সিওল শহর বিদেশী সাংবাদিকে ভরে গিয়েছে. তাঁরা এখানে উড়ে এসেছেন, যাতে তাঁরা সেই বিষয়ে খবরে ভরিয়ে দিতে পারেন, যা তাঁদের সম্পাদকরা মনে করেছেন এক গুরুতর আন্তর্জাতিক সঙ্কট বলে. বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে যে, কোরিয়ার উপদ্বীপ এলাকা বর্তমানে পারমানবিক যুদ্ধের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে. কিন্তু এটা বিশ্বাস করার কি দরকার রয়েছে?

বিদেশী সাংবাদিকরা সিওলের রাস্তায় খুবই তন্নতন্ন করে আতঙ্কের চিহ্ন খুঁজছেন. দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানীর বাসিন্দারা পিয়ংইয়ং এর তরফ থেকে দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপরে পারমানবিক আঘাত হানার হুমকিতে কোন প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন না. যাঁরা কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় রয়েছেন ও পরিস্থিতির সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, তাঁদের কোনই সন্দেহ নেই যে, পিয়ংইয়ং একেবারেই যুদ্ধের জন্য তৈরী হচ্ছে না, বরং আরও একবার কূটনৈতিক প্রচার চালাচ্ছে, যাতে আলোচনার সময়ে কিছু ছাড়া পায় ও কিছু মানবিক সাহায্যও পায়.

তাহলে কোন বিশ্বের সংবাদ মাধ্যম গুলি এই ধরনের উত্তেজনা ছড়াচ্ছে, কেন ক্রমশ এগিয়ে আসা যুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা এত ঘনঘন করা হচ্ছে?

প্রথম কারণ – বাণিজ্যিক. খুব ভাল করে বেচা যায় শুধু খারাপ খবরই. ক্রমশ অগ্রসর হওয়া পারমানবিক যুদ্ধ নিয়ে কথাবার্তা বিক্রীর জন্য খুবই ভাল অনুঘটক.

দ্বিতীয় কারণ – সাংবাদিকদের পেশাদারীত্ব. সেই সময় এখন বিগত, যখন কোন এক বা অন্য দেশের খবর জানাতেন সেখানে থাকা স্থায়ী প্রতিনিধিরা, যাঁরা এই দেশে বহু বছর কাটিয়েছেন ও এমনকি কয়েক দশকও থেকে গেছেন. এখন কোরিয়ার ঘটনা নিয়ে আমাদের গল্প করছেন, মূলতঃ, সেই সব লোকরা, যাঁরা এখানে এসেছেন কয়েকদিনের জন্য, কোন না কোন চাঞ্চল্যকর খবরের খোঁজে. তাঁদের মধ্যে খুব কম লোকই বুঝতে পারেন যে, এই ধরনের সঙ্কট কোরিয়াতে প্রতি দু-তিন বছর অন্তরই হতে থাকে, আর কখনই তা যুদ্ধ দিয়ে শেষ হয় নি, বরং মাত্র কয়েকটি ক্ষেত্রে - সামরিক প্ররোচনা দিয়ে, তাও খুবই ছোটখাট.

তৃতীয় কারণ হল যে, উত্তর কোরিয়া বিশ্বে এক আশ্চর্য ও অননুমেয় রাষ্ট্রের স্বীকারোক্তি পেয়েছে, যাদের কাছ থেকে যা খুশী তাই আশা করা যেতে পারে. মনে করা হয় যে, উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব যে কোনও রকমের অর্থহীণ পদক্ষেপ নিতে পারে – যেমন যুদ্ধ শুরু করতে পারে, যাতে তারা খুব সম্ভবতঃ দ্রুতই হেরে যাবে.

যেহেতু আজকের দিনে খারাপ খবরেরই প্রাথমিক ভাবে চাহিদা রয়েছে, তাই সংবাদ মাধ্যমের প্রধান খবর হয়েছে উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া নয়. দক্ষিণের ইতিহাস – এটা খুবই কষ্টসাধ্য ও জেদী কাজের ইতিহাস, বিশাল শক্তি প্রয়োগের ইতিহাস, যা পরিণতিতে সাফল্য দিয়েছে. কিন্তু এই সাফল্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহ আজকের বিশ্বে কারও নেই, সেখানে মনে করা হয় যে, দক্ষিণ কোরিয়া খুবই অনুমেয়, অন্যান্য দেশের মতই, এক কথায় – খুবই সাধারণ, যা পাঠকদের আগ্রহ জাগায় না.

উল্টো দিকে উত্তর কোরিয়া, যারা নিজেদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায় দক্ষিণের সঙ্গে তুলনারই যোগ্য নয়, আগের মতই আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের তারকা হয়েই রয়েছে.

এই রকম ভাবেই উপদ্বীপ এলাকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার ছবি আঁকা হচ্ছে, যার বাস্তবের সঙ্গে খুব একটা মিলই নেই. আমাদের দুনিয়াটাই এই রকমের.