রাশিয়ার উরাল পর্ব্বতমালার দক্ষিণে উল্কা পাত হওয়া চেলিয়াবিনস্ক শহরে এক বিরল পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে. স্থানীয় বিস্ফোরণ নিরাপত্তা পরিষেবার দপ্তরে এই বছরের শুরুতে এক অসাধারণ কর্মী যোগ দিয়েছে – এক মাইন বিশেষজ্ঞ, যার নাম মার্তা. কিন্তু এই কর্মী মানুষ নয়, সেটা আসলে একটা ছুঁচো, যেটা বিস্ফোরক খুঁজে বার করতে পারে.

ছুঁচো থেকে মাইন বিশেষজ্ঞ বানানোর ধারণা চেলিয়াবিনস্কের বিশেষজ্ঞরা ধার করেছেন লিবিয়া, তাঞ্জানিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশ গুলি থেকে. সেখানে মাইন পোঁতা মাঠে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া ছুঁচো ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে মাইন খুঁজে পাওয়া যেতে পারে. ছুঁচোর স্বল্প ওজনের জন্য মাইনের উপরে থাকলেও তা বিস্ফোরিত হয় না. আর খুঁজে পাওয়া বিপজ্জনক মাইন বিশেষজ্ঞরা তার পরে হয় নষ্ট করে দেন, নয়তো বিশেষ পতাকা লাগিয়ে চিহ্নিত করে দেন.

উরালের এই মার্তা নামের ছুঁচো এখন মাইন খোঁজা কুকুরদের যেমন করে শেখানো হয়, সেই রকমের পদ্ধতিতে তৈরী হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে চেলিয়াবিনস্ক শহরের বিস্ফোরক নিরাপত্তা পরিষেবার প্রধান ইগর গামভ বলেছেন:

“আমরা একটা বাক্সে বিস্ফোরক ডাইনামাইটের নকল রাখি. তার সঙ্গেই রাখা থাকে খাবার. এটা প্রাথমিক প্রস্তুতির অধ্যায়”.

যারা জন্তু জানোয়ারদের পোষ মানিয়ে থাকেন, তাদের কাছে এই পদ্ধতির নাম খাবারের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া. ছুঁচো এই ভাবেই বিস্ফোরকের গন্ধ মনে রাখে. যখন পরের বারে সেই গন্ধ কোথাও পায়, তখন তার চারপাশ জুড়ে ঘুরতে থাকে অথবা নিজের পিছনের পায়ের উপরে উঠে দাঁড়িয়ে খাবার চাইতে থাকে. কুকুর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, ইঁদুর ছুঁচো এই সব জীব কুকুরদের চেয়ে অনেক বেশী বুঝতে পারে, আর তাদের গন্ধ চেনার ক্ষমতাও অনেক গুণ বেশী. গড়ে একটা কুকুরকে মাইন চেনা শেখাতে এক বছর সময় লাগে. আর ছুঁচোর জন্য যথেষ্ট চার মাস সময়.

এখন এই মার্তা নামের ছুঁচোর বয়স এক বছর দুই মাস. খুবই বুদ্ধিমতি আর সহজেই শিখে নিতে পারছে. যদিও তার শেখার সময় শেষ হবে গরমের আগেই, তাও এখনই তাকে বলা যেতে পারে সত্যিকারের কর্মী. ছোট্ট এই গোয়েন্দা খুব সহজেই বিস্ফোরক খুঁজে ফেলতে পারছে আর এমনকি সেই সব জায়গায় যেতে পারছে, যেখানে একটা কুকুরও যেতে পারে না.

চেলিয়াবিনস্কের মার্তা অবশ্য কোনও মাইন পোঁতা মাঠে খুঁজতে যাবে না. তবুও তার কাজ কিছু কম দায়িত্বপূর্ণ নয়. ইগর গামভ যেমন বলেছেন যে, ছুঁচো এই কারণেই দরকার যে, বড় শপিং মল, ষ্টেডিয়াম, কনসার্ট হল ইত্যাদিতে বিস্ফোরক রাখা হয়েছে কি না পরীক্ষার জন্য দরকার পড়বে, অর্থাত্ সেই সব জায়গায়, যেখানে সব সময়েই অনেক লোক থাকেন. মার্তা খুঁজবে সেই সব জায়গায়, যেখানে একটা কুকুরও পৌঁছতে পারবে না. এই গুলো হল হাওয়া চলাচলের জন্য, গরম জলের জন্য পাইপের গর্তে.

চেলিয়াবিনস্কের মাইন বিশেষজ্ঞরা স্বীকার করেছেন যে, মার্তা এখনই অনেক ক্ষেত্রে তার সহকর্মী কুকুর গুলিকে ছাড়িয়ে গিয়েছে, তাই সেই কুকুর গুলো এখন তাদের কর্তা ও এই ছোট্ট প্রতিবেশীকে হিংসা করতে শুরু করেছে. আর যদি এই রকমের অভূতপূর্ব পরীক্ষা সফল হয়, তবে বিশেষজ্ঞরা ঠিক করেছেন যে, তাঁরা একটা দলই তৈরী করবেন এই রকমের ছুঁচো দিয়ে.

রাশিয়ার ত্রাণ কর্মীরাও ছুঁচো ব্যবহারের কথা ভাবছেন. তাঁরা ছুঁচোকে শেখাতে চাইছেন ধ্বংস স্তূপের নীচে মানুষ খুঁজে বার করা. সুতরাং খুব শীঘ্রই এই রকমের সব খারাপ জিনিষ বওয়া ইঁদুর আর ছুঁচো মানুষের সত্যিকারের সহায়ক হয়ে দাঁড়াবে, আর সম্ভবতঃ, তাদের মধ্যে বীর পদক পাওয়ার উপযুক্তও দেখতে পাওয়া যাবে.