মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর দপ্তর প্রধানদের সংযুক্ত কমিটির সভাপতি মার্টিন ডেম্পসি ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে চিনে সফরে যাবেন, বলে জানিয়েছেন পেন্টাগনের সরকারি প্রতিনিধি জর্জ লিটল. পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন যে, মার্টিন ডেম্পসির সফরের প্রধান কারণ হয়েছে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় বর্তমানে গুরুতর তীক্ষ্ণ পরিস্থিতি.

কোরিয়ার দিকে আমেরিকার কূটনৈতিক শক্তি প্রয়োগের সঙ্গে সামরিক শক্তিকেও যোগ করা – এই পরিস্থিতি গুরুতর হওয়ার প্রমাণ. ডেম্পসির সফর আমেরিকার পররাষ্ট্র সচিব জন কেরির সফরের আগেই হবে, যিনিও খুব শীঘ্রই বেজিং সফরে যাবেন, আর তারই সঙ্গে যাবেন সিওল ও টোকিও. এর আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দপ্তর প্রধানদের সংযুক্ত কমিটির প্রাক্তন সভাপতি মাইক মাল্লেন ২০১১ সালে বেজিং সফরে গিয়েছিলেন. তার আগে চার বছর ধরে চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এই স্তরে কোনও বিনিময় হয় নি.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মনে করা হয় যে, চিনের উচিত্ তাদের সমস্ত প্রভাব উত্তর কোরিয়ার উপরে প্রয়োগ করা, কারণ উত্তর কোরিয়া তাদের উপরে অনেকটাই অর্থনৈতিক ভাবে নির্ভর করে, যাতে পিয়ংইয়ং প্ররোচনা মূলক ঘোষণা ও কাজ থেকে বিরত হয়. ওয়াশিংটনকে বর্তমানের পরিস্থিতি বাধ্য করেছে বেজিংয়ের সম্ভাবনাকে উত্তর কোরিয়ার প্রশাসনের উপরে আরও সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করতে, - এই রকম মনে করে জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ও সামরিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“বেজিংয়ের অবস্থান নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, তা যথেষ্ট বাস্তব সম্মত. ঠিক একই ভাবে, যেমন মস্কোর অবস্থানও. কিন্তু আমি মনে করি যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের চেয়ে চিনের পিয়ংইয়ং এর উপরে প্রভাব ফেলার উপায় কিছু বেশী রয়েছে, চিন ও কোরিয়ার ঐতিহ্যগত নৈকট্যের কথা মনে করে দেখলে. বাস্তব ক্ষেত্রে এখানে কথা হতে পারে, কি করে রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতিকে কানা গলি থেকে উদ্ধার করা যেতে পারে, যদিও যুদ্ধের ঝুঁকি যথেষ্ট বেশী পরিমানেই রয়ে যাচ্ছে. এই ধরনের উত্তেজনা পূর্ণ পরিস্থিতিতে যে কোন স্ফুলিঙ্গ থেকেই অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে, যা প্রসারিত ভাবে সামরিক বিরোধে পরিণত হতে পারে”.

কিছু বিশ্লেষকরা পিয়ংইয়ং এর তরফ থেকে মার্কিন সামরিক কেন্দ্র গুলির উপরে আঘাত হানার হুমকিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন না, তার মধ্যে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার উপরেও না. তারই মধ্যে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি প্রতিদিনের সঙ্গেই আরও গুরুতর হচ্ছে আমেরিকার পক্ষ থেকে চাপ কমানো না হওয়ার পরিস্থিতিতেও আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত ভাবে নবীন ঈগল নামের সামরিক মহড়া বাধ্য করেছে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চেন ঈনকে যথেষ্ট আশ্চর্য রকমের বিপজ্জনক উপায়ে নিজের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করানোর. তাছাড়া, খুবই যুযুধান ও পশ্চিম বিরোধী রণ হুঙ্কার দিয়ে তিনি পিয়ংইয়ং এর পুরনো নেতৃত্বের কাছে হয়তো এক রকমের পয়েন্ট যোগাড় করছেন, যা তাকে এই ভাবে নিজের ক্ষমতাকেই মজবুত করতে সাহায্য করবে.

দক্ষিণ কোরিয়া শুক্রবারে জানিয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া দেশের পূর্ব উপকূলে দ্বিতীয় মাঝারি পাল্লার রকেট ব্যবস্থা নিয়ে গিয়েছে. আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা যেমন মনে করেন যে, এই রকেটের উড়ান উত্তর কোরিয়া রাষ্ট্রের স্থপতি কিম ইর সেনের ১০১ তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে নিক্ষেপ করা হতে পারে.

কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে দক্ষিণ কোরিয়ায় আমেরিকার সামরিক বাহিনীর কম্যান্ডার জেনারেল জেমস টুরম্যানকে এমনকি তাঁর এই সপ্তাহে পূর্ব পরিকল্পিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর বাতিল করতে হয়েছে.

ওয়াশিংটনে মনে হয়েছে যে বোঝা শুরু হয়েছে যে, তারা উত্তর কোরিয়াকে একঘরে করতে গিয়ে কিছুটা বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে আর তা কমানোর জন্য যদি চেষ্টা নাও করা হয়, তবুও অন্তত বিরোধ বৃদ্ধি করার চেষ্টা বাদ দেওয়া হয়েছে. পেন্টাগন অংশতঃ, সিদ্ধান্ত নিয়েছে আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক মিসাইল মিনিটম্যান – ৩ পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার. সম্ভবতঃ, ডেম্পসির সফরকেও ব্যবহার করা হবে যাতে পিয়ংইয়ংকে কিছু বাড়তি ইঙ্গিত পাঠানো সম্ভব হয়. কিন্তু এটার কি পিয়ংইয়ং মূল্য দেবে?