রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তকে খোলাখুলি ও চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ভঙ্গ করা মেনে নেওয়া হবে না. এই নিয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. তিনি এই ভাবেই উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে নতুন করে পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা ও তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করার ইচ্ছা প্রসঙ্গে মত দিয়েছেন. মস্কো পর্যায়ক্রম মেনেই কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চাইছে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী.

সের্গেই লাভরভ উত্তর কোরিয়ার সমস্যা সমাধানের বিষয়ে রাশিয়ার সক্রিয়তার অভাব নিয়ে যে খবর রটানো হয়েছে তার অবসান করেছেন. মস্কো শান্ত ও জনসমক্ষে অনুপস্থিতি কূটনীতির স্বপক্ষে, যা কার্যক্ষেত্রে করা হচ্ছে উত্তর কোরিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে. আর তারই সঙ্গে খুব ঘনিষ্ঠভাবে নিজেদের কাজকর্ম প্রতিবেশী চিনের সঙ্গে যোগাযোগের মধ্যেই রেখে, এই বলে পরিস্থিতি স্বচ্ছ করে বলেছেন সের্গেই লাভরভ.

রাশিয়া ও চিনের অবস্থান কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা বহন করে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন হোয়াইট হাউসের সরকারি প্রতিনিধি জো কার্নি. ওয়াশিংটনে, অংশতঃ, আশা করা হয়েছে যে, মস্কো ও বেজিং নিজেদের অতুলনীয় প্রভাব পিয়ংইয়ং এর উপরে ব্যবহার করবে, যাতে এই পরিস্থিতির বিকাশ সবচেয়ে খারাপ ঘটনা পরম্পরা অনুযায়ী না হয়. সিওল নিজেদের পক্ষ থেকে চিন ও রাশিয়ার কাছে অনুরোধ করেছে উত্তর কোরিয়াকে শান্ত করার জন্য.

কোরিয়ার উপদ্বীপ এলাকায় আপাততঃ একটা মানসিক যুদ্ধ চলছে, তা শুধু তীক্ষ্ণই হচ্ছে. পিয়ংইয়ং চেষ্টা করছে বিশ্বকে ভয় দেখানোর, যে এই বুঝি যুদ্ধ শুরু হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্ররোচনা মূলক কাজের উত্তরে. এটা একটা জেনে বুঝে মিথ্যা বলা নাকি সত্যিকারের বিপদ? এই প্রসঙ্গে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের কোরিয়া সংক্রান্ত গবেষণা প্রকল্পের ডিরেক্টর গিওর্গি তলোরায় মত দিয়ে বলেছেন:

“দুটি পরস্পর বিরোধী পক্ষের মধ্যে বড় মাপের কোনও সংঘর্ষের মতো কোনও যুদ্ধ মনে তো হয় না যে সম্ভব হতে পারে. কিম চেন ঈন খুব ভাল করেই বুঝতে পারেন যে, এটা তাঁর প্রশাসনের জন্য শুধু একটা শেষ দিনই হবে না, বরং সমগ্র উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্র এই রকমের তাহলে আর থাকবে না. আর অবশ্যই, এটা করতে যাবেন না. বড় মাপের চারদিক জুড়ে কোনও বিরোধে মার্কিন বা দক্ষিণ কোরিয়ার লোকরাও এখন যেতে চাইবেন না প্রথমতঃ, এটা খুবই বড় রকমের ক্ষতি হবে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য. আর দ্বিতীয়তঃ, এই বিরোধে কি বিশেষ অর্থ থাকতে পারে? বড় মাপের সংঘর্ষের জন্য পক্ষরা এখন তৈরী নয়”.

পিয়ংইয়ং থেকে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে ভয় দেখানোর মত কথার ধরণ. আর দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সামরিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি. এই ব্যাপারে উত্তর কোরিয়া ঘোর বিশ্বাস করে যে, তাদের প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের কোরিয়া গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার ভরোনত্সভ বলেছেন:

“প্রত্যেক পক্ষই নিজেদের কাজকর্মকে মনে করেছে প্রতিরক্ষা মূলক বলেই, যে গুলি এই লক্ষ্যেই করা হয়েছে, যাতে সম্ভাব্য আগ্রাসন বন্ধ করা যায়. কিন্তু মনে রাখা উচিত্ হবে যে, অন্য পক্ষ এটা অন্য ভাবেও নিতে পারে. এই যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, এখন আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইলের পরীক্ষা করা হবে না, সেটা নিশ্চয় করেই সঠিক দিকে. এটা উপযুক্ত ভাবেই মূল্যায়ণ করা হয়েছে, তার মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকেও, ভ্লাদিমির পুতিন এটা নিয়ে হ্যানোভার শহরে নিজের বক্তৃতায় বলেছেন. এটা কোন সন্দেহ নেই যে, একটা বাস্তব সঙ্কেত, যা করা হয়েছে সেই দিকে যাতে দেখানো যায় যে, আমরা ধৈর্য প্রদর্শন করতে প্রস্তুত. তাই সেই দিকেই আমরা চাই যে, এই বিরোধের সমস্ত পক্ষই যেন কাজকর্ম করে”.

এরই মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়ার উত্স থেকে ১০ই এপ্রিল জানানো হয়েছে যে, জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া “যে কোনও মুহূর্তে” ব্যালিস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করার জন্য তৈরী. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা দপ্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী তারা পূর্ব উপকূল এলাকায় এই ধরনের মিসাইল নিয়ে চলমান প্ল্যাটফর্মের উপরে বসিয়েছে ও জ্বালানী ভর্তি করে ফেলেছে. এর উড়ানের ক্ষমতা সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত. অর্থাত্ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এলাকা তা পৌঁছতে সক্ষম হবে না.

পেন্টাগন এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা তৈরী রয়েছে যে কোন ধরনের উত্তর কোরিয়ার রকেট উড়ানের সময়েই ধরে ফেলতে, তা যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ছোঁড়া অথবা তাদের জোটের রাষ্ট্রের দিকে ছোঁড়া সমস্ত রকমের রকেটের ক্ষেত্রেই করা হবে. একই সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া উত্তর কোরিয়ার উপরে গুপ্তচর বৃত্তি করে লক্ষ্য করার স্তর অভূতপূর্ব রকমের বাড়িয়ে দিয়েছে.