রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার কাছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষণাপত্র মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে. লন্ডনে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ এবং মার্কিনী বিদেশ সচিব জন কেরির সাক্ষাত্কারে মুখ্য আলোচ্য বিষয়ই ছিল কোরিয় উপদ্বীপে উদ্ভূত উত্তপ্ত পরিস্থিতি. লাভরোভ কেরিকে বলেছেন, যে উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার সম্ভাবনা এখনো আছে.

জি-৮এর সদস্য দেশগুলির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাক্ষাত্কারের মঞ্চে তাদের বৈঠক হয়েছে. বৈঠকের পরে সের্গেই লাভরোভ বলেছেনঃ

আমাদের অবস্থান অভিন্ন – জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ঘোষনাপত্র মেনে চলতে হবে. অন্যদিকে কোনো পক্ষের তরফ থেকেই কৃত্রিমভাবে উত্তেজনার পারদ চড়ানো মেনে নেওয়া যায় না. আমাদের অভিন্ন কর্তব্য – কোরিয় উপদ্বীপকে পারমানবিক শক্তিবিহীন করে তোলা. যতক্ষণ পর্যন্ত ছয়পাক্ষিক আলাপ-আলোচনা পুণরায় শুরু করার সুযোগ আছে, তার সদ্ব্যবহার করা দরকার. যাই হোক, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই পরিস্থিতির কূটনীতিগত রাজনৈতিক সমাধানের স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করছে.

মস্কো পাশাপাশি ছয়পক্ষের অন্যান্য দেশঃ উত্তর কোরিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গেও রুদ্ধদ্বার কক্ষে শলা-পরামর্শ করছে পৃথকভাবে.

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঘোষনা করেছেন, যে উত্তর কোরিয়া রকেট নিক্ষেপনের প্ল্যাটফর্মটিকে আকাশমুখী করেছে. তবে জ্বালানী ভরার প্রক্রিয়া এখনো বোধহয় সম্পন্ন হয়নি. সুতরাং সি-এন-এন প্রচারিত খবর, যে রকেট নিক্ষেপের জন্য প্রস্তুত – বোধহয় ঠিক নয়.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী চাক হেইগল উত্তর কোরিয়াকে এই বলে সতর্ক করে দিয়েছেন, যে প্ররোচনা চালিয়ে যেতে থেকে তারা বিপজ্জনক সীমারেখা প্রায় লঙ্ঘন করতে চলেছে. এদিকে রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির দুরপ্রাচ্য বিশারদ কনস্তান্তিন আসমোলভের মতে, কোরিয় উপদ্বীপের আগ্নেয় পরিস্থিতিকে বিস্ফারিত করতে পারে দক্ষিণ কোরিয়ারও খেয়ালী আচরণ.-

প্ররোচনার সবচেয়ে সম্ভাব্য উদ্যোক্তা ততখানি উত্তর কোরিয়া নয় – তার জন্য ছোট সংঘাতকে বড় সংঘাতে পরিণত করা বড্ড বেশি বিপজ্জনক, যতখানি দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু মহল. দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রনেত্রী পাক কীন হে পিয়ংইয়ংয়ের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আস্থা ফিরিয়ে আনতে চাইলেও, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি লি মেন বাকের অনুগামীর সংখ্যা প্রচুর, বিশেষতঃ সেনাবাহিনীতে. উপরন্তু নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি পার্লামেন্টে গোলোযোগের কারণে নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে নিযুক্ত করতে পারছেন না.

১৫ই এপ্রিল উত্তর কোরিয়ায় উদযাপিত হবে রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠাতা কিম ইর সেনের ১০১-তম জন্মজয়ন্তী. বিশেষজ্ঞরা আঁচ করছেন, যে ঠিক ঐ দিনই মাঝারিপাল্লার ‘মুসুদান’ রকেট পরীক্ষামুলক ভাবে নিক্ষেপ করা হবে. যদি তা ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়, তাহলে বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক রকেট ছোঁড়া হতে পারে.