৭-৮ তারিখে জার্মানীতে কার্যকরী সফরে যাওয়ার আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি জার্মানীর বৃহত্তম রেডিও টেলিভিশন কোম্পানী এআরডি সংস্থার সাংবাদিককে একটি সাক্ষাত্কার দিয়েছেন. কথার সময়ে রাশিয়া- জার্মানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক, সাইপ্রাসের আর্থ-বিনিয়োগ সঙ্কটের পরিণাম, ইউরো মুদ্রার প্রসঙ্গে বেঠিক বিষয়, মস্কোর সিরিয়া সম্বন্ধে অবস্থান এই সব নিয়ে প্রশ্নোত্তর হয়েছিল.

সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে রুশ রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে উল্লেখ করে বলেছেন

“প্রয়োজন হল অবিলম্বে দুই পক্ষ থেকেই যুদ্ধ বন্ধ করা ও অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করা. আমাদের বলা হচ্ছে: “রাশিয়া আসাদকে অস্ত্র দিচ্ছে”. কিন্তু, প্রথমতঃ, কোন রকমের নিষেধ নেই কর্মরত আইন সঙ্গত সরকারকে অস্ত্র পাঠানোর. আর দ্বিতীয়তঃ হল শুধু সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশ গুলির বিমানবন্দর দিয়েই আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সাড়ে তিন হাজার টন অস্ত্র ও রসদ পাঠানো হয়েছে. আরও একবার উল্লেখ করতে চাই যে, আন্তর্জাতিক আইনে নিয়ম রয়েছে, যা অনুযায়ী অস্ত্র সরবরাহ সেই সমস্ত গোষ্ঠীকে করা যেতে পারে না, যারা কোন এক বা অন্য দেশে সশস্ত্র ভাবে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে চায়. এই নিয়ম বর্তমানে কাজ করছে, তা কেউই রদ করে নি. বলা হয়ে থাকে যে, আসাদ নিজের দেশের নাগরিকদের সাথেই যুদ্ধ করছে – কিন্তু আসলে কথা হচ্ছে বিরোধীদের মদ্যে সশস্ত্র অংশেরই”.

পরে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করে বলেছেন:

“আমি এই নিয়ে প্রকাশ্যে আগেও বলেছি ও আরও একবার আপনাদের কাছে আমাদের অবস্থান বলতে চাই. এখানে এমন করার দরকার নেই যাতে আসাদ আজ সরে যায়, যা আমাদের সহকর্মীরা আজ প্রস্তাব করছেন, আর আগামী কাল ঠিক করা যাবে, এটা দিয়ে কি করা হবে. আমাদের পশ্চিমের সহকর্মীরা এই রকম অনেক দেশেই করে দেখেছেন. আর এবারে বোধগম্য হচ্ছে না যে, লিবিয়া কোথায় যাবে, ইতিমধ্যেই সেই দেশ তিনটি ভাগে বাস্তবে ভাগ হয়ে গিয়েছে. আমরা চা না যে, সিরিয়াতেও এই ধরনের পরিস্থিতি হোক, সেই রকমের জটিল, যা আজ হয়েছে ইরাকে, ইয়েমেনে এখনও অবধি চলছে, ইত্যাদি.

তাই আমাদের অবস্থান এই রকমই যে, সকলকে আলোচনার টেবিলে বসানো দরকার, যাতে সমস্ত একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়া পক্ষ নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় আসে কি করে তাদের স্বার্থ রক্ষা সম্ভব হবে, আর কি ধরনের অংশ তারা দেশের ভবিষ্যত নিয়ন্ত্রণে নেবে. আর পরে আন্তর্জাতিক সমাজের গ্যারান্টি সাপেক্ষে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার দিকে এগিয়ে যেতে হবে.

প্রসঙ্গতঃ বলা যেতে পারে যে, জেনেভা সম্মেলনে এই বিষয়েই সমঝোতা হয়েছিল, আমাদের পশ্চিমের সহকর্মীরা এই ধরনের সমঝোতা ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছেন.

আমরা মনে করতে পারি, যে সকলের জন্য গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তের জন্যই জোর দিয়ে কাজ করা দরকার. কিছুদিন আগে আমাদের কাছে এসেছিলেন ফ্রান্স প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি মাননীয় অল্যান্দ. তাঁর কয়েকটি আগ্রহোদ্দীপক আর আমার দৃষ্টিকোণ থেকে খুবই বাস্তবায়ন করার মতো ধারণা রয়েছে, কিন্তু এটা নিয়ে কূটনীতিবিদদের কাজ করা দরকার. আমরা তৈরী আছি এই গুলিকে সমর্থন করার জন্য. এই সবই বাস্তবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে”.

এটা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের জার্মান টেলিভিশন কোম্পানী এআরডি সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাত্কারের একটা অংশ.