২০১৫ সালের মধ্যে চিন পরিকল্পনা করেছে আন্টার্কটিকা এলাকায় নিজেদের বৈজ্ঞানিক স্টেশনের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ করার. বিশেষজ্ঞদের মতে আন্টার্কটিকায় নিজেদের উপস্থিতি প্রসারিত করে ও আর্কটিক এলাকাতেও নিজেদের গবেষণা বৃদ্ধি করে বেজিং নিজেদের বিশ্বজোড়া প্রভাবকেই শক্তিশালী করতে চাইছে.

আন্টার্কটিকা এলাকায় গবেষণা করার আগ্রহ চিনের বৈজ্ঞানিকরা তুলনামূলক ভাবে অল্পদিন হল শুরু করেছে. প্রথম বৈজ্ঞানিক অভিযান গণ প্রজাতন্ত্রী চিন এই বরফের মহাদেশে পাঠিয়েছিল ১৯৮৪ সালে. বলা যেতে পারে যে, চিনের বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা আন্টার্কটিকা এলাকায় একটা প্রতীক হয়েছে, চিনের সেই সংস্কার ও “বেরিয়ে পড়ার” রাজনীতিরই. বর্তমানে চিন আন্টার্কটিকায় তিনটি বৈজ্ঞানিক স্টেশন তৈরী করেছে. তার মধ্যে একটি সেখানে পূর্ব – আন্টার্কটিকা উপত্যকার সবচেয়ে উঁচু বিন্দুতে সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ৪০০০ মিটার উঁচু জায়গায় রয়েছে.

এবারে চিন ঘোষণা করেছে সেখানে একটি গ্রীষ্মকালীন স্টেশন বানানোর, যেটি ডিসেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত কাজ করবে. তা করা হবে বর্তমানে কর্মরত স্টেশন গুলিকে রসদ সরবরাহ করার জন্য, আর তারই সঙ্গে ভূতাত্ত্বিক, গ্লেসিয়ার বিজ্ঞান সংক্রান্ত, ভূ-চৌম্বক ক্ষেত্রে সম্পর্কিত ও অন্যান্য গবেষণার জন্য. তাছাড়া ২০১৫ সালের আগে ভিক্টোরিয়া ল্যান্ডের উপরে একটি নতুন স্টেশন তৈরী করা হবে, যেখানে চিনের গবেষকরা স্থায়ী ভাবে গবেষণা করবেন. তাঁরা জৈব- পরিবেশ বিজ্ঞান সংক্রান্ত গবেষণা করবেন উপগ্রহ মারফত লক্ষ্য রাখার সঙ্গে.

নিজেদের গবেষণায় চিনের বিজ্ঞানীরা খুবই শক্তিশালী প্রযুক্তিগত সহায়তার উপরে নির্ভর করবেন. যদি কক্ষপথ থেকে তাদের উপগ্রহ সহায়তা করে, তবে চিরস্থায়ী বরফের উপরে তাদের সহযোগী হবে রোবট. কিছু দিন আগে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, চিনের বিজ্ঞানীরা বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রক্রিয়া অনুধাবন করবেন এক স্বয়ংক্রিয় বরফের উপর দিয়ে চলাফেরায় সক্ষম রোবট দিয়ে. এই যন্ত্র যার নাম দেওয়া হয়েছে পোলার রোভার – ১, সেটি তৈরী করা হয়েছে বেজিং অ্যারোনটিকস্ বিশ্ববিদ্যালয়ে ও তা দেড় মিটার উচ্চতা সম্পন্ন বরফ ও তুষারের বাধা পার হয়ে যেতে সক্ষম.

রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইয়াকভ বেরগের মনে করেন যে, চিন আন্টার্কটিকায় একটি সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী বৈজ্ঞানিক প্রকল্প শুরু করতে চলেছে. তাই এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

“এটা চিনের সম্মিলিত একটা পরিকল্পনার অংশ, যাতে এক বিশ্বমানের রাষ্ট্রের মতো কাজ করা সম্ভব হয়. একটি বিশ্বমানের রাষ্ট্রের মতো চিনের আগ্রহ রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বিভিন্ন এলাকাতেই – তা যেমন বৈজ্ঞানিক, তেমনই অর্থনৈতিক, আর অবশ্যই ভূ-রাজনৈতিক. এই দৃষ্টিকোণ থেকে আন্টার্কটিকা গুরুত্বপূর্ণ যে কোন দেশের জন্যই. চিন আগেও এখানে কাজ করেছে, কিন্তু তা ছিল সীমাবদ্ধ আকারে. এখন চিন, যাদের কাছে রয়েছে বিপুল অর্থ ও বৈজ্ঞানিক সামর্থ্য, তারা ঠিক করেছে নিজেদের উপস্থিতি আন্টার্কটিকাতে বাড়িয়ে তোলার. তাছাড়া, চিন বিগত সময়ে খুবই সক্রিয়ভাবে আর্কটিকাতেও গবেষণার কাজকর্ম বৃদ্ধি করে চলেছে”.

ইয়াকভ বেরগের মনে করেন যে, চিনের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া দরকার. খুবই সম্ভব যে, এখানেই রুশ – চিন সহযোগিতার একটি দিক থাকতে পারে, যেহেতু সোভিয়েত দেশ ও বর্তমানে রাশিয়া বহুদিন ধরেই ও সক্রিয়ভাবে এই হিমশীতল মহাদেশে গবেষণা করে চলেছে.

চিনের আন্টার্কটিকাতে সক্রিয়তা বৃদ্ধি খুবই সাবধান হয়ে পশ্চিমে দেখা হচ্ছে – এটি বিশ্বের শেষ মহাদেশ, যার সম্পদ একেবারেই ব্যবহার করা হয় না. তার মধ্যে আবার বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী এই বরফের শীতল স্তরের নীচে লুকিয়ে রয়েছে বিশাল পরিমানে প্রয়োজনীয় খনিজের ভাণ্ডার, যার মধ্যে কার্বন যৌগও রয়েছে.

বহু বিশেষজ্ঞই ভয় পাচ্ছেন যে, আন্টার্কটিকা নিয়ে যুদ্ধ, যা ভবিষ্যতে শুরু হতে পারে, তাতে চিনের স্টেশন বাড়তি একটা যুক্তি হয়ে দাঁড়াতে পারে, চিনের দিক থেকে এখানের সম্পদের বিষয়ে দাবী করার জন্য. এটা সত্যি যে, বর্তমানে উপস্থিত চুক্তি অনুযায়ী, যার সঙ্গে চিনও ১৯৮৩ সালে সামিল হয়েছে, কোন রকমের আন্টার্কটিকায় করা কাজই এই রকম কোন আঞ্চলিক সার্বভৌমত্বের দাবী ঘোষণার, সমর্থনের বা রদ করার জন্য করা যাবে না আর এই চুক্তি থাকাকালীণ কোন রকমের সার্বভৌম অধিকার সৃষ্টি করা যাবে না.