গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের নৌবাহিনীতে বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ “লিয়াওনিন” উদয় হওয়া যদি অতিরঞ্জিত গণ আবেগের সঞ্চার করে থাকে, তবে কিছু পশ্চিমের গবেষকদের জন্য তাতে উল্টো প্রতিক্রিয়াই দেখতে পাওয়া গিয়েছে. পশ্চিমে চেষ্টা করা হচ্ছে “লিয়াওনিন” ও চিনের সমগ্র বিমানবাহী যুদ্ধ পরিকল্পনাকেই খুব মর্যাদাপূর্ণ প্রকল্প বলেই ধরার, কিন্তু তার কোনও বাস্তব সামরিক অর্থ নেই বলা হচ্ছে. এই ধরনের দৃষ্টিকোণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন রবার্ট রুবেল ব্যক্ত করেছেন, যা প্রকাশ করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ইনস্টিটিউটের প্রকাশনায়. আমেরিকার গবেষকের সিদ্ধান্ত মূল্যায়ণ করেছেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

চিনে “লিয়াওনিন” বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ, আসলে একটা পরীক্ষা মূলক জাহাজ, যা জাতীয় গর্বের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়েছে. এখনই প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই ভুলে যাওয়া হয়েছে পুরোপুরি সরকারি ভাবে করা গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর করা ঘোষণা যে, এই বিমানবাহী জাহাজ প্রধানতঃ ব্যবহার করা হবে প্রশিক্ষণ ও পরীক্ষা মূলক লক্ষ্য সাধনের জন্য.

চিনের সংবাদ মাধ্যমের সুরের চেয়ে বিদেশের মূল্যায়ণ অনেক নিরুত্তাপ ভাবে করা হয়েছে. আমেরিকার বিশ্লেষক রবার্ট রুবেল খুবই ভিত্তি সম্পন্ন ভাবে আমেরিকার আধুনিক বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ গুলির সঙ্গে তুলনায় লিয়াওনিন কত কম ক্ষমতা সম্পন্ন তারই কথা বলেছেন. তার মধ্যে রয়েছে জাহাজের ডেকের উপরে কম সংখ্যক বিমানের জন্য জায়গা (মাত্র ৩০ টি), উড়ানের সময়ে ট্রাম্পলিন ব্যবহার করা, কিন্তু তাতে ক্যাটাপুল্ট ব্যবস্থা না থাকা, দূরে রেডিও মধ্যমে নির্ণয় করতে সক্ষম এই রকমের বিমানের অনুপস্থিতি ও ডুবোজাহাজ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য কর্মক্ষম ব্যবস্থা না থাকা. তারই সঙ্গে এই জাহাজের উপর থেকে ওড়া বিমান গুলি আকাশে জ্বালানী ভর্তি করতে সক্ষম নয়. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিরোধ হলে চিনের বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজের ধ্বংস অনিবার্য, উল্লেখ করেছেন রুবেল.

কিন্তু আসলে, এই সব অভিযোগের কোন কিছুই চিনের বিমানবাহী জাহাজ নির্মাণ প্রকল্পের বিশেষত্ব হিসাবের মধ্যে আনছে না, - এই রকম মনে করেন রাশিয়ার সামরিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন. - প্রাথমিক ভাবে, বর্তমানের আধুনিক চীনা যুদ্ধ জাহাজের স্রষ্টা অ্যাডমিরাল লিউ হুয়াশিন, যিনি আশির দশকে এর প্রধান বিকাশের লক্ষ্য স্থির করেছিলেন, তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে, চিনের যুদ্ধ জাহাজ গুলি আমেরিকার একই ধরনের জাহাজের সঙ্গে বিরোধ করার জন্য তৈরী করা হবে না. বরং সেই গুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে দক্ষিণ চিন সাগরে ও তাইওয়ানের চারপাশ ঘিরে হওয়া বিরোধ গুলিতে, অন্তত পক্ষে ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ না এই সব বিরোধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জোটে. এমনকি সবচেয়ে দুর্বল বিমানবাহী জাহাজও বিমানবাহী জাহাজ ছাড়া নৌবহরের উপরে অনেক বেশী সুবিধা আদায় করতে পারে, যদি যুদ্ধ তীর ভূমির চেয়ে বেশী দূরে না হয়.

কিন্তু চিনের নৌবহরের দুর্বল জায়গা হল ডুবোজাহাজ থেকে প্রতিরক্ষার ব্যাপারটি. চিনের সামরিক বিশেষজ্ঞদের ঘোষণা প্রমাণ করে দেয় যে, এই সমস্যা চিনের সামরিক নেতৃত্ব খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে বুঝতে পেরেছেন ও তার সমাধানের জন্য যথেষ্ট অর্থ আলাদা করে ব্যয় করা হবে.

গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের কাছে প্রতিপক্ষের বড় জাহাজের সঙ্গে লড়াই করার উপযুক্ত শক্তিশালী অস্ত্র, যেমন জাহাজ বিরোধী ব্যালিস্টিক রকেট ডিএফ-২১ডি, ভাবতে বাধ্য করে এই গুলির সাথে বিমানবাহী জাহাজ একসাথে ব্যবহার নিয়ে. সোভিয়েত বিমানবাহী জাহাজ তৈরী পরিকল্পনার মধ্যে ধরা হয়েছিল দুই পাইলটের বিমানবাহী জাহাজের উপর থেকে উঠতে সক্ষম গুপ্তচর বৃত্তি ও লক্ষ্য নির্ণয় করানোর জন্য ব্যবহার যোগ্য সু- ২৭ কেআরত্স বিমান ব্যবহার করা হবে, যা ভারী জাহাজ বিধ্বংসী রকেট লক্ষ্য স্থির করে পাঠানোর জন্য কাজে লাগানো হবে. সোভিয়েত বিমানবাহী জাহাজ প্রকল্প চিনারা খুঁটিয়ে জেনে নিয়েছে, সম্ভবতঃ এই কারণেই তারা একই ধরনের বিমান তৈরী করতে চেয়েছে নিজেদের জে – ১৫ বিমানের ভিত্তিতে. এই রকম হলে চিনের বিমানবাহী জাহাজ চিনের সামরিক বাহিনীর জন্যই একটি ফলপ্রসূ মাধ্যম হতে পারে, যা যুদ্ধের এলাকাকে ঘিরে রাখতে সক্ষম হবে.

0এখানে হিসাব করা উচিত্ হবে যে, বিমানবাহী জাহাজ “লিয়াওনিন”- এটা দীর্ঘ পথের শুধু প্রথম পদক্ষেপ. খুব সম্ভবতঃ, আগামী দশকে আমরা দেখতে পাবো চিনের আরও বড় ধরনের বিমানবাহী জাহাজের বহর, যা হবে পারমানবিক শক্তি চালিত যুদ্ধ জাহাজ, যার উড়ানের ব্যবস্থায় থাকবে বিদ্যুত- চুম্বকীয় ক্যাটাপুল্ট ব্যবস্থা, যার উপরে থাকবে বহু রকমের যুদ্ধ ও সহায়তার উপযুক্ত বিমানের বহর.