ক্যান্সার রোগের নিরাময়কারী ওষুধ সহ রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রজন্মের ওষুধপত্র উত্পাদনের ব্যবস্থা করতে মনস্থ করেছে রাশিয়ায় সক্রিয় দক্ষিণ ভারতীয় কেরালা রাজ্যের সংগঠণ আম্মা(All Moscow Malayalees Association). এই সম্পর্কে ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে বলেছেন সংস্থার প্রধান রঘুনাথ পিল্লাই. সাইবেরিয়ার তোমস্ক শহরে সদ্যসমাপ্ত ভারতীয় বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি উত্সবে তিনি উপস্থিত ছিলেন. সাইবেরিয়ার এই বড় শিল্প শহরের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বণিক সভা এই উত্সবের সংগঠক ছিল. বাণিজ্য বিষয়ক আলাপ-আলোচনায় যোগ দিয়েছিলেন আমাদের দুই দেশের বিজ্ঞানীরা, উদ্ভাবকরা, শিল্পপতিরা.

রঘুনাথ পিল্লাই বলছেন সহযোগিতার নির্দিষ্ট সব ক্ষেত্র নির্ধারণ করা হয়েছে. ‘আম্মা’র আগ্রহ তোমস্কে উদ্ভাবিত ও পেটেন্ট পাওয়া ক্যান্সার নিরাময়কারী, হার্টের অসুখের চিকিত্সা ও পাকস্থলী ও বৃহদন্ত্রের সংক্রামক ব্যাধিগুলোর চিকিত্সার ওষুধের প্রতি. সেগুলি সাফল্যের সাথে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে রাশিয়ায় ও বিদেশে বিভিন্ন গবেষণাগারে. ‘আম্মা’ সেগুলির উত্পাদন ভারতে করার জন্য কথাবার্তা বলা শুরু করেছে.

মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি ফ্যাকাল্টি থেকে নব্বইয়ের দশকে পাশ করা রঘুনাথ পিল্লাই ১২ বছর ধরে কাজ করেছেন রাশিয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীগুলিতে. একইসঙ্গে তিনি ও তার সহকর্মীরা রাশিয়ায় ভারতীয় অ্যান্টিবায়োটিক ও যক্ষা নিরাময়কারী বিভিন্ন ওষুধ উত্পাদন করারও উদ্যোগ নিয়েছেন.

তবে ওষুধপত্র সহযোগিতার একমাত্র ক্ষেত্র নয়, যা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের তোমস্ক সহ সাইবেরিয়ার প্রতি মনোযোগ দিতে বাধ্য করছে – বলছেন তোমস্ক রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যদুনিয়া বিভাগের প্রধান ওলগা উসচুঝানতসেভা. মাঝারিশিল্পের ক্ষেত্রে সহযোগিতার যথেষ্ট নমুনা রয়েছে. যেমন, আলতাই ও ক্রাসনাইয়ার্স্কে ব্যবসারত যৌথ ইন্দো-রুশী শিল্পসংস্থাগুলি. ২০১২ সালে ভারতের পুণেতে তোমস্কের বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে কৃত্রিম শিরা বানানো শুরু হয়েছে.

নোভোসিবির্স্কে, তোমস্কে ও সাইবেরিয়ার অন্যান্য শহরের বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলিতে ভালো গবেষণার বুনিয়াদ রয়েছে, আর ভারতে বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনকে উত্কর্ষমানের উত্পাদনে পরিণত করা ও অপেক্ষাকৃত অল্প দামে বাজারে ছাড়ার পরিকাঠামো আছে – বলছেন ওলগা উসচুঝানতসেভা.

রঘুনাথ পিল্লাই বলছেন – ঠিক সেই কারণেই যৌথ প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা ও সাইবেরিয়ার বিজ্ঞানীরা হাতে হাত মিলিয়েছেন. ভারতীয়রা সাইবেরিয়ার প্রচন্ড শীতকে আর ভয় করে না, বরং পরিপ্রেক্ষিতের উষ্ণতা তাদের গা-গরম করে.

“আমরা তোমস্কের একটি শিল্প প্রতিষ্ঠাণ, যে মোবাইল ফোনের ও ইউটিলিটিজের পেমেন্ট করার প্রোগ্রাম বানিয়েছে, তাদের সাথেও কথাবার্তা চালাচ্ছি. কিউই কোম্পানী সাফল্যের সাথে এই প্রোগ্রাম ব্যবহার করছে. আমরা চাই ওদের ভারতের বাজারে নামাতে. আম্মা ও অন্যান্য ভারতীয় বাণিজ্যিক সংস্থাগুলি মস্কো, সেন্ট-পিটার্সবার্গে কাজের প্রচুর অভিজ্ঞতা অর্জন করার পরে এখন সাইবেরিয়ার দিকে হাত বাড়িয়েছে. সাইবেরিয়া খনিজ সম্পদের বিশাল ভান্ডার ও সেখানে চালু আছে প্রচুর বড় বড় গবেষণাগার”.

ভারতীয় বাণিজ্য জগতের সাথে সাইবেরিয়ার বিজ্ঞানীদের পারস্পরিক সহযোগিতার রোড ম্যাপে তোমস্কে সাক্ষাত্কারের পরে পরবর্তী মিলনসভার স্থান ও কাল ধার্য করা হয়েছে. তোমস্কের শিল্পবাণিজ্য সভা এক মাস পরেই তার আয়োজন করবে জ্বালানীশক্তির বিষয়ে. ভারতের বাণিজ্য সংস্থাগুলি সেখানে সম্মানীয় যোগদানকারী হিসাবে আমন্ত্রিত হয়েছে.