কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে শুরু করেছে. আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার গুপ্তচর বিভাগের তথ্য অনুযায়ী উত্তর কোরিয়া নিজেদের পূর্ব উপকূলে “মুসুদান” নামের ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা এনে জড়ো করেছে. আজ ৪ঠা এপ্রিল কোরিয়ার জাতীয় ফৌজের তরফ থেকে এক ঘোষণা করা হয়েছে. তাতে বলা হয়েছে যে, পিয়ংইয়ং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিরুদ্ধে “আধুনিক পারমানবিক আঘাত হানার অস্ত্র” দিয়ে কাজ করার জন্য প্রস্তুত. সামরিক বাহিনীর অপারেশন “ইতিমধ্যেই সমর্থিত” হয়েছে বলে ঘোষণায় আরও বলা হয়েছে.

সিওলে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে, রকেট এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া, পিয়ংইয়ং এর তরফ থেকে আরও একটা উল্টো দিকে চলার লক্ষণ. আসলে কথা হচ্ছে শুধু একটা রকেট নিয়েই. আর তার উড়ান হবে জয়ন্তী উপলক্ষে. এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি উত্তর কোরিয়া দেশের একটি প্রধান জাতীয় অনুষ্ঠান পালন করে থাকে – প্রজাতন্ত্রের স্থপতি কিম ইর সেনের আরও একটি জন্মদিন.

কিন্তু পেন্টাগনে এই রকেট সরিয়ে নিয়ে যাওয়া ব্যাপারটাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট লেসলি জে ম্যাক নায়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা ইনস্টিটিউটে পেন্টাগনের প্রধান চাক হেগেল বক্তৃতা দিয়ে গিয়ে এর আগে বলেছেন যে, “ভুল শুধু একবারই করা যেতে পারে, আর আমি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হতে চাই না, যে সেই রকমের ভুল করেছে”. তিনি আরও বলেছেন:

“আজ ওদের কাছে পারমানবিক অস্ত্র রয়েছে, তাদের আজ সেই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে. তারা যুদ্ধের হুঙ্কার বৃদ্ধি করেছে, আর তাদের বিগত কিছু সপ্তাহ ধরে কাজকর্ম আমাদের জোটের সহকর্মী জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য সরাসরি ও স্পষ্ট বিপদে পরিণত হয়েছে. তারা একই সঙ্গে আমাদের বিরুদ্ধে ও আমাদের গুয়াম দ্বীপপূঞ্জে সামরিক ঘাঁটির বিরুদ্ধে সরাসরি হুমকি দিয়েছে”.

“মুসুদান” রকেট ব্যবস্থা প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার ওড়ার ক্ষমতা রাখে. সেই গুলি শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার লক্ষ্যের উপরেই আঘাত হানতে সক্ষম নয়, বরং জাপানের উপরেও আঘাত করতে পারে. এখানে সেই সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যেতে পারে না যে, সেই গুলি প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম দ্বীপপূঞ্জের উপরে আঘাত হানতে পারে. ২০০৯ সালে উত্তর কোরিয়া ৫০টি এই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করেছে, যা ২০১০ সালে পিয়ংইয়ং শহরে সামরিক মার্চ পাস্টের সময়ে দেখানো হয়েছিল. কিন্তু সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন যে, এই সমস্ত ব্যবস্থা এখনও যথেষ্ট রকম ঠিকমতো বানানো হয় নি ও পরীক্ষাও করে দেখা হয় নি.

তা স্বত্ত্বেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে গুয়াম দ্বীপপূঞ্জে চলমান রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা “থাড” বসাতে চলেছে. দক্ষিণ কোরিয়াতে ইতিমধ্যেই দুটি যুদ্ধ জাহাজ পাঠানো হয়েছে, যার উপরে রয়েছে রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে দক্ষিণে আলাদা ব্যাটালিয়ন পাঠিয়েছে রাসায়নিক, জৈব ও তেজস্ক্রিয় বিকীরণ প্রতিরক্ষা বাহিনী থেকে, যাদের সেখান থেকে ২০০৪ সালে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল.

উত্তর এরই মধ্যে ঘোষণা করেছে যে, তারা সীমান্তবর্তী স্বাধীন বাণিজ্য এলাকা কেসন থেকে ৫৩ হাজার উত্তর কোরিয়ার শ্রমিককে ফিরিয়ে নিয়ে আসবে. বুধবার থেকে সেখানে দক্ষিণ কোরিয়ার কুশলীদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না. এই ধরনের ব্যবস্থা শুধু উত্তর কোরিয়ার অর্থনৈতিক সমস্যাকেই তীক্ষ্ণ করবে, বলে ঘোষণা করেছেন তেসরা এপ্রিল পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্রী ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড. তিনি বলেছেন:

“উত্তর কোরিয়া কেসন কমপ্লেক্সে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কুশলীদের এই প্রথমবারই আসতে নিষেধ করছে না. এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা সব সময়েই ও প্রাথমিক ভাবে উত্তর কোরিয়ার উপরেই প্রভাব ফেলে ও তাদের অর্থনীতিতেই বাড়তি আয়ের রাস্তা বন্ধ হয়. যদি বিশেষ করে দেখা হয় যে, কত বেশী উত্তর কোরিয়ার মানুষ সেখানে কাজ করছেন. আমরা মনে করি যে, এই ধরনের কাজ সেই দেশের আরও একঘরে হয়ে যাওয়ার কারণ হয়”.

পিয়ংইয়ং ইওনবেন পারমানবিক কেন্দ্রে রিয়্যাক্টর চালু করার কাজ শুরু করেছে. তা কয়েক সপ্তাহ পরেই কাজ করতে শুরু করতে পারে – যত পরে মনে করা হয়েছিল, তার থেকে অনেক আগেই. এই রিয়্যাক্টর, যা পরমাণু বোমার জন্য প্লুটোনিয়াম সমৃদ্ধ করতে পারে, তা বন্ধ করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক চুক্তির বিনিময়ে ২০০৭ সালে. আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী ইওনবেন কেন্দ্রে কম করে হলেও আট হাজার জ্বালানী হওয়ার উপযুক্ত পারমানবিক শলাকা রয়েছে. এটা আটটা বোমা বানানোর জন্য যথেষ্ট.