উন্নতিশীল দেশ গুলিকে সহায়তা নিয়ে ডেভিড ক্যামেরনের মন্ত্রীসভার পরিকল্পনা ঘিরে গ্রেট ব্রিটেনে এক স্ক্যান্ডালের আগুন জ্বলে উঠতে শুরু করেছে. বোমা ফাটার মতো প্রভাব ফেলেছে একটা খবর, যে ২০১৪ সালে ব্রিটেনের অর্থ সাহায্যের বৃহত্তম প্রাপক হতে চলেছে পাকিস্তান. ব্রিটেনের রাজনীতিবিদদের অসন্তোষ এই করণেই হয়েছে যে, দক্ষিণ এশিয়ার সর্ব বৃহত্ মুসলিম রাষ্ট্র, তাঁদের মতে গণতান্ত্রিক সংস্কার সাধন ও চরমপন্থী ইসলামের প্রসার মোকাবিলার জন্য আশা পূরণে অসমর্থ হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের মন্ত্রীসভার উপরে বহুল পরিমানে আক্রমণ উন্নতিশীল দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক বিষয়ে শুরু হওয়ার কারণ হয়েছে পার্লামেন্ট সদস্যদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নির্বাচন কমিটির একটি রিপোর্ট. এই স্ক্যান্ডালের কেন্দ্রে পড়েছে পাকিস্তান, যাদের ২০১৪- ২০১৫ সালে ব্রিটেন থেকে পাওয়া অর্থ সাহায্যের বিষয়ে উন্নতিশীল দেশ গুলির মধ্যে প্রথম স্থানে রাখা হচ্ছে”.

এই কমিটির প্রধান স্যার ম্যালকম ব্রুসের কথামতো, পাকিস্তানকে প্রায় দ্বিগুণ সাহায্য বৃদ্ধি করা দিয়ে ব্রিটেনের মন্ত্রীসভা প্রমাণ করতে চেয়েছে যে তারা পাকিস্তানের সরকারকে এই অর্থ দিচ্ছে গণতান্ত্রিক সংস্কার করার জন্য ও চরমপন্থার সঙ্গে লড়াই করার জন্য. এই দেয় অর্থের প্রায় অর্ধেক পরিকল্পনা করা হয়েছে শিক্ষামূলক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য, যা এই দেশে চরমপন্থী ইসলামের ধারণা সম্প্রসারণের পরিপন্থী হবে.

কিন্তু যেমন দেখা গিয়েছে যে, ব্রিটেনের সহায়তা থেকে ফলপ্রসূতা ইসলামাবাদের জন্য খুবই কম. ক্যামেরনের মন্ত্রীসভার সমালোচকরা সেই বিষয়েই জোর দিয়েছেন যে, লন্ডনের থেকে গণতন্ত্র রক্ষার পরিকল্পনার জন্য সাহায্য করা হলেও আরও বেশী করেই পাকিস্তানের নাগরিকরা তৈরী রয়েছেন দেশে ঐস্লামিক আইন ও ঐস্লামিক শৃঙ্খলা চালু করার বিষয়ে.

ব্রিটিশ কাউন্সিলের জনমত গ্রহণের তথ্য অনুযায়ী, শুধু শতকরা ২৪ ভাগ মতামত দেওয়া পাকিস্তানের লোক, যাদের বয়স ১৮ থেকে ২৯এর মধ্যে, তারা গণতান্ত্রিক উন্নয়নের পক্ষে বলে নিজেদের মনে করেন. একই সময়ে শতকরা ৩৮ ভাগ এই ধরনের লোক চান দেশে শরিয়তের আইন চালু হোক. তাদের মতে তাহলে ক্ষমতার উচ্চ প্রকোষ্ঠে দুর্নীতি কমবে ও তার ফলশ্রুতি হিসাবে স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিস্থিতি ভাল হবে. এর থেকে কিছু কম পাকিস্তানের লোক – শতকরা ৩২ ভাগ – অন্য ধরনের শক্ত হাতের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করছেন – তারা চান দেশের সমস্ত ক্ষমতা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হোক. তাই সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“বিশেষ করে প্যারাডক্স হয়েছে পাকিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার ও সহায়তার খরচ বেড়ে যাওয়া, যা করা হয়েছে ব্রিটেনের বাজেট বরাদ্দ কমার পরিপ্রেক্ষিতে. ডেভিড ক্যামেরনের সমালোচকরা মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন যে, প্রধান প্রাপক দেশের নাগরিকদের মধ্যে মাত্র শতকরা এক শতাংশ লোক কর দিয়ে থাকেন অথবা একেবারেই কোনও কর দেন না. আর দেশের কোষাগারে শুধু তারাই অর্থ দিতে পারছেন না, যারা দিনে এক ডলারের কম রোজগার করে থাকেন, এমন নয়, দিচ্ছেন না তারাও, যাদের বলা হয়ে থাকে দেশের ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক উচ্চ কোটির লোক, আর তারাই অধিকাংশ. পাকিস্তানের সমস্যা একেবারে ডুবিয়ে দেওয়ার মতো. আর সেই দেশ বাস্তবেই তীক্ষ্ণ সমালোচনার জন্য সহজ লক্ষ্য হয়েছে”.

কিন্তু ব্রিটেনের প্রাতিষ্ঠানিক অসন্তোষ বেড়ে চললেও, ব্রিটেন পাকিস্তানের সহায়তা করার পরিকল্পনায় অর্থ সাহায্য বাড়িয়েই চলেছে, যাতে এই দেশের উন্নতিকে নিজেদের কাজে লাগানো চলে. কারণ শেষমেষ, “যে তেল ঢালে, সেই নাচ দেখে থাকে”.