কোরিয় উপদ্বীপে পারদ চড়া, ইরানের পারমানবিক প্রকল্প ও সিরিয়ায় অনির্দিষ্টকাল ধরে চলতে থাকা সংঘাত ছিল লন্ডনে ‘বড় আটে’র অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আলোচনার মুখ্য বিষয়. কোরিয়া ও ইরানের প্রসঙ্গে সবপক্ষ বোঝাপড়া করতে পারলেও, সিরিয়ার ব্যাপারে তারা ঐক্যমতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন. তবে, সত্যি কথা বলতে কি, আলোচকদের এটা একেবারেই বিস্মিত করেনি.

বড় আটের মঞ্চে মার্কিনী বিদেশ সচিব জন কেরির সাথে সাক্ষাতের পরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ ঘোষণা করেছেন – একসারি আন্তর্জাতিক সমস্যার প্রতি রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গি সমভাবাপন্ন. যেমন, উত্তর কোরিয়ার রকেট প্রকল্পকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি. মস্কো ও ওয়াশিংটন কোরিয় উপদ্বীপে সংকটের শান্তিপূর্ণ মীমাংসার স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করছে.-

আমাদের অভিন্ন কর্তব্য হচ্ছে কোরিয় উপদ্বীপকে পারমানবিক শক্তিবিহীন করে তোলা, এই কর্তব্য সমাপণ করার কাজে কোনো কিছুকে বাধাস্বরুপ হয়ে দাঁড়াতে না দেওয়া. আর যতক্ষণ পর্যন্ত ছয়পক্ষীয় আলোচনা পুণরায় শুরু করার সুযোগ আছে, তার সদ্ব্যবহার করা আবশ্যক. যাই হোক না কেন, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিভিত্তিক রাজনৈতিক সমাধানের স্বপক্ষে.

রাশিয়া একনাগাড়ে বলে চলেছে, যে সমস্ত সমস্যার মীমাংসা করা দরকার আন্তর্জাতিক রফার মাধ্যমে. উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে এটা – জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণাপত্র. আর অন্য আগ্নেয় ভূমি – সিরিয়ার জন্য এটা হওয়া উচিত্ জেনেভা কম্যুনিকে. ঐ দলিলে লিপিবদ্ধ শর্তাবলী পূরণ করার জন্য রাশিয়ার কূটনীতিবিদরা সমানে বলে যাচ্ছেন. সের্গেই লাভরোভের কথায়, জন কেরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দ্বন্দরত পক্ষদের আলাপ-আলোচনার টেবিলে বসানোর কাজে সাহায্য করার.-

জন কেরি আশ্বাস দিয়েছেন, যে বিরোধীদের সাথে যোগাযোগের সময় সরকারী প্রতিনিধিদলের সাথে আলোচনার জন্য নিজস্ব প্রতিনিধিদল গঠণ করা তাদের কাছ থেকে আদায় করার চেষ্টা করবেন. আমরাও সেই চেষ্টা করছি. আমাদের উভয়পক্ষেরই দৃঢ় বিশ্বাস, যে বর্তমান পরিস্থিতি, যখন উভয় পক্ষই চূড়ান্ত জয় অর্জন করার জন্য বাজি ধরেছে – তা কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়.

লাভরোভ ও কেরির বৈঠকের পরে অনুষ্ঠিত জি-৮এর সদস্য দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাত্কারে ইরানের পারমানবিক প্রকল্প, উত্তর কোরিয়ার উদ্ধত আচরণ ও সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ ছিল মুখ্য আলোচ্য বিষয়. সিরিয়ার বিষয়ে কিন্তু ঐক্যমত অর্জন করা সম্ভব হয়নি. আলোচনার শেষে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলণে গ্রেট বৃটেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ বলেছেন – “উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে, কিন্তু তেমন অগ্রগতি অর্জন করা যায়নি”. তবে তার কথায়, এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই, কারণ প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সাক্ষাত্কার – এটা কেবলমাত্র ঘড়ির সময় মিলিয়ে নেওয়া মূল সমস্যাগুলির বিষয়ে. আর মুখ্য সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে জুন মাসে, যখন জি-৮এর শীর্ষবৈঠকে মিলিত হবেন রাষ্ট্রপ্রধানরা.

লন্ডনে মন্ত্রীদের বৈঠকে একটা আপাত সাফল্য অর্জিত হয়েছে – যুদ্ধরত অঞ্চলে যৌন অত্যাচার প্রতিরোধ সম্পর্কিত সম্মিলিত ঘোষণাপত্র গৃহীত হয়েছে.