প্রাগ শহরে রাশিয়ার তত্কালীন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার স্বাক্ষরিত তৃতীয় পারমানবিক স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির তিন বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হতে চলেছে ৮ই এপ্রিলে. বলা যেতে পারে যে, এটা ছিল, মস্কো ও বারাক ওবামার রাষ্ট্রপতি হিসাবে নেতৃত্বে ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক রিসেট করার পরে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ পরিণতি. ২০১০ সালের প্রাগ চুক্তি অনুযায়ী প্রত্যেক পক্ষের পারমানবিক অস্ত্রের সংখ্যা কমানো উচিত্ হবে ১৫৫০টি পর্যন্ত আর পরিবহনে সক্ষম যুদ্ধপোযোগী রকেটের সংখ্যা হবে ৭০০টি অবধি. এই চুক্তি ২০১১ সালে কাজ করতে শুরু করেছে ও তার মেয়াদ ১০ বছর.

বেশীর ভাগ সোভিয়েত ও পরে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে পারমানবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও কমানো নিয়ে চুক্তি, যাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বলা হয়ে থাকে নতুন স্ট্র্যাটেজিক আক্রমণাত্মক অস্ত্র চুক্তি, তৈরী হয়েছে বিতর্কের মধ্যে দিয়েই. এই চুক্তি মার্কিন কংগ্রেস ও রাশিয়ার দ্যুমার সমস্ত রকমের গ্রহণ সংক্রান্ত বাধা পার হয়ে এসেছে. এই দলিলের এখনও পক্ষে ও বিপক্ষে লোক রয়েছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী মার্চ মাসের শেষে ওয়াশিংটনের আয়ত্বে রয়েছে ৭৯২টি ভূমি পৃষ্ঠে ও সামুদ্রিক উত্স থেকে উড়ান সক্ষম রকেট ও তারই সঙ্গে বিমানে পরিবাহিত বোমা. রাশিয়ার কাছে রয়েছে ৪৯২ টি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে রয়েছে সব মিলিয়ে ১০২৮টি তৈরী ও ব্যবহারের উপযুক্ত উড়ানের ব্যবস্থা, যা সমুদ্র ভূমি ও বিমান থেকে নিক্ষেপ করা সম্ভব. রাশিয়ার এই ধরনের রয়েছে ৯০০টি. এই রকমের ক্ষমতায় তফাত ব্যাখ্যা করা যেতে পারে এই দিয়ে যে, রাশিয়া বর্তমানে খুবই সক্রিয়ভাবে নিজেদের অস্ত্র ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ করছে ও প্রহরা থেকে পুরনো হয়ে যাওয়া ব্যবস্থা গুলিকে দ্রুত বের করে দিচ্ছে.

তৃতীয় স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক অস্ত্র চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা হল যে, এই চুক্তি দুই পক্ষেরই পারমানবিক অস্ত্র কমানোর প্রক্রিয়ার প্রতি মনোভাবকে সমর্থন করা. প্রত্যেকটি রুশ-মার্কিন চুক্তিকে আলাদা কিছু করে দেখা সম্ভব নয়. সেই গুলি সবই – এক বৃহত্ পথের এক একটি অধ্যায়. এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে ঘোষণা করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর পাভেল জোলোতারিয়েভ, তিনি বলেছেন:

“এর পরবর্তী চুক্তি গুলি সেই লক্ষ্যেই হওয়া উচিত্ হবে যে, এমন একটা সীমানার কাছে পৌঁছনো সম্ভব হয়, যখন বহু পাক্ষিক ভাবে পারমানবিক অস্ত্র কমানো সম্ভব করার জন্য ব্যবস্থা করা যাবে. বর্তমানে যে স্তর ধরে রাখা হয়েছে, তাতে এটা মনে হয় না যে সম্ভব. ১০০০ বা ৯০০ বোমার স্তর থেকে বোধহয় সম্ভব হবে অন্যান্য রাষ্ট্রদেরও এর সঙ্গে যুক্ত হওয়া. প্রাথমিক ভাবে অবশ্যই চিনের”.

রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া পারমানবিক ক্লাবে রয়েছে চিন, ফ্রান্স, ব্রিটেন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও বেসরকারি ভাবে ইজরায়েল. আমেরিকার গবেষণা কেন্দ্র বিশ্ব শান্তির জন্য কার্নেগী তহবিলের তথ্য অনুযায়ী চিনের কাছে ৪০০টিরও বেশী বোমা রয়েছে, ফ্রান্সের রয়েছে ৩৫০, ব্রিটেনের ২০০টিরও বেশী. ইজরায়েলের ক্ষমতা ধরা হয়েছে ১০০টি, ভারত ও পাকিস্তানের এর থেকে সামান্য কম.