সেই দিনের পর থেকে, যখন সারা বিশ্ব জেনেছিল যে, রাশিয়ার বিমান চালক ইউরি গাগারিন মহাকাশে উড়ে গিয়েছেন, বাহান্ন বছর কেটে গিয়েছে. আর শুধু এখন রাশিয়াতে একটি চলচ্চিত্র তোলা হয়েছে, গাগারিনের জীবনের উপরে ভিত্তি করে. আজ ১২ই এপ্রিল – মহাকাশ বিজ্ঞান দিবস – মস্কো শহরে “গাগারিন. মহাকাশে প্রথম” নামের চলচ্চিত্র আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম দেখানো হয়েছে.

এই ছায়াছবির গল্প এক দিনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ. এখানে কথা হচ্ছে সেই ১২ই এপ্রিল ১৯৬১ সালের সেই ঐতিহ্যবাহী দিনটির, যখন মহাকাশে সম্ভব হয়েছিল গাগারিনের ১০৮ মিনিট সময়ের উড়ান. এই সিনেমা তৈরী করা হয়েছে বিশ্বের প্রথম মহাকাশচারীর চিন্তা ও দুশ্চিন্তার উপরেই ভিত্তি করে: গাগারিন এখানে যেন মনে করেছেন তাঁর অতীত স্মৃতি, চিন্তা করেছেন ভবিষ্যত নিয়ে – এই ভাবেই দর্শকদের সামনে তুলে ধারা হয়েছে তাঁর সারা জীবন.

এই সিনেমা তোলার ধারণা হলিউডে কাজ করার সময়ে সৃষ্টি হয়েছিল ওলেগ কোপানিত্স নামে চলচ্চিত্রটির প্রযোজকের. আর তার কারণ ছিল খুবই ন্যায্য ধরনের বিরক্তির, তাই কোপানিত্স বলেছেন:

“অন্তত পক্ষে বিদেশে – আর বিশেষ করে আমেরিকাতে মনে করা হয় যে, মহাকাশে প্রথমে গিয়েছেন এক আমেরিকার লোক! আসলে এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা. আর আমাদের কাজ হল – মনে করিয়ে দেওয়া যে, আসলে কে প্রথমে মহাকাশে গিয়েছিলেন”.

এই সিনেমা তোলার কাজ করতে সময় লেগেছে পাঁচ বছরের ওপরে. প্রাথমিক ভাবে এই সিনেমা যাঁরা তৈরী করেছেন, তাঁরা সম্মতি পেয়েছেন গাগারিনের বিধবা স্ত্রী ও তাঁর মেয়েদের কাছ থেকে. তাঁদের সঙ্গে চিত্রনাট্য ও যা তোলা হয়েছে সব দেখিয়ে সম্মতি পেতে হয়েছে. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার, কারণ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রতিবাদের কারণেই এর আগে গাগারিনকে নিয়ে বেশ কয়েকটি সিনেমা তোলার উদ্যোগ বন্ধ করতে হয়েছিল. বিশেষ কিছু পরিবারের পক্ষ থেকে চাওয়া হয় নি. তাঁরা স্রেফ চেয়েছিলেন যাতে আসল ঘটনা যেন বিকৃত না করা হয়, সমস্ত কিছুই সেই ভাবে বলতে, আদতে যা হয়েছিল, আর এটাই ঠিক আমরা করতে চেয়েছি,- জোর দিয়ে বলেছেন এই চলচ্চিত্রের পরিচালক পারখোমেনকো. সিনেমা যাঁরা তুলেছেন, তাঁরা নিজেদের সামনে একটা দায়িত্ব উপস্থিত করতে পেরেছিলেন: কোন রকমের প্রতীকী চরিত্র সৃষ্টি করা নয়, কোন চাকচিক্য বর্ণ বাহুল্য নয়. বরং এক জীবন্ত মানুষকেই দেখানো, যিনি স্বপ্ন দেখেছেন, ভাল বেসেছেন, দুশ্চিন্তাও করেছেন. গাগারিন ও তাঁর বন্ধুরা, তাঁরাই যে প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রথম মহাকাশ যাত্রা বাহিনীর সদস্যরা. গাগারিন ও তাঁর স্ত্রী ভালেন্তিনা. গাগারিন ও মহাকাশযানের স্রষ্টা করলিয়েভ, যিনি পাইলট চালিত মহাকাশ যান ভস্তক নির্মাণ করেছিলেন ও যেটায় চড়ে মানুষের নক্ষত্রের দিকে বাধা অতিক্রম করে বের হওয়া সম্ভব হয়েছিল. গাগারিন ও খ্যাতি. গাগারিন ও মহাকাশ... এই সবই রয়েছে এই সিনেমায়. এক সাধারণ যুবক একেবারে মহা বিশ্ব মাপের বীরে পরিণত হয়েছিল, - উল্লেখ করেছেন মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করা ইয়ারোস্লাভ ঝালনিন, যিনি ইউরি গাগারিনের সঙ্গে দারুণ রকমের একই রকম দেখতে, তিনি বলেছেন:

“আমি একজন অভিনেতা হিসাবে নিজেই ব্যাখ্যা করতে চেয়েছি – কেন তিনি প্রথম হতে পেরেছিলেন. কেন শুধু তিনিই – প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর মধ্য থেকে – একা, যিনি উড়ে গিয়েছিলেন সেই দিকে, মহাকাশে? তাঁর কোনও বিরল শারীরিক ক্ষমতা ছিল না. কিন্তু তাঁর এমন গুণ ছিল, যা তাঁকে সম্ভব করতে দিয়েছিল সবরকমের বাধা অতিক্রম করার!...”

১০৮ মিনিটের উড়ান: আনন্দ, বিজয় আবার একই সময়ে বিশাল ঝুঁকি. কারণ মাত্র কয়েকদিন আগেই জানতে পারা গিয়েছে যে, গাগারিনের পৃথিবীতে ফিরে আসার সম্ভাবনা মনে করা হয়েছিল আধাআধি. এই উড়ানের সময়ে সত্যই কিছু মুহূর্ত ছিল, যখন ইউরি গাগারিন মারা যেতেই পারতেন.আর এই মুহূর্ত গুলিও সেই ভাবেই সিনেমায় দেখানো হয়েছে: বিশেষ রকমের কায়দা দিয়ে দর্শককে এর সম্পূর্ণ গুরুত্ব টের পাওয়ান হয়েছে...