সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ মনে করে দেশে বিরোধ শান্তি নিয়ে কথা বলার অর্থ হয় না.

“শান্তিপূর্ণ সমাধান পরে কখনও আর হবে না”, - ঘোষণা করেছেন কায়রো শহরে সিরিয়ার জাতীয় বৈপ্লবিক ও বিরোধী জোটের দপ্তরের প্রধান জাবর আশ-সুফী. – আমরা একেবারে সমূলে পরিবর্তন করতে চাইছি, আর তা করার জন্য বর্তমানের প্রশাসন, তাদের সমস্ত কাঠামো, প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি নিয়ে নেতৃত্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হতে বাধ্য. “আমরা আর জেনেভা ঘোষণার থেকে বিচার করছি না”, - যোগ করেছেন এই আশ-সুফী. একই সময়ে তিনি আবার উল্লেখ করেছেন যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের মধ্যে, আর তাদের মধ্যে সশস্ত্র জঙ্গীরাও রয়েছে, যারা একে অপরের সঙ্গে বিরোধে মত্ত, যা বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন ঘটার পরে নিজেদের মধ্যেই লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে.

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, আশ- সুফী বিরোধীদের মধ্যে সম্পর্কের বিষয়ে খুবই আশাবাদী, কারণ তাদের মধ্যে লড়াই এখনই বেঁধে গিয়েছে. তাহলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার কি দরকার আছে? আর সিরিয়ার এই বিরোধ কি কোন একটা সময়ে সকলের সঙ্গে সকলের যুদ্ধে পরিণত হবে না?

রাশিয়ার “জাতীয় প্রতিরক্ষা” নামের জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“সিরিয়ার বিদ্রোহীদের প্রধান লক্ষ্য – এটা বাশার আসাদকে হঠানোর. আর সেই লক্ষ্যের সামনে সমস্ত আভ্যন্তরীণ বিরোধ, যা কোন সন্দেহই নেই যে, তাদের নিজেদের মধ্যে রয়েছে, তা আপাততঃ গৌণ হয়েই রয়েছে. যদি তাদের পক্ষে সিরিয়ার সামরিক বাহিনীকে গৃহযুদ্ধের সময়ে জয় করা সম্ভবও হয়, তাহলে তাদের ভেতরের বিরোধ বেরিয়ে পড়বে আর পরিস্থিতি তখন এই দেশে হবে বর্তমানের লিবিয়ার মতোই”.

তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, বিভিন্ন বিরোধী পক্ষের মধ্যে লড়াই যতদিন পর্যন্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি নিজের আসনে রয়েছেন, ততদিন এটা থাকবে আলাদা নানা অধ্যায়ে.

এই মর্মে অন্য ধরনের মত পোষণ করেন প্যালেস্টাইনের রাজনীতিবিদ তৌফিক জারদ, তিনি বলেছেন:

“সিরিয়ার তথাকথিত বিরোধী পক্ষ নিজেদের বিরুদ্ধেই দাঁড়িয়ে রয়েছে. তাদের বিভিন্ন কাঠামো ও গোষ্ঠীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব একেবারে গভীরে প্রবেশ করেছে. আর এই সবের কারণ হল যে, সেখানে একেবারেই উল্টো মতের লোকরা রয়েছে. কি করে একই মঞ্চে উগ্রপন্থী মুসলমান ও কমিউনিস্টরা থাকতে পারে, সুযোগ সন্ধানীদের সঙ্গে সত্ লোকরা কি করে জোট বাঁধে (যদিও আমি সন্দেহ করি যে, সেখানে কোন সত্ লোক আছে বলে)? আর এদের সকলকেই সিরিয়ার জাতীয় জোটের সভায় এক করার চেষ্টা হয়েছে, সেখানে একটাই প্রশ্ন – সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ে দেওয়া কাতার রাষ্ট্রের অর্থের কতটা কে পাবে”?

পর্যবেক্ষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, শেষ অবধি ঘটনা যে দিকেই গড়ায় না কেন, সিরিয়ার সঙ্কটে যারা বাইরে থেকে উসকানি দিয়েছে, তাদের দরকার হবে যাতে এই দেশে পরিস্থিতি থাকে সবচেয়ে বেশী রকমের উত্তেজনা পূর্ণ. আর বর্তমানের বিরোধকে, যা আসাদের বিরুদ্ধে জঙ্গীরা আজ করছে, তা যেন পরে নিজেদের মধ্যেই সকলের সঙ্গে সকলের লড়াইতে পরিণত হয়. এতে বাইরের দেশের লোকদের কোনও ঝামেলা নেই. আরবের দেশ গুলি ও তাদের পশ্চিমের সহকর্মীদের খালি দরকার আসাদের পতন. তার থেকেও বেশী দরকার আঞ্চলিক রাজনীতির মানচিত্র থেকে সিরিয়াকে দীর্ঘ দিনের জন্যই হঠিয়ে দেওয়ার, তাই ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“এটা যেমন এক দিক থেকে, তেমনই অন্যদিক থেকে পশ্চিমের রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হল যে, ঐস্লামিক চরমপন্থীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে আসা বন্ধ করা. আর তার জন্য মাঝেমাঝেই বর্তমানের সিরিয়ার যুদ্ধের মতো ঘটনা তৈরী করা, যাতে এই এলাকায় জমে ওঠা বাড়তি শক্তি এখানেই থেকে যায়, তা এর বাইরে যেন না যায়. সিরিয়ার ভবিষ্যত নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা খুবই করুণ হতে চলেছে, যদি বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন হয়, তা হলে. প্রসঙ্গতঃ, এমনকি যদি এটা নাও ঘটে, তবুও দেশ এতটাই ধ্বংস করা হয়েছে, যে তা আবার পুনরুদ্ধার করতে বহু বছর লেগে যাবে”.

বোঝাই যাচ্ছে যে, দামাস্কাসের পক্ষে এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে মাথাব্যথা করার উপায় থাকবে না. আর এই ক্ষেত্রে তাদের বর্তমানের ইজিপ্টের সঙ্গে তুলনা করা সম্ভব, যাদের, যদি এটা বলা যায়, তাহলে বলা দরকার যে সৌভাগ্য ছিল যে, সেখানে এই বিপ্লব ঘটে গেছে প্রায় কোন রকমের ক্ষয় ক্ষতি ছাড়াই. তা স্বত্ত্বেও, রাজনৈতিক মাত্স্যন্যায়ে তলিয়ে গিয়ে ও আসন্ন অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের সামনে দাঁড়িয়ে কায়রো কয়েকটি হাতে গোনা মাসের মধ্যে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে ও আরব লীগের দেশ গুলির মধ্যে নিজেদের অগ্রণীর ভূমিকা হারিয়ে ফেলেছে. সিরিয়ার সঙ্গেও সেই রকমের কিছু একটা হচ্ছে. আর এই এলাকার কোন দেশ সেই খালি হওয়া আসন কিনে নিতে চাইছে – তা সকলেরই জানা রয়েছে.