আঞ্চলিক বিরোধ গুলি রাজনৈতিক- কূটনৈতিক পথেই মীমাংসা করা প্রয়োজন. অর্থনৈতিক ভাবে বৃহত্ অষ্ট দেশের পররাষ্ট্র প্রধানদের পক্ষে সম্ভব হয়েছে আন্তর্জাতিক সমস্যা গুলির সমাধান নিয়ে সম্মিলিত অবস্থান গ্রহণ করার. লন্ডনে এই জি৮ পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে.

ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি ও সিরিয়া – বৈঠকের আলোচ্য তালিকায় সবচেয়ে তীক্ষ্ণ বিষয় ছিল. আলাদা করে এই সব সমস্যা নিয়ে কোনও ঘোষণা করা হয় নি, বৃহত্ অষ্ট দেশের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে একটি সম্মিলিত ঘোষণা গ্রহণ করেছেন. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের মতে পারস্পরিক বোঝাপড়া করা সঙ্গে সঙ্গেই সম্ভব হয়ে ওঠে নি, তাই তিনি বলেছেন:

“প্রথম থেকেই অবস্থানের পার্থক্য ছিল অনেকটাই, কিন্তু সাধারণ বোধ ও শুভ ইচ্ছা সেই বিষয়েই নিয়ে এসেছে, যে সকলের সম্মিলিত অবস্থান তৈরী করা সম্ভব হয়েছে. প্রয়োজন হল রাজনৈতিক-কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা, কাউকেই একঘরে না করে – সেটা যেমন আফ্রিকার বিরোধের ক্ষেত্রে, তেমনই সিরিয়ার ক্ষেত্রেও. যাতে যেখানেই সঙ্কট পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে, সেই রকমের সমস্ত রাষ্ট্রের সমস্যাই দেশের নাগরিকরাই সমাধান করতে পারেন, তাদের জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমেই”.

গৃহীত ঘোষণায় লেখা হয়েছে যে, বৃহত্ অষ্ট দেশ মনে করে যে, সিরিয়া সমস্যা শুধু আলোচনার মাধ্যমেই নিরসন করা সম্ভব. এতে এই দেশের নাগরিকদের নিজেদেরই পৌঁছতে হবে, আর তা করতে হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি লাখদার ব্রাহিমির সহায়তার মাধ্যমেই. জি৮ এর সদস্যরা আরও মনে করে যে, দেশে হিংসার কারণে হওয়া সমস্ত অপরাধের খতিয়ান রাখা দরকার.

উত্তর কোরিয়াকে আবারও পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানরা কড়া সমালোচনা করেছেন ও আহ্বান করেছেন, তাদের রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া সিদ্ধান্ত পালন করে পারমানবিক পরীক্ষা ও রকেট উড়ান থেকে বিরত হতে. যদি জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া পক্ষ থেকে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা ও ব্যালিস্টিক রকেট উড়ান আরও করা হয়, তবে তাদের প্রতি আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা নেওয়া হবে.

আঞ্চলিক বিরোধ গুলি – স্রেফ একটি আলোচ্য বিষয়. ঐতিহ্য মেনেই বৃহত্ অষ্ট দেশের বৈঠকে কথা হয়ে থাকে গণহত্যার অস্ত্র প্রসার সমস্যা নিয়ে, সন্ত্রাসের মোকাবিলা নিয়ে ও মাদক উত্পাদন নিয়েও. রাশিয়ার এই সব সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

“এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল যে, আমাদের উদ্যোগে ও ফ্রান্সের সমর্থনে জি৮ মনোযোগ মাদক পাচারের সমস্যা, যা আসলে রোগের উপসর্গ মাত্র, তার থেকে সরিয়ে নিয়ে মাদক উত্পাদনের প্রতি দিয়েছে – যা আসলেই এই সমস্যার মূল কারণ”.

এই বছরে গ্রেট ব্রিটেন জি৮ এর সভাপতি হিসাবে সামরিক বিরোধের সময়ে যৌন অত্যাচারকে একটি প্রাথমিক সমস্যা বলে নাম দিয়েছে. রাশিয়াও এই সমস্যাকে বাস্তব বলে মনে করেছে, কিন্তু আরও ভাবে যে, এর দিকে প্রসারিত ভাবে নজর দেওয়া দরকার, এই কথাও উল্লেখ করে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

“যে কোনও ধরনের বিরোধ – এটা মানুষের সবচেয়ে প্রধান অধিকার অর্থাত্ জীবনের অধিকারের উপরেই আক্রমণ. অন্য সব কিছুও গুরুত্বপূর্ণ – কিন্তু এটা সবচেয়ে আগে. বিরোধের সময়ে প্রাথমিক ভাবে সাধারণ লোকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন, একটা মাত্স্যন্যায় শুরু হয়, যাতে সন্ত্রাসবাদীরাই লাভবান হয়ে থাকে. আমরা এটাই প্রত্যেকদিন দেখতে পাচ্ছি উত্তর আফ্রিকায়, যেখানে নির্বিচারে শক্তি ও অস্ত্র প্রয়োগ করা হচ্ছে. আফগানিস্তানে, যেমন পাইলট বিহীণ বিমান দিয়ে সন্ত্রাসবাদীদের উপরে বোমা ফেলা হচ্ছে, কিন্তু তাতে মারা যাচ্ছে একেবারেই নির্দোষ লোকজন”.

জি৮ শীর্ষ সম্মেলন প্রস্তুতির আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক একটি প্রধান অধ্যায় আর তাতে যা আলোচনা হবে, তারও তালিকা নির্ণয়ের অধ্যায়. এই বছরে ১৭-১৮ই জুন জি৮ শীর্ষ বৈঠক হবে উত্তর আয়ারল্যান্ডে.