উত্তেজনার প্রশমন হতে পারে, যখন হাতে লোহাপেটানো হাতুড়ি. একাতেরিনবার্গে সদ্য খোলা স্ম্যাশ-ক্লাবে এই কথা বলা হচ্ছে. এই ক্লাবের সংগঠকরা দৃঢ়প্রত্যয়ী, যে তারা লক্ষ লক্ষ ম্যানেজারের স্বপ্ন রুপায়িত করেছেন. তাছাড়া তাদেরও সবার, যারা উত্তেজনাকর কাজের দিন থেকে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন.

ইচ্ছুক সবাইকে কোনো কুন্ঠাবোধ না করেই মেজাজ শরিফ করার জন্য পিটিয়ে কোনো ভঙ্গুর জিনিস টুকরো টুকরো করার প্রস্তাব দেওয়া হয়. সেজন্য হাতুড়ি, বেসবলের ব্যাট, এমনকি লোহা পেটানো হাতুড়ি পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়. পিটিয়ে তছনছ করার জিনিসগুলো বিভিন্ন. ডিনার সেট হতে পারে, একগাদা মোবাইল ফোন বা কম্পিউটরের মনিটর হতে পারে, হোম এ্যাপ্লায়েন্স হতে পারে.

এই ধ্বংসাত্মক খেলার আবিস্কারক স্বীকার করেছেন, যে আইডিয়াটা তার এক বন্ধুর দেওয়া. ক্লাবের সংগঠক ভ্লাদিস্লাভ গোরনাস্তায়েভ বলছেন, যে এরকম কয়েকটি স্ম্যাশ ক্লাব সাফল্যের সঙ্গে চলছে আমেরিকায় ও জাপানে.-

আর্জেন্টিনায় এরকম ক্লাবে ভাঙচুর করা হয় শুধু মনিটর আর বোতল. আমেরিকায় শুধু বাসনপত্র, উপরন্তু শুধু দেওয়ালে আছাড় মেরে, জাপানে- বসের কাকতাড়ুয়া তছনছ করে লোকে. তাছাড়াও তারা আসবাবপত্র ভাঙতে পছন্দ করে. আমি এই সবকিছু একসাথে জড়ো করেছি.

মনস্তত্ত্ববিদেরা বলেন, যে উত্তেজনা প্রশমনের এরকম প্রক্রিয়া ইউরোপের বহু দেশেও ব্যবহৃত হয়. কিন্তু ব্যাপারটা তত সরল নয়. বিশেষজ্ঞেরা জানতে পেরেছেন, যে ক্রোধের বহিঃপ্রকাশ অর্থহীন. নিউরোলজিক্যাল ক্লিনিকের অধ্যক্ষ মিখাইল পেরতসেল মনে করেন, যে ক্রোধ উগড়ে দেওয়া নয়, তাকে সঠিক অভিমুখে চালনা করা চাই.-

আরো বেশি সঠিক ও সূক্ষ পদ্ধতি রয়েছে. যদিও স্ম্যাশ ক্লাবগুলো – একটা পদক্ষেপ, যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে পারে কোনো সংস্থার অভ্যন্তরে. কিন্তু তা অভিজ্ঞ মনোবিজ্ঞানীর তত্ত্বাবধানে করা উচিত্.

একাতেরিনবার্গে স্ম্যাশ ক্লাবের সংগঠকরা বলছেন, যে মেজাজ উজাড় করতে ইচ্ছুকদের সংখ্যা ক্রমশঃ বাড়ছে. সেইসঙ্গে বাড়ছে সাধারণ দর্শকদের সংখ্যা. ভাঙাচোরার শব্দে আকৃষ্ট হয়ে মানুষ ক্লাবে উঁকি মারে ও আগ্রহের সাথে প্রত্যক্ষ করে তাদের, যারা নেশাগ্রস্তের মতো ধ্বংসলীলা চালায়. দেখা গেছে, যে এরকম দৃশ্যও উত্তেজনার প্রশমন ঘটাতে সহায়ক দর্শকদের জন্য.