যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিশেষ কমিটি আচমকা এক সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। কমিটির সদস্যরা বলছেন, আগামী ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে ন্যাটের সৈন্যদের প্রত্যাহারের পর দেশটিতে গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই পেক্ষিতে ব্রিটেনের পর্যবেক্ষকরা এক প্রতিবেদনে আফগান সরকারকে যুদ্ধ এড়িয়ে যেতে অতিদ্রুত তালেবানদের সাথে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন। এ নিয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন রেডিও রাশিয়ার পর্যবেক্ষক পেটার গানচারোভ।

ভাল কথা, বিরোধী পক্ষের সাথে রাজনৈতিক আলোচনা করার উদ্দেশ্য দেরীতে হলেও লন্ডন বুঝতে পেরেছে। আফগান রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ২০০২ সালের শুরুতেই এ ধরণের সংলাপ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেছিলেন। কিন্তু আফগান সমস্যা সমাধানের প্রধান পরিচালক যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য তখন ওই প্রস্তাবে গুরুত্ব দেয় নি।

হয়তবা কারজাই আগেই এ ঘটনার আভাস পেয়েছিলেন। তবে এক দিকে তিনি ছিলেন পুরোপুরি সঠিক। তালেবানরা হচ্ছেন আফগান সমাজের একটি অংশ এবং সমাজে বিদ্যমান মতপার্থক্য শুধু আলোচনার মধ্য দিয়ে সমাধান করা সম্ভব। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য তখন এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারতো তাহলে অনেক আগেই তালেবানদের সাথে সংলাপ অনুষ্ঠিত হতো।

একমুখী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চলা ১০ বছর পরেও পশ্চিমা বিশ্বের এক অংশ এখনো কাবুলের যে কোন আহবানকে অবজ্ঞা করছে। আবারো সেই লন্ডন ও ওয়াশিংটন এতে প্রভাব খাটাচ্ছে। কাবুলের পিছন থেকে তালাবানদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। আর একই সময়ে তালেবানদের কাবুলে আলোচনার টেবিলে আনতে কারজাইকে আশ্বাস দিচ্ছে। এ সংক্রন্ত একটি সমযোতা চুক্তিও সই নাকি হয়েছে।

আর এটি হচ্ছে আশ্চর্যের ঘটনা। কাবুলে তালেবানদের আলোচনায় বসতে যতবার আহবান জানাচ্ছে, ঠিক ততোবারই তালেবানদের পক্ষ থেকে নেতিবাচক উত্তর আসছে। কাবুলকে দেয়া লন্ডনের এবারের প্রস্তাবে তালেবানরা কতোটা আনন্দিত হবে তা অনায়াসে ধারণা করা যাচ্ছে।

যে কোন বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতিতে আলোচনা অনুষ্ঠিত না হলে অবশেষে শক্তি প্রয়োগের মধ্য দিয়ে স্বার্থ উদ্ধারের চেষ্টা করা হয়। এমন পূর্বাভাষ দিয়েছেন সাবেক আফগান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেনারেল আবদুল হাদি জানান, চিত্রপট ঠিক এমন হবে। "যখন ন্যাটো জোটের সেনারা আফগানিস্তান ত্যাগ করবে ঠিক স্বভাবতই আফগান সরকার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়বে। সরকার সমাজের সমর্থন পাবে না। পরবর্তিতে আফগানিস্তানে নতুন যুদ্ধ শুরু সম্ভাবনা যথেষ্ট আকারে বাস্তবে রুপ নিবে। ওই পরিস্থিতিতে কে জিতবে?।মাদক পাচারকারীরা, সন্ত্রাসীরা। যা পুরো ওই অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করবে।"

তাহলে এই ঘটনার পরিপেক্ষিতে তালেবানরা কি সরকারে আসতে পারবে? ।

কোন ভাবেই না। যদি আন্তর্জাতিক কমিউনিটি সাহায্য বন্ধ করে দেয় তাহলে সরকার তালেবানদের সমর্থন নিয়ে কাজ করবে। আর সরকার কোন এক সময়ে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে। তবে একদমই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না যে, ওই সময়ে দেশে অপরাধ, মাদক পাচার ও আইনের শাসন দুর্বল হয়ে পড়বে। এসব কিছুই জনগনের জন্য অমঙ্গল বয়ে আনবে। যুদ্ধবিরতির কোন সম্ভাবনা তখন আর থাকবে না। বিদেশি সৈন্যদের অনুপস্থিতে তালেবানদের থাকবে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। জনগন তাদের কথা বুঝবে না।

জেনারেল যে চিত্রপটের ধারণা দিয়েছেন তা বর্তমান সরকারের জন্য ভাল সংবাদ বয়ে আনবে না। তার মতে, অন্যান্য ঘটনার সম্ভানাও রয়েছে। যে কোন পরিস্থিতিতে ঘটনা যেদিকে রুপ নেয় না কেন, যারা আফগানিস্তানে শান্তি চায় তাদের শুধু কাবুলকে চাপ দেয়া উচিত হবে না। যেহেতু কাবুলকে রাজনৈতিক সমস্যার সমাধানের জন্য তৈরী করা হয়েছিল ১০-১১ বছর আগে।