শ্রীলঙ্কায় গৃহযুদ্ধের সময়ে হওয়া সামরিক অপরাধের তদন্ত, যে বিষয়ে দেশের বর্তমান রাজনীতিবিদরা জড়িত থাকতে পারেন বলে সন্দেহ আছে, তা শুরু হওয়া উচিত্ বর্তমানের পুনর্বাসন উপমন্ত্রী বিনায়কমুর্তি মুরলীথরনকে দিয়ে, যিনি বেশী প্রখ্যাত “লেফটেন্যান্ট করুণা” নামেই. এই ঘোষণা করেছে মানবাধিকার রক্ষা পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ. আপাততঃ শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সময়ে করুণার ভূমিকার ও তাঁর পদ্ধতি, যা তিনি ব্যবহার করেছিলেন, তা গোপন রয়েছে. আর মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের কাছে তাঁর প্রতি কম প্রশ্ন উদ্রেক হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীসভায় পুনর্বাসন দপ্তরের উপমন্ত্রীর পদে আসীন বিনায়কমুর্তি মুরলীথরন আহ্বান করেছেন এই দ্বীপে ইতিহাসের বিচার মার্কা কিছু একটা শুরু করার, তিনি দাবী করেছেন যে, বর্তমানের বিরোধী পক্ষের তামিল জাতীয় জোটের নেতাদের সামরিক অপরাধের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত করার দরকার রয়েছে, যা করেছিল তামিল জঙ্গীরা.

প্যারাডক্স এটাই যে, বিনায়কমুর্তি মুরলীথরন আগে “লেফটেন্যান্ট করুণা” বলেই বিখ্যাত ছিলেন. তিনি ছিলেন “এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী” ও “তামিল ইলম টাইগারদের” নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের “ডান হাত”. লেফটেন্যান্ট করুণা দ্বীপের পূর্ব উপকূল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ করতেন ও এই খান দিয়েই এসেছে “টাইগারদের” জন্য অস্ত্র, খাদ্য ও ওষুধপত্রের সরবরাহ. ২০০৪ সালে তিনি সরকারের পক্ষে যোগ দেন. এই বিচ্ছেদই অনেক দিক থেকে ২০০৯ সালে “টাইগারদের” ধ্বংস হওয়াকে আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল. তাই তোমিন বলেছেন:

“মুরলীথরন ও “এক নম্বর সন্ত্রাসবাদী” প্রভাকরণের মধ্যে কি বিবাদ হয়েছিল, তা প্রমাণ সাপেক্ষ ভাবে জানা নেই, কিন্তু এখন আর গোপনীয় নয় যে, “টাইগারদের” জন্য নিজেদের নিদারুণ ঘরোয়া বিবাদের আগে পর্যন্ত তাঁরা দুজনেই একই পদ্ধতিতে কাজ করেছেন. হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংস্থার রিপোর্টে ১৯৯০ সালের কয়েকটি ঘটনার কথা বলা হয়েছে, যখন লেফটেন্যান্ট করুণার নেতৃত্বে জঙ্গী দলের লোকরা বন্দী হওয়া সিংহলী সৈনিক ও শান্তিপ্রিয় মানুষদের উপরে বীভত্স অত্যাচার করে মেরেছিল, আর তারই সঙ্গে বাচ্চাদের ব্যবহার করেছিল শ্রীলঙ্কার সরকারি ফৌজের সঙ্গে যুদ্ধে.

কিন্তু আজ শ্রীলঙ্কার সরকার এই বিষয়ে আর কথা বলতে চায় না. কারণ যখন “টাইগারদের” ধ্বংস করা হয়েছিল, তখন লেফটেন্যান্ট করুণা ছিল বিজয়ীদের গোষ্ঠীতেই. আর শ্রীলঙ্কার সরকার, সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, ঠিক করেছে “বিজয়ীদের বিচার হয় না” এই নীতি অনুযায়ী কাজ করতে চায়”.

তারই মধ্যে “ভরসার যোগ্য নয়” এমন তামিল রাজনীতিবিদদের খুঁজে দেখার প্রস্তাব লেফটেন্যান্ট করুণার মুখে অন্তত ন্যায়সঙ্গত ও নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক বিচারের ধারণার উপরে একটা নির্মম কৌতুক বলেই মনে হতে পারে. “তাঁর নেতৃত্বে তামিল ইলম টাইগারদের দল সেই সময়ের সবচেয়ে পাশবিক কাজকর্মের সঙ্গেই যুক্ত ছিল. সুতরাং বহু প্রতীক্ষিত সামরিক অপরাধের তদন্ত শ্রীলঙ্কায় তাঁকে দিয়েই শুরু হওয়া দরকার”, - ঘোষণা করেছেন এশিয়াতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংস্থার ডিরেক্টর ব্রেড অ্যাডামস. আর তিনি যোগ করেছেন: “করুণার এই সামরিক অপরাধের বিষয়ে তদন্তের আহ্বান সেই সময়ের পাশবিক কাজকর্মে তাঁর ভূমিকাকে বিচারের ক্ষেত্রে যেন মনোযোগ নষ্ট করে না দেয়”.

আপাততঃ যতক্ষণ বিগত “টাইগারদের” মুখ্য প্রাক্তন নেতা প্রভাকরণের সঙ্গী নিজে থেকেই অভিযোগ করার জন্য দায়ভার নিজের উপরে তুলে নিয়েছেন, ততক্ষণ শ্রীলঙ্কা সেই ঘটনার দিকে এক পাও এগোবে না, যা কিছুদিন আগের রক্তাক্ত ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কে সমস্ত দাঁড়ি কমা ঠিক জায়গায় বসাতে পারে.