প্যারিসের ল্যুভর ও সেন্ট-পিটার্সবার্গের রুশী মিউজিয়ামের মধ্যে ....দাবা প্রতিযোগিতা হবে. এপ্রিলের শেষদিকে(২০শে-৩০শে) প্রথমে ফ্রান্সের বৃহত্তম মিউজিয়ামে ও তারপরে রাশিয়ার অন্যতম বৃহত মিউজিয়ামটিতে আয়োজিত হবে মহান রুশী গ্র্যান্ডমাস্টার আলেখিনের নামাঙ্কিত আন্তর্জাতিক দাবা প্রতিযোগিতা. বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভিশি আনন্দ সহ ১০ জন শক্তিশালী দাবাড়ুদের পাশাপাশি রুশী সঙ্গীতজ্ঞরাও অনুষ্ঠান করবেন সেখানে. নিকোলাই লুগানস্কি ও ভাদিম রেপিন প্যারিসে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন রুশী সঙ্গীতের জলসা দিয়ে.

ফ্রান্স ও রাশিয়ার তরফে আলেখিন মেমোরিয়াল টুর্ণামেন্টের যৌথ আয়োজন কাকতালীয় নয়. আলেক্সান্দর আলেখিন ছিলেন প্রথম রুশী বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ও একমাত্র দাবাড়ু, যাকে জীবিতাবস্থায় পরাস্ত করা যায়নি. ১৯২০ সালে রাশিয়া পরিত্যাগ করে তিনি বাসা বেঁধেছিলেন ফ্রান্সে. নিকোলাই লুগানস্কি ও ভাদিম রেপিনকেও ঘটনাচক্রে অনুষ্ঠান করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়নি. উভয়েই তারা দাবার বড় ভক্ত এবং বহুবার জলসার পাশাপাশি দাবার বোর্ডেও তারা যুঝেছেন. নিকোলাই বোধহয় ভাদিমের চেয়েও একটু বেশি দাবার অনুরাগী. তিনি এমনকি মস্কোর মহাসঙ্গীতালয়ে ব্লিত্জ দাবা প্রতিযোগিতায় অংশ নিতেন. ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে নিকোলাই লুগানস্কি বলছেন তার হবি সম্পর্কে.-

আমার এই হবি, এমনকি ভালোবাসা শৈশব থেকে. আমি নিজে খেলি, প্রতিযোগিতাগুলির দিকে নজর রাখি. আমার জটিল ম্যাচগুলি বিশ্লেষণ করতে ভালোলাগে. দাবা ভাবনাচিন্তাকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে, একরকম লজিকের বিকাশ ঘটায়. কিন্তু দাবা ও সঙ্গীত সৃজন হিসাবে পরস্পরের থেকে অনেক দূরে, বোধহয় সেইজন্যেই আমার দাবা এত ভালোলাগে.

বহু রুশী সঙ্গীতজ্ঞের রক্তেই দাবা খেলা রয়েছে. যেমন, নিয়মিত লুগানস্কির সাথে দাবা খেলেন আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতনাম্নী ভায়োলিনবাদক আলেক্সান্দর ক্নিয়াজেভ এবং প্রখ্যাত পিয়ানোবাদক ও কনসার্ট কন্ডাক্টর মিখাইল প্লেতনোভ. প্রবল দাবাপ্রেমী ছিলেন সুরকার নিকোলাই রিমস্কি-কর্সাকোভ, আর তাঁর তুলনায় কমবয়েসী সহকর্মী সের্গেই তানিয়েভ ভীষন ভালোবাসতেন লেভ তলস্তোয়ের সাথে দাবা খেলতে. খারাপ দাবা খেলতেন না সুরকার আলেক্সান্দর স্ক্রিয়াবিন, কিন্তু রুশী সুরকারদের মধ্যে সত্যিকারের প্রতিভাশালী দাবাড়ু ছিলেন সের্গেই প্রকোফিয়েভ. একবার প্রকোফিয়েভ স্বয়ং এমানুইল লাস্কেরের সাথে ম্যাচ ড্র করতে পেরেছিলেন, আর প্রবাদপ্রতিম কাপাব্লাঙ্কাকে হারিয়ে দিয়েছিলেন. নিকোলাই লুগানস্কি এই সবকিছু সম্পর্কেই চমত্কার ওয়াকিবহাল, কিন্তু আলেখিন মেমোরিয়াল টুর্ণামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য তিনি বেছে নিয়েছেন প্রকোফিয়েভের নয়, বরং সের্গেই রাখমানিনভের রচনা, যাঁর দাবায় তেমন হাতযশ ছিল না. কিন্তু নির্বাচনের কারণটা – বিশেষঃ লুগানস্কির মতে, আলেক্সান্দর আলেখিন এবং সের্গেই রাখমানিনভের জীবনকাহিনীতে অনেক সাদৃশ্য ছিল.-

প্রথমতঃ উভয়েই ছিলেন দেশত্যাগী. আর ভাগ্য তাদের সাক্ষাতও ঘটিয়েছিল. তারা ছিলেন পরিচিত. রাখমানিনভ একবার আলেখিনকে আর্থিক সাহায্য পাঠিয়েছিলেন. বিপ্লবের পরে রুশী দেশত্যাগীদের মধ্যে একমাত্র ইভান বুনিন, ভ্লাদিমির নভোকভ ও ইগর স্ত্রাভিনস্কি ছাড়া শুধু ঐ দুই মনীষিই আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করতে পেরেছিলেন.

আলেখিন বলতেন – কম্বিনেশন দাবার হৃদয়. তাঁর স্মৃতিতে অনুষ্ঠিতব্য টুর্ণামেন্টে দাবার কম্বিনেশনের আগে আয়োজিত হবে ততটাই হৃদয়গ্রাহী সঙ্গীতের কম্বিনেশনের আসর.