রাশিয়াতে মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব প্রাপ্তদের কাছে অভিযোগের সংখ্যা কমে গিয়েছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন মানবাধিকার রক্ষী কর্মীদের প্রধান ভ্লাদিমির লুকিন. তিনি সাংবাদিকদের কাছে নিজের বাত্সরিক রিপোর্ট পেশ করেছেন আর বলেছেন যে, তাঁকে উদ্দেশ্য করে লেখা অর্ধেকের বেশী আবেদন ছিল নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা খর্বের কারণে. এই প্রসঙ্গে সবচেয়ে কম অভিযোগ ছিল রাজনৈতিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে বলে. আর বিবেক ও ধর্ম পালনের স্বাধীনতা নিয়ে অভিযোগের সংখ্যা কমেছে শতকরা দশ ভাগ. এই ভাবেই রাশিয়ার মানবাধিকার রক্ষা সংক্রান্ত পরিস্থিতি সব মিলিয়ে যথেষ্ট স্থিতিশীল বলেই মনে করেছেন ভ্লাদিমির লুকিন.

ভ্লাদিমির লুকিনের ২০১২ সাল সংক্রান্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, সামাজিক অধিকার খর্ব হওয়া নিয়ে নাগরিকদের অভিযোগের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় নি. তাই খুবই সাবধানে, কিন্তু ভিত্তি আছে বলেই সিদ্ধান্ত করা যেতে পারে যে, রাষ্ট্রের পক্ষে অর্থনৈতিক সঙ্কটের নেতিবাচক পরিণাম সামলানো সম্ভব হয়েছে, বলেছেন ভ্লাদিমির লুকিন. এর ফলে বাস্তব সমস্যা কোন রকমের সামাজিক আন্দোলন বা বিক্ষোভ সৃষ্টি করে নি. একই সঙ্গে মানবাধিকার রক্ষার দায়িত্ব প্রাপ্ত প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, গত বছরে সমাজে রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজকর্ম সক্রিয় হতে দেখা গিয়েছে. মিটিং ও অন্যান্য নানা রকমের কাজকর্ম, অবশ্যই দায়িত্ব প্রাপ্তদের দপ্তরের কাজ বাড়িয়ে দিয়েছে. কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত, যতক্ষণ লোকে আইনের মধ্যেই কাজকর্ম করছেন, তাঁদের দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে অংশগ্রহণকে ইতিবাচক বলেই ভাবা উচিত্ বলে মনে করেন ভ্লাদিমির লুকিন. তিনি বলেছেন:

“২০১১ সালের ডিসেম্বর মাসের পরে যখন আমাদের দেশে রাজনৈতিক সক্রিয়তা বৃদ্ধি পেয়েছিল ও নাগরিকদের তরফ থেকে গণ সমাবেশের ও মিছিলের আধিক্য দেখা গিয়েছিল, যা তাঁদের স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়া সম্বন্ধে দাবীর সঙ্গেই যুক্ত ছিল, তখন আমরা দ্রুত এই ধরনের নতুন বিষয়ের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করেছিলাম ও মিছিল- সমাবেশে আমাদের তরফ থেকে পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছিলাম. তাঁদের কাজ যেমন, যাঁরা শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিরত ছিলেন, তাঁদের পক্ষ থেকে, তেমনই, যাঁরা এই সব জায়গায় অংশ নিয়েছেন, তাঁরাও ইতিবাচক ভাবেই স্বাগত জানিয়েছেন. এখানে উল্লেখ করা দরকার হবে যে, বেশীর ভাগ মিছিলই বাস্তবে আদর্শ হয়েছে. অন্তত অন্যান্য দেশের তুলনায় যথেষ্ট ভাল করেই, যাদের এই বিষয়ে অনেক বেশী অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের থেকে. আমি মনে করি যে, আমরা দেশের সংবিধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারার ক্ষেত্রে সামনের দিকেই এক বড় পদক্ষেপ নিয়েছি”.

মানবাধিকার রক্ষা কর্মীর কথায়, গত বছরের সারা সময় ধরেই প্রায় পঞ্চাশ হাজার আবেদন পাওয়া গিয়েছে বিভিন্ন এলাকার মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের নামে, তার মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার - অভিযোগ. রাশিয়ার লোকদের আগের মতই তাদের নিজেদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও অধিকার খর্ব হওয়া উদ্বিগ্ন করে তোলে, আর প্রাথমিক ভাবে লোকে দেশের আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়েই খুশী নয়, তাই ভ্লাদিমির লুকিন ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“অর্ধেকের বেশী, ৫৬ শতাংশ আবেদন, যা স্থানীয় মানবাধিকার রক্ষা কর্মীদের ঠিকানায় পাঠানো হয়েছে – তা আদালতের বিচার সংক্রান্ত অভিযোগ. প্রায় একের চতুর্থাংশ অভিযোগ – দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা কর্মীদের অন্যায় কাজকর্মের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তা প্রথম বার এই ধরনের লোকদের সঙ্গে সংস্পর্শে আসার সময় থেকে এমনকি জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার সময় অবধি. এটা খুবই গুরুতর সমস্যা. যদি রাজনৈতিক অভিযোগ নিয়ে কথা বলতে হয়, তবে তার সংখ্যা খুবই কম – প্রায় শতকরা দুই শতাংশ. কিন্তু আমরা এই বিষয়ের প্রতি খুবই মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য রেখেছি আর চেষ্টা করেছি আমাদের দায়িত্ব ও ক্ষমতার মধ্যেই যথাসাধ্য সেগুলির সমাধান করার”.

গত সপ্তাহে ভ্লাদিমির লুকিন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে তাঁর রিপোর্ট পেশ করেছেন. তখন মানবাধিকার রক্ষা কর্মী নিজে মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন বর্তমানে দেশে হওয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গুলির উপরে গণ হারে পরীক্ষা করা সম্বন্ধে, যা এখন সারা দেশ জুড়েই হচ্ছে. রাষ্ট্রপতি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এই ঘটনা নিয়ে ও অনুরোধ করেছেন মানবাধিকার রক্ষার বিষয়ে দায়িত্ব প্রাপ্তদের এটা সম্বন্ধে ভাল করে বুঝে নিতে ও নিজেদের সিদ্ধান্তে পৌঁছতে.