মস্কো থেকে ২০০ কি.মি. দূরে অবস্থিত কালুগা শহরে ‘হিমালয়ের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার’ নামক আন্তর্জাতিক সমাজসেবী সংস্থা আয়োজন করবে ‘ওরিয়েন্টাল’ নামে মঞ্চোত্সবের. ঐ উত্সবে রুশবাসীদের পরিচয় করানো চলতে থাকবে হিমালয় অঞ্চলের বেনজির সব রীতিনীতির সাথে. ভারতীয় উপ-মহাদেশের সেরা সেরা সব নৃত্যগীতের নমুনা সেখানে দর্শকদের সামনে পেশ করবে ভারত ও রাশিয়ার প্রথমসারির শিল্পগোষ্ঠীরা.