বিশ্বে রাশিয়ার হেলিকপ্টারের চাহিদা বাড়ছে. ইরাক ইতিমধ্যেই হওয়া সমরাস্ত্র চুক্তিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছে মি- ২৮এন (রাতের শিকারী) হেলিকপ্টারের সংখ্যা বৃদ্ধি করে ৪০টি অবধি কেনার. আর ২৪টি মি – ১৭১ হেলিকপ্টার রাশিয়া থেকে কিনছে পেরু.

পেরুর সামরিক দপ্তর পরিকল্পনা করেছে রাশিয়ার পরিবহন মূলক মি- ১৭১ হেলিকপ্টার আপিরুমাক নদীর উপত্যকা, এনে ও মন্তারো নামের জায়গায় ব্যবহার করবে সন্ত্রাসবাদী ও মাদক পাচার চক্রের বিরুদ্ধে. এই ধরনের হেলিকপ্টার ২৬ জন যাত্রী অথবা ২ টন ওজন পর্যন্ত মাল বয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম”. তাই রাশিয়া আর স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ পর্যবেক্ষক জার্নালের প্রধান সম্পাদক ম্যাক্সিম পিয়াদুশকিন বলেছেন:

“মি- ১৭১ হেলিকপ্টার সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল যে, এই গুলি খুবই পরিচিত মি- ৮ হেলিকপ্টারের পরিবর্তিত রূপ. আর এটা রাশিয়ার হেলিকপ্টার নামের হোল্ডিং কোম্পানীর বলা যেতে পারে বেস্ট সেলার হয়েছে. এটা বেশ সফল হেলিকপ্টার, যা নিয়মিত ভাবেই আধুনিকীকরণ করা হচ্ছে ও বিশ্বের নানা জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে. লাতিন আমেরিকা, সম্ভবতঃ, শেষ এলাকা, যেখানে এই হেলিকপ্টার আপাততঃ খুব একটা ভাল করে পরিচিত হয় নি. এই মি- ১৭১ এর সবচেয়ে কাছের পশ্চিমের প্রতিদ্বন্দ্বী হল “ইউরোকপ্টার” ও “সুপার পুমা”, যেগুলি কয়েক গুণ বেশী দামী অথচ তাদের গুণমান একই ধরনের তুলনার যোগ্য. যদি মি – ২৮ হেলিকপ্টার নেওয়া হয়, তবে ইরাকের সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে, তা বোধহয় হবে প্রথম সরবরাহ করা. মি – ১৭১ এর তুলনায় এই হেলিকপ্টার যুদ্ধ করার ও আঘাত হানার জন্য, যা তৈরী করা হয়েছে মাত্র কিছুদিন আগেই, কিন্তু তা ইতিমধ্যেই রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর কাছে রয়েছে”.

মি – ২৮ হেলিকপ্টারের সাথে “এন” অক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, কারণ তার অর্থ হল যে, এই হেলিকপ্টার রাত্রে যুদ্ধ করার জন্য তৈরী. তার প্রধান অস্ত্র – নিয়ন্ত্রণ যোগ্য রকেট ও তিরিশ মিলিমিটারের কামান. এই হেলিকপ্টারের ভিতরে রাডার রয়েছে, যা রাতে ও দিনে ভূমিতে ও আকাশে চলমান যন্ত্র লক্ষ্য করতে সক্ষম হয় ও তার উপরে লক্ষ্য করে আঘাত হানার সুযোগ করে দেয়. হেলিকপ্টারের চারপাশের অবস্থা তিনটি রঙীণ মনিটরে দেখতে পাওয়া যায়, যা রয়েছে চালক ও অপারেটরের কাছে. প্রসঙ্গতঃ এই স্ক্রীণের উপরে দেখতে পাওয়া যায় রঙীণ ত্রৈমাত্রিক ছবি, যেমন কম্পিউটার গেমসে দেখা যায়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার মিডিয়া হোল্ডিং “এরবেকা ডেইলির” বিশেষজ্ঞ সের্গেই স্তারিকভ বলেছেন:

“রাতে দেখতে পাওয়ার মতো স্টেশন সমেত এই হেলিকপ্টার দশ কিলোমিটার দূর পর্যন্ত সমস্ত লক্ষ্যকে নির্দিষ্ট করতে সক্ষম. রাত্রিতে রকেট নিক্ষেপ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করে থাকে “তোর” নামের ব্যবস্থা. মি-২৮এন ২০০৬ সালের পর থেকে একটানা তৈরী করা হচ্ছে. এই যন্ত্র ইতিমধ্যেই নিজের ক্ষমতার মর্যাদা আদায় করে নিতে পেরেছে. কেন ইরাক এই বিষয়ে নিজেদের বায়না দিয়েছে, তা বলা কঠিন. সম্ভবতঃ সেই কারণে যে, সেখানে বিমান বন্দর গুলি অপ্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে, অনেক জায়গাই খুব খারাপ অবস্থায়, আর রাশিয়ার যন্ত্রপাতি ব্যবহারের বিষয়ে খুব একটা খুঁতখুঁতে ধরনের নয়. আর সেই সব কাজ, যা ইরাকের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রেখেছে, তার জন্য এটা একটা সেরা সমাধানের মাধ্যম”.

এয়ারো-ইন্ডিয়া-২০১৩ প্রদর্শনীতে বাঙ্গালোর শহরে রাশিয়া এই যন্ত্রের আরও আধুনিকীকরণ করা মডেল রেখেছিল – আঘাত হানার – মি-২৮-এনএ হেলিকপ্টার. এই মডেল নির্দিষ্ট করা হয়েছিল ট্যাঙ্ক ও অন্যান্য সাঁজোয়া গাড়ীর থেকে সক্রিয়ভাবে গোলা গুলি বর্ষণের সময়ে নির্দিষ্ট করে গোলা ও রকেট বর্ষণ করতে পারে ও আবার আকাশে খুব দ্রুত না চলা লক্ষ্যেও আঘাত হানতে পারে, তাছাড়া শত্রু পক্ষের সেনাবাহিনীর উপরেও আঘাত করতে সক্ষম.

ভারত, বলা যেতে পারে অন্যান্য সব দেশের চেয়ে বেশী করেই রাশিয়ার এই ঘুরপাক খাওয়া ডানা ওয়ালা যন্ত্রের সবরকমের মডেল মি- ৮ থেকে মি – ১৭ অবধি সব কটিকেই জানে. বর্তমানে ভারতে নানা বিমান বন্দরে প্রায় ২০০টি এই ধরনের যন্ত্র রয়েছে, তাও এই ধরনের যন্ত্রের চাহিদা কমছে না. শেষ চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়ার পক্ষ থেকে ভারতকে দেওয়া হতে চলেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জন্য ১২ টি মি- ১২বি৫ হেলিকপ্টার. এর মধ্যে তিনটি হবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের বহনের উপযুক্ত ও ৯টি হেলিকপ্টার সমুদ্রতীরের সুরক্ষার জন্য, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতায় পড়ে.