আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই কাতার রাষ্ট্রে আমীরশাহীর নেতৃত্বের সঙ্গে দোহা শহরে তালিবান আন্দোলনের প্রতিনিধিত্ব মূলক দপ্তর খোলার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন. কাবুলের এই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে যাতে আফগানিস্তানের প্রশাসন ও তালিবদের মধ্যে আলোচনার প্রক্রিয়া একটি অনড় বিন্দু থেকে অগ্রসর হতে পারে, এই রকমই মনে করেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন.

যদি আগে আফগানিস্তানের নেতৃত্ব একেবারেই আপত্তি করে থেকে থাকে কোন রকমের তালিব প্রতিনিধি দপ্তর দেশের বাইরে খোলা নিয়ে, তবে এখন কাবুলে শান্তি প্রস্তাবে অনিচ্ছুক প্রতিপক্ষের দিকে পদক্ষেপ নিতে তৈরী হতে দেখা যাচ্ছে – তালিবানের মিশন কাতারে খোলার বিষয়ে সম্মতি দিয়ে.

এই ধরনের মিশন খোলার বিষয়ে আফগানিস্তানের পক্ষ থেকে দুটি নীতিগত ভাবে বাধ্যতা মূলক শর্ত দেওয়া হচ্ছে. প্রথমতঃ, তালিবদের প্রতিনিধি দপ্তর দোহাতে প্রশাসন দেখছে শুধু কাবুল ও তালিবদের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার ক্ষেত্র হিসাবেই. “কোন রকমের অন্য লক্ষ্য সাধনের জন্য এই দপ্তর যেন ব্যবহার না করা হয়”, - সাবধান করে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি কারজাইয়ের সরকারি মুখপাত্র আইমল ফৈজী. অর্থাত্ তালিবদের দপ্তর খোলা যেন এক রকমের তালিবান আন্দোলনের কাতার রাষ্ট্রে দূতাবাসে পরিণত না হয়.

দ্বিতীয়তঃ, আইমল ফৈজী যেমন ব্যাখ্যা করেছেন যে, তালিবদের সঙ্গে আলোচনার সঙ্গে “প্রধান পক্ষ হওয়া উচিত্ আফগানিস্তানের প্রশাসনের পক্ষ থেকে আফগানিস্তানে শান্তির বিষয়ে সর্ব্বোচ্চ সভা”. কাবুলে খুবই সংবেদনশীল ভাবে সেই ধারণাকে দেখা হচ্ছে যে, তালিবদের সঙ্গে আফগানিস্তানের প্রশাসনের দিকে পিঠ ফিরিয়ে কোন তৃতীয় পক্ষ আলোচনা করবে. এখানে সেই অর্থে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও নিয়ে কথা হচ্ছে, যাদের নিয়ে কিছু সময় ধরে আফগানিস্তানের প্রশাসনের সন্দেহ হয়েছে যে তারা তালিবানের সঙ্গে স্থিতিশীল দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ তৈরী করে ফেলেছে.

তালিবদের সঙ্গে আলোচনার প্রক্রিয়াকে এক অনড় বিন্দু থেকে সরানোর উদ্দেশ্য নিয়ে কাবুল থেকে আঞ্চলিক ভাবে ওজনদার রাষ্ট্রদ্বয় – কাতার ও পাকিস্তানের সাহায্য চাওয়া হয়েছে, যারা আফগানিস্তানের সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে. এই দিয়েই বোঝা উচিত্ হবে যে, কেন কারজাইয়ের প্রশাসন দোহাতে তালিবদের মিশন খোলার সম্মতি দিয়েছে.

তালিবদের দপ্তর কাতারে খোলার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনও. কিন্তু ওয়াশিংটন থেকে এই দপ্তরের ভূমিকা দেখা হয়েছে ঠিক কি ভাবে – তা এখনও স্পষ্ট নয়. কিন্তু এই তালিবদের অবস্থান কিন্তু সব থেকে বোধগম্য. “তালিবান আন্দোলনের মিশন কাতার রাষ্ট্রে খোলা কারজাইয়ের সঙ্গে কোন রকমের সম্পর্ক রাখে না”, - ঘোষণা করেছে তালিবান আন্দোলনের প্রতিনিধি জাবিবুল্লা মুজাহেদ. তার কথামতো, তালিবরা আফগানিস্তানের ভবিষ্যত নিয়ে তৃতীয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য তৈরী আছে, তবে আলোচনার সহকর্মী হিসাবে কাবুলের “অন্যের হাতের পুতুল” প্রশাসনকে দেখতে রাজী নয়. এর আগে আমেরিকার উচ্চ পদস্থ উত্স থেকে জানানো হয়েছিল যে, তালিবরা প্রায় তিরিশটি রাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে.

তাহলেই দেখতে পাচ্ছি যে, এই আন্দোলনের প্রতিনিধিরা আগের মতই আফগানিস্তানের প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনায় তৈরী নয়, আর আফগানিস্তানের ভবিষ্যত নিয়ে সমঝোতায় আসতে চাইছে তৃতীয় দেশ গুলির সঙ্গেই. আর আমেরিকা, মনে হচ্ছে, এই অবস্থানের প্রতি কম করে হলেও, বুঝতে পারা দিয়ে স্বীকার করে নিয়েছে. এর মানে হল যে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিষয়েরই অপেক্ষা থাকবে, যা কারজাই চান না.