উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন আবারও বিদেশীদের খুবই জোর দিয়ে অনুরোধ করেছে পিয়ংইয়ং ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য. সানকেই সিমবুন নামের সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূতদের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, ১০ই এপ্রিলের পরে জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া ঠিক করেছে রকেট উড়ান করার, যা সম্ভবতঃ জাপান হয়ে উড়ে যাবে. সম্ভবতঃ, উত্তর কোরিয়ার সরকারি লোকরা এই সম্ভাবনাকে বাদ দিতে পারছেন না যে, রকেট উড়ানের পরে সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু হতে পারে, তাই কূটনীতিবিদদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, চলে যাওয়ার জন্য.

এই ধরনের খবরে চিন্তার উদ্রেক হয় যে, উত্তর কোরিয়ার প্রশাসন বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইচ্ছা করেই সশস্ত্র যুদ্ধ এই উপদ্বীপে শুরু করতে চাইছে. অন্তত পক্ষে, বেশ কয়েকটি বিশ্বের রাজধানীতে উত্তর কোরিয়ার লোকদের কাজকর্মকে এই ভাবেই দেখা হয়েছে. শুধুশুধুই জাপানীরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নিজেদের দেশে “প্যাট্রিয়ট” মিসাইল ব্যবস্থা বসাচ্ছে না ও জাপান সাগরে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা সমেত যুদ্ধ জাহাজ মোতায়েন করছে না. আর দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর লোকরা রাষ্ট্রপতির নির্দেশ অনুযায়ী রিপোর্ট করছে না যে তারা উত্তর কোরিয়া থেকে করা যে কোন রকমের প্ররোচনার কঠোর জবাব শক্তিশালী আঘাত দিয়ে দিতে প্রস্তুত.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সম্ভাবনা হিসাব করলে কোন রকমের সন্দেহের অবকাশ থাকে না যে, এই ধারণা করা সশস্ত্র বিরোধ খুবই দ্রুত ও দুঃখজনক ভাবেই উত্তর কোরিয়ার জন্য শেষ হবে. খুব সম্ভবতঃ, তা বর্তমানের পিয়ংইয়ং এর প্রশাসনেরই ধ্বংসের কারণ হবে. আর এটা পিয়ংইয়ং না বুঝে থাকতে পারে না. কিন্তু তাও তারা খুবই চাইছে পরিস্থিতি আরও তীক্ষ্ণ হোক. সুতরাং প্রশ্নের উদয় হয়: কিম চেন ঈন – কি আত্মঘাতী? মস্কো শহরের রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের একজন প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মী আন্দ্রেই ইভানভ এই বিষয়ে কোন সন্দেহ প্রকাশ করেন নি, তিনি বলেছেন:

“ভুলে গেলে চলবে না যে, কিম চেন ঈন, তাঁর অল্প বয়সে সুইজারল্যান্ডের এক সম্ভ্রান্ত স্কুলে পড়াশোনা করেছেন. তিনি দেখেছেন ইউরোপে কি ভাবে লোকে বাঁচে, আর বুঝতেও পারেন যে, উত্তর কোরিয়ার বেশীর ভাগ জনতা কত খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে বেঁচে রয়েছে. তিনি বোধহয়, বোঝেন যে, প্রশাসনের টিকে থাকার একমাত্র উপায় – এটা ধীরেধীরে সংশোধন করা. কিম চেন ঈন কি সংস্কারের জন্য তৈরী? বোধহয়, হ্যাঁ. তাঁর পিয়ংইয়ং এর সর্বময় কর্তার পদে আসীন হওয়ার পর থেকেই নতুন নেতার পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি বাজার অর্থনীতির দিকে সংস্কারের কথা শোনা গিয়েছিল. সংস্কার সাধক পাক পোং জ্যু সক্রিয়ভাবে কাজকর্মে ফির আসাকেও হঠাত্ করেই হয়েছে বলে মনে করা যেতে পারে না. কিন্তু এই নতুন নেতার পথ প্রদর্শন, বোধহয় দেশের সনাতন পন্থীদের কাছ থেকে বাধা পেয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনীর লোক. তাই কিম চেন ঈন তাদের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছেন, সামরিক বাহিনীর নেতৃত্ব থেকে সরাসরি যোদ্ধা প্রধানদের সরিয়ে দেওয়া দিয়ে”.

এই কঠিন ও যথেষ্ট বিপজ্জনক লড়াইতে জয়ী হওয়া কিম চেন ঈনের পক্ষে সহজ হবে না. বিদেশী শত্রুর সামনে দেশের জনগণ ও উচ্চ কোটির লোকদের একত্রিত হওয়া – এটা সম্ভবতঃ একটা বাধ্য হয়ে দেওয়া চাল, যাতে তাঁর অবস্থান পিয়ংইয়ং এ চলা কার্পেটের নীচের ক্ষমতার যুদ্ধে মজবুত হতে পারে. আরও বেশী করে তীক্ষ্ণ সামরিক ঘোষণা ও বিদেশী শত্রুকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি করা হচ্ছে প্রাথমিক ভাবে নিজেদের দেশের ভিতরেই ব্যবহারের জন্য, এই রকমই মনে করেছেন আন্দ্রেই ইভানভ.

এখানে মুখ্য হল যে, শত্রু পিয়ংইয়ং থেকে এই ধরনের যুযুধান হুঙ্কার যেন গুরুত্ব দিয়ে না দেখে. সিওল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, দক্ষিণ কোরিয়ার জনগণ কিম চেন ঈনের শেষ সময়ের করা কাজগুলিকে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন না, আর তা ঠিকই করছে, অর্থাত্ উত্তর কোরিয়ার ভেতরের লোকদের জন্যই করা বলে দেখছে. কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর লোকরা, আর তারও বেশী করে আমেরিকা ও জাপানের সেনাবাহিনীর লোকরা উত্তর কোরিয়ার অল্প বয়সী নেতার খেলাকে মূল্য নাও দিতে পারে ও সব কিছুকেই খুব সিরিয়াস ভাবে নিতে পারে. আর তখন তা হলে কি হবে?