ভারত রাশিয়ার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি ব্যবহার করবে জাতীয় সঙ্কট পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকাশের জন্য. এই লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়াতে বর্তমানে ভারতের এক প্রতিনিধি দল এসেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সুশীল কুমার শিন্ডের নেতৃত্বে. মন্ত্রী রাশিয়ার রাজধানীতে রাষ্ট্রীয় বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দপ্তরে গিয়েছিলেন.

ভারতীয় সহকর্মীরা আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার বিভিন্ন এলাকায় তৈরী করা আঞ্চলিক বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র গুলিকে নিয়ে, এই কথা উল্লেখ করেছেন রুশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এলেনা সেদীখ. তাঁরা লক্ষ্য করেছেন, কি করে সেখানে তাত্ক্ষণিক ভাবে তথ্য পৌঁছে যায় ও তা কি ভাবে ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে, যাতে উদ্ভূত সমস্যা গুলির সমাধান করা যায়. এই প্রসঙ্গে এলেনা সেদীখ আরও বলেছেন:

“ভারতের মন্ত্রী বিশেষ করে তাঁর মনোযোগ দিয়েছেন মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষণের বিষয়ে, যাতে রাশিয়ার নিজস্ব গ্লোনাসস উপগ্রহ সমষ্টি দিয়ে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা করা হয়েছে. মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষণের ফলে দ্রুত পরিবেশের পরিবর্তন লক্ষ্য করা সম্ভব হয়ে থাকে, সেই সব ব্যাপারের কতটা প্রাবল্য তা বোঝা যায়, আর সেই ব্যাপার গুলির সঙ্গে মানুষের ও মানব সৃষ্ট যান্ত্রিক ব্যবস্থার যোগাযোগ খেয়াল করা সম্ভব হয়ে থাকে. ভারতের বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে আগ্রহী হয়েছেন ভূমিকম্পের পরিস্থিতি লক্ষ্য করার ব্যবস্থা নিয়েও, আরও দেশের জলবাহী নদী নালার নিয়ন্ত্রণ ও দাবানল হওয়ার মতো বিপজ্জনক বিষয় এবং ধ্বস নামার মতো জায়গা গুলি লক্ষ্য করার ব্যবস্থা নিয়ে”.

রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছে. এই কথা প্রমাণ হয়েছে সেই জটিল পরিস্থিতিতে, যা হয়েছে এই বছরের শীত কালেই. মহাকাশ থেকে পাওয়া তথ্যের সুবাদে ত্রাণ কর্মীরা একাধিকবার দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের সহায়তার জন্য পৌঁছতে পেরেছেন, তাঁদের বরফের ধ্বস থেকে উদ্ধার করেছেন, গাড়ী ইত্যাদিও রক্ষা করতে পেরেছেন. আর এখন, যখন বসন্তের সমাগমে বরফ গলতে শুরু করেছে, তখন মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা লোকজনকে বন্যার হাত থেকে উদ্ধার করেছেন.

রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় ও ভারতের সহযোগিতা আজ বছর দশেকের বেশী সময় ধরেই চলছে. ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা একাধিক বার এসেছেন আমাদের কাছে অভিজ্ঞতা অনুধাবন করার জন্য, এই কথা উল্লেখ করে এলেনা সেদীখ বলেছেন:

“বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের কর্মীরা বহুবার ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ভূমিকম্পের পরে ত্রাণ কার্যে অংশ নিয়েছেন. ভারতীয়দের মন্তব্য অনুযায়ী তাঁরা সেই সব ক্ষেত্রে বিস্ময়কর আত্মত্যাগের নিদর্শন রেখেছেন, নিজেদের উঁচু মানের পেশাদার মনোভাব দেখিয়েছেন ২০০১ সালে গুজরাত রাজ্যে বিধ্বংসী ভূমিকম্পের সময়ে. বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় একাধিকবার ভারতের কাশ্মীরে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী পাঠিয়েছে. পরবর্তী সময়ে পারস্পরিক সহযোগিতা বিকাশের উদ্দেশ্য নিয়ে রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয় ও ভারতের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক পরিষদ গঠনের সিদ্ধান্ত স্বাক্ষরিত হয়েছে মস্কোতে”.

বিপর্যয় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রুশ-ভারত পরিষদ তৈরীর সিদ্ধান্ত – একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা প্রাকৃতিক ও মানুষের করা বিপর্যয় নিয়ে একে অপরকে সময়মতো জানানোর জন্য করা হয়েছে. রাশিয়ার বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের প্রধান ভ্লাদিমির পুচকভ ভারতীয় সহকর্মীদের প্রস্তাব করেছেন এক সঙ্গে মহাকাশ থেকে পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা আরও ভাল করে তৈরী করার জন্য কাজ করার, বিপর্যয়ের পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে, তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা ও পূর্বাভাসের ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করার.