রাশিয়া আপাততঃ আন্তর্জাতিক সমরাস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর করার ইচ্ছা প্রকাশ করছে না. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় এই চুক্তি এই সপ্তাহে সমর্থিত হয়েছে. এই দলিল নিয়ে বিবেচনা করতে গিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই মনে করছেন একটা বিখ্যাত প্রবচন “নরকের পথ সদিচ্ছায় মোড়া”.

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তির বহু ধারাই সন্দেহ ও প্রশ্নের উদ্রেক করে আর তা আলাদা করে যাচাই করে দেখাও দরকার.

এই চুক্তি সাধারণ অস্ত্র নিয়ে কারবারের একটা সর্বসম্মতি ক্রমে নিয়ম গ্রহণের ব্যবস্থা করতে চায় – তা গুলি করার অস্ত্র থেকে যুদ্ধ বিমান ও যুদ্ধ জাহাজ পর্যন্ত সমস্ত কিছুর জন্যেই. কিন্তু বিশেষজ্ঞদের সম্পূর্ণ ভাবে বোধগম্য নয় যে, কি করে বাস্তবে এত বহু মাত্রিক ব্যবসায় মান নির্ধারণ করা সম্ভবপর হতে পারে. তাই স্ট্র্যাটেজিক গঠন কেন্দ্রের ডিরেক্টর ইভান কনোভালভ বলেছেন:

“সমরাস্ত্র নিয়ে বাণিজ্য এতই সংবেদনশীল বিষয় যে, এখানে মান নির্ণয় ও শৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজন রয়েছে. এই ধরনের লক্ষ্য সাধন খুবই কঠিন. একটা পরিস্থিতির কথা ভেবে দেখা যেতে পারে, যা আজ সিরিয়াতে হচ্ছে: আমরা মনে করি যে, সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে, যেখানে আইন সঙ্গত ভাবে নির্বাচিত মন্ত্রীসভা বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে. কিন্তু পশ্চিমে মনে করা হয়েছে যে, সেখানে জঙ্গী লড়াই করা হচ্ছে স্বৈরতান্ত্রিক প্রশাসনের বিরুদ্ধে. আর জঙ্গীদের অস্ত্র সাহায্য করা যেতে পারে. এই ক্ষেত্রে চুক্তি কিভাবে কাজ করবে? কোন পক্ষকে সেই দল মনে করা যেতে পারে, যাদের অস্ত্র পাওয়ার অধিকার রয়েছে, আর – কার নেই”?

এখানে আমরা এই সমরাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির সবচেয়ে স্পর্শকাতর জায়গাতেই এসে পৌঁছই. সত্যই ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা কেউই এখন নিষিদ্ধ করে নি, একই সঙ্গে জোটের সম্পর্ককেও. এটা দোমুখো নীতি, কোন সন্দেহ নেই যে, নেতিবাচক ভাবে এটা চুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলবে, এই চুক্তির স্রষ্টাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছা ব্যতিরেকেই. তাই ব্রিটেনের সমরাস্ত্র বাণিজ্য বিরোধী আন্দোলনের প্রতিনিধি কে স্টেরম্যান বলেছেন:

“যতদিন পর্যন্ত এই চুক্তি প্রস্তুতি পর্বে ছিল, ততদিন ধরেই আমরা এর প্রতি খুবই সন্দেহের চোখে এটাকে দেখেছি বিশেষত সেই কারণেই যে, এর প্রভাব হবে খুবই সামান্য. যদিও নির্দিষ্ট কিছু দেশে সমরাস্ত্র রপ্তানী কাগজে কলমে নিষিদ্ধ থাকবে, কিন্তু কার্য ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাবো যে, এই দেশ গুলিতেই সমরাস্ত্র রপ্তানী করা হচ্ছে”.

কিছু বিশেষজ্ঞ এই সমরাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিকে খুবই “দুর্বল ও অমনোযোগী ভাবে তৈরী দলিল” হিসাবেই দেখেছেন. অংশতঃ, এখানে দায়িত্ব না পাওয়া বেসরকারি গ্রাহককে অস্ত্র বিক্রী নিয়ে কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় নি. সব মিলিয়ে, খুব একটা নির্দিষ্ট ও অমিল ভর্তি বাক্য ব্যবহার করা হয়েছে অস্ত্র ব্যবসার মানবিক দিক সম্বন্ধে, যা খুবই প্রসারিত ভাবে ইচ্ছা মতো ব্যাখ্যা ও অসাধু ভাবে এই ধারকে ব্যবহারের সুযোগ করে দেয়. যতদিন পর্যন্ত অবস্থা এই রকম থাকবে, তত দিনই এই সমরাস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি থাকবে খুবই ঘোষণা মূলক এক দলিল হিসাবে, এই রকমই মস্কোয় মনে করা হয়েছে.