রাশিয়ার অর্থনীতির অনেক খানিই আড়ালে রয়েছে, ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার মন্ত্রীসভার উপ প্রধানমন্ত্রী ওলগা গলোদেত্স. শ্রমের বাজারের “ধূসর” অংশ – এটা না দেওয়া কর ও পেনশনের মাসিক অর্থ না দেওয়া, হিসাব বহির্ভূত উত্পাদন ও পরিষেবা. কর প্রয়োগের বাইরে থেকে যাচ্ছে বাস্তবে সমস্ত রকমের ঘরোয়া কাজের জন্য পরিচারকদের দল, ব্যক্তিগত ভাবে মেরামত ও নির্মাণ ক্ষেত্রের বহু পরিষেবাই.

শ্রমের বাজারের “ধূসর অংশে” থেকে যাচ্ছেন অনেক আইন মানতে চাওয়া লোকও, খুবই পেশাদার বিশেষজ্ঞরা. সমস্যা হল যে, তাঁরা নিজেদের বেতন পাচ্ছেন খামে বন্ধ অবস্থায়, তাঁদের কর্মদাতাদের হিসাব বহির্ভূত আয় থেকে. সুতরাং তাঁরাও কর দিচ্ছেন না, পেনশনের জন্য জমাও দিচ্ছেন না. রাশিয়ার পরিসংখ্যান দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী রাশিয়ার নাগরিকদের মধ্যে আট কোটি ষাট লক্ষ মানুষ কর্মক্ষম, আর তাদের চার কোটি আশি লক্ষ কাজ করছেন সম্পূর্ণ ভাবে আইন সঙ্গত ক্ষেত্রে. বাকী তিন কোটি আশি লক্ষের মধ্যে কিছু অংশ – বেকার, কিছু লোক নিজেরাই বাড়ীতে থেকে ঘরের কাজ করা বেছে নিয়েছেন. কিন্তু তাও থেকে যাচ্ছেন প্রায় দু কোটি লোক, যাঁরা কাজ করছেন “ধূসর” শ্রমের বাজারে, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের সামাজিক নীতি কেন্দ্রের প্রধান ইভগেনি গ্যুন্টমাখের, তিনি বলেছেন:

“উন্নত অর্থনীতিগুলিতে, অবশ্যই, সেই ধরনের লোক রয়েছেন, যাঁরা শ্রমের বাজারের ধূসর অংশে রয়েছেন. কিন্তু তাঁদের সংখ্যা এত বেশী নয়. এর দুটি প্রধান কারণ. প্রথমতঃ, রাশিয়াতে যথেষ্ট জটিল বিনিয়োগের পরিবেশ, বিশেষ করে ক্ষুদ্র বিনিয়োগের. আর ক্ষুদ্র বিনিয়োগ পছন্দ করে, সেই রকমের কোনও সম্ভাবনা থাকলে আড়ালে থেকেই কাজ করা. দ্বিতীয়তঃ, দেশে দুর্নীতির প্রসারের কথা এমনকি দেশের প্রথম সারির নেতারাই স্বীকার করে নিয়েছেন. এই দুটি কারণের সম্মিলনে তৈরী হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্য খারাপ পরিস্থিতির আর রাষ্ট্রের প্রতি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে অনীহা, যার কাজ হল কর সংগ্রহ ও বণ্টন করা ও কতজন এই ধরনের কর ফাঁকি দিয়ে কাজ করতে পারবে, তা ঠিক করা”.

রাশিয়া বিশ্বের একমাত্র দেশ নয়, যারা এই সমস্যার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী ইউরোপে ধূসর অর্থনীতির পরিমান গড় বার্ষিক উত্পাদনের শতকরা কুড়ি বাগ. অংশতঃ, গ্রেট ব্রিটেনে শতকরা ১০ ভাগ, জার্মানীতে – ১৪ ভাগ, ফ্রান্সে – শতকরা ষোল ভাগ, ইতালি ও স্পেনে ২৫ শতাংশ. গ্রীস ও পূর্ব ইউরোপের দেশ গুলিতে রাশিয়ার মতই গড় বার্ষিক উত্পাদনের শতকরা ৩৫ থেকে ৪০ ভাগ. আর ইউক্রেনে শতকরা ৫৭ ভাগ, প্রায় দেড় গুণ বেশী.

কোন সন্দেহ নেই যে, এই সমস্ত কাজ করা লোকরা যদি সকলেই সত্ভাবে কর দিতেন, তবে পেনশন হতে পারত অনেকটাই বেশী, আর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য শিক্ষার জন্য, পরিকাঠামো তৈরীর জন্য রাষ্ট্র অনেক বেশী অর্থ দিতে পারত. কিন্তু এটায় আসতে হলে, শুধু দেশের কর সংগ্রহ করার সংস্থা গুলির কাজ আরও সক্রিয় করলেই হবে না বা যারা কর দিচ্ছেন না, তাদের জন্য শাস্তির ব্যবস্থাও বাড়িয়ে দিলেই হবে না. দরকার পড়বে অনেক কিছু একসঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়ার, যা দেশের কর সংক্রান্ত আইনকেও স্পর্শ করবে, আর তা দেশের বিনিয়োগের পরিস্থিতিকেও ভাল করবে. তাছাড়া দেশের নাগরিকদেরও নিজেদের থেকেই আগ্রহী হতে হবে, যাতে পরিষ্কার ভাবে বেতন পাওয়া যায় ও সম্পূর্ণ ভাবেই কর দেওয়া হয়.

এখানে বলা দরকার যে, ততদিন পর্যন্ত, যতদিন না রাশিয়ার জনগনের পেনশনের অর্থের পরিমান, তাদের কাজ করার সময়ে দেওয়া বীমার অর্থের সঙ্গে যুক্ত ছিল না, ততদিন লোকে আইন সঙ্গত ভাবে রোজগারের বিষয়ে মাথা ঘামান নি. কিন্তু তবুও সামাজিক মতামত নেওয়া থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এখন খুব কম লোকই কোন রকমের আইন সঙ্গত কাগজ পত্র ছাড়া কাজ করে রোজগার করার বিষয়ে অনীহা দেখাচ্ছেন.

যতদিন ধরে রাশিয়ার নেতৃত্ব কর কমানোর পথ খুঁজছেন, ততদিন পর্যন্ত বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন সেই ব্যবস্থাই নিতে, যা ইউরোপের বেশ কিছু দেশে নেওয়া হয়েছে. যারা একই সমস্যার সামনে পড়েছে.অংশতঃ বালগেরিয়া ও স্লভেনিয়া, যারা নিজেদের দেশে সরকারি ভাবে সর্ব নিম্ন বেতনের স্তর তুলে এনেছে দেশের গড় বেতনের অর্ধেক অবধি. ফলে দেশের নাগরিকদের প্রায় একের চতুর্থাংশ “ধূসর” আয়কে আলোতে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে.