রকেট পরিবাহক ‘আর-৭’ অর্ধশতাব্দীরও বেশিকাল ধরে রাশিয়ার মহাকাশশিল্পের সেবায় নিয়োজিত. ঐগুলো ১৯৫৭ সালে পৃথিবীর প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহকে মহাকাশে পৌঁছে দিয়েছিল এবং প্রথম মহাকাশচারী ইউরি গাগারিনকেও.

প্রথমে ‘আর-৭’ নির্মাণ করা হয়েছিল ব্যালিস্টিক হিসাবে, যা পৃথিবীর যেকোনো বিন্দুতে পারমানবিক আঘাত হানতে সক্ষম ছিল. কিন্তু দেখা গেল, যে ওর প্রযুক্তিগত ক্ষমতা প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি এবং ‘আর-৭’ সোভিয়েত মহাকাশশিল্পের চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়ালো – বলছেন ‘মহাকাশবিদ্যার খবর’ নামক পত্রিকার মুখ্য সম্পাদক ইগর মারিনিনঃ

‘আর-৭’ প্রজাতির রকেট স্বদেশী মহাকাশশিল্পে বিশাল ভূমিকা পালন করেছে. ব্যাপারটা হচ্ছে এই, যে যখন প্রথম দুটি ধাপের মোটর পৃথিবীর আয়ততেই চালু হয়, সেটা সেই সময়ে এতটাই অগ্রণী ছিল, যে আমেরিকা সহ যে সব দেশ তখন মহাকাশ নিয়ে চর্চা করতো, তা ছিল তাদের নাগালের বাইরে. স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি, যে আমাদের পাঠানো প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহটির ওজন ছিল ৮৩ কিলোগ্রাম. আমেরিকা তার ছয়মাস পরে প্রথম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছিল, যার ওজন ছিল মাত্র ৮ কেজি. উপরন্তু আমাদের রকেট আমেরিকার রকেটের তুলনায় বেশি নির্ভরযোগ্য ছিল.

বোধহয় বাড়িয়ে বলা হবে না, যদি বলি, যে ‘আর-৭’এর প্রযুক্তি ছিল সোভিয়েত মহাকাশশিল্পের জনক সের্গেই কারালোভের এক অত্যন্ত প্রতিভাদীপ্ত উদ্ভাবন. গোটা ইতিহাসে প্রায় দুহাজার নিক্ষেপণের মধ্যে শুধুমাত্র কয়েকটা দুর্ঘটনায় পড়েছিল, যা নির্ভরযোগ্যতার মোক্ষম নিদর্শণ. মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্রের উপাধ্যক্ষ ভিচেস্লাভ রোদিন বলছেন, যে যেকোনো অভূতপূর্ব মানব সৃজনের মতোই এই রকেটের ব্যবহার ও উত্পাদন পদ্ধতি অত্যন্ত সরল.-

এখানে একসঙ্গে যোগ হয়েছে মোটরের সফল প্রযুক্তি, প্রাকৃতিক দিক থেকে বিশুদ্ধ কলকব্জা ও সরল উত্পাদন প্রক্রিয়া. কেন কালাশনিকভ অটোম্যাটিক রাইফেল সারা বিশ্বে এত জনপ্রিয়? কারণ সেটা অত্যন্ত সাদাসিধে. ওটা বানানোও সহজ, ব্যবহার করাও সহজ.

এই সব উত্কর্ষতা ‘আর-৭’কে সেকেলে হতে দেয়নি – বলেন বিশেষজ্ঞরা. ইগর মারিনিন উল্লেখ করছেন, যে নতুন প্রজন্মের রকেট-পরিবাহকের উদ্ভাবন এখনো দূরাস্ত, তাই পরিবর্ধিত ‘আর-৭’ রকেট এখনো বহুকাল রুশী ও বিদেশী মহাকাশশিল্পের চালিকাশক্তির ভূমিকায় থাকবে.-

এই প্রজাতির রকেটের স্থান আগামী ৫০ বছরে পূরণ যে হবে না, সেটা লিখে দেওয়া যায়. ‘আর-৭’এরই বিভিন্ন মডেল উড়বে. ইউরোপীয় মহাকাশ এজেন্সীর বরাতে, ফরাসী গিনিতে ঐ রকেট নিক্ষেপণকেন্দ্র গড়া তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ. উপরন্তু বর্তমানে আমাদের দূর প্রাচ্যে আমুর জেলায় ‘ভস্তোচনি’ মহাজাগতিক বন্দরেও আর-৭ নিক্ষেপণকেন্দ্র গড়ার কাজ চলছে.

বর্তমানে ‘আর-৭’এর নতুন মডেল ‘সয়ুজ-২১আ’ এর নিরীক্ষা করা হচ্ছে সাফল্যের সঙ্গে. অদূর ভবিষ্যতে তা সয়ুজ-উ এর পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেসনে মালপত্র পৌঁছে দেওয়ার জন্য মালবাহী মহাকাশযানকে কক্ষপথে পৌঁছে দেবে. ‘সয়ুজ-২১বে’রও নিরীক্ষা চলছে. তার মালবহন ক্ষমতা প্রায় ১ টন এবং খুব সম্ভবতঃ তাকে পাইলটচালিত উড়ানের জন্যও সার্টিফিকেট দেওয়া হবে.