উত্তর কোরিয়া ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিওনান-পুক্তো প্রদেশের ইওনবেন পারমানবিক গবেষণা কেন্দ্র আবার করে চালু করছে. উত্তর কোরিয়ার প্রধান পারমানবিক শক্তি দপ্তরের প্রতিনিধি যেমন ঘোষণায় বলেছেন যে, সেখানে সবকটি রিয়্যাক্টর চালু করা হয়েছে ও সমস্ত জায়গাতেই কাজ শুরু করা হয়েছে. তার মধ্যে – ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কারখানা ও পাঁচ মেগাওয়াট শক্তি সম্পন্ন গ্র্যাফাইট রিয়্যাক্টর রয়েছে. কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকার পারমানবিক সমস্যা সংক্রান্ত আলোচনার পরে কয়েক বছর আগে এই রিয়্যাক্টর সমঝোতা অনুযায়ী বন্ধ করে রাখা হয়েছিল.

ইওনবেন – এটি উত্তর কোরিয়ার একমাত্র কেন্দ্র, যেখানে সারিক প্লুটোনিয়াম তৈরী করা সম্ভব হয়. পিয়ংইয়ং ২০০৭ সালে ইওনবেন রিয়্যাক্টর তার পরের দিনই বন্ধ করে দিয়েছিল, যেদিন তাদের দেশে প্রথম ৫০ হাজার টন আলকাতরা এসে পৌঁছেছিল. তা রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও দক্ষিণ কোরিয়ার খরচে আসতে শুরু করেছিল, যার বিনিময়ে পারমানবিক পরিকল্পনা বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছিল.

এখন ইওনবেন নিয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হতে পারে. জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া ইতিমধ্যেই একাধিকবার তাদের পারমানবিক পরিকল্পনা সক্রিয় করার হুমকি দিয়েছে, যাতে পশ্চিম থেকে জ্বালানী ও খাদ্য সাহায্য পাওয়া যায়. কিন্তু আজ এটা হচ্ছে দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে.

পিয়ংইয়ং খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে. স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই এলাকায় আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত ভাবে “বাচ্চা ঈগল” নামের সামরিক প্রশিক্ষণও কোন রকমের সহায়তা করছে না. তাতে অংশ নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক বোমারু বিমান বি- ২ ও বি- ৫২. উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চেন ঈন ২৯শে মার্চ স্ট্র্যাটেজিক রকেট বাহিনীর প্রযুক্তি গত প্রস্তুতি ও তা দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাদেশের সামরিক ঘাঁটি গুলি, যেমন গুয়াম, হাওয়াই দ্বীপপূঞ্জে, আর তারই সঙ্গে দক্ষিণ কোরিয়ার উপরে আঘাত হানার পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেছেন – যদি প্রতিপক্ষের কাছ থেকে কোন রকমের প্ররোচনা করা হয়, তাহলে. পিয়ংইয়ং একই সঙ্গে ঘোষণা করেছে যে, তারা ১৯৫৩ সালে করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি প্রত্যাহার করছে এবং পরবর্তী কালে সিওলের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্ত সমস্যা সামরিক সময়ের উপযুক্ত ভাবেই সমাধান করবে. উত্তর কোরিয়ার পার্লামেন্ট ১লা এপ্রিল “পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারী রাষ্ট্র হিসাবে অবস্থানকে সংঘবদ্ধ করা নিয়ে এক নির্দেশ গ্রহণ করেছে”. আর তারই সঙ্গে গ্রহণ করেছে রাষ্ট্রীয় মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ পরিকল্পনাও. এই সব আইনের বিশদ বিবরণ এখনও জানা যায় নি. কিন্তু এখানে উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক শক্তি বৃদ্ধি ও একই সময়ে মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই অস্ত্র পৌঁছে দেওয়া আরও উন্নত করার চেষ্টার বিষয়ে স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে.

কিছু রুশ বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে, পিয়ংইয়ং থেকে করা নতুন হুমকির পিছনে শুধু চাল ও জ্বালানী পাওয়ার প্রয়াস দেখতে চাওয়া হলে, তা অতি সরলীকরণ হয়ে যাবে. এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক কনস্তানতিন আসমোলভ বলেছেন:

“এই ধরনের একটা প্রসারিত মত রয়েছে যে, এই ভাবে পিয়ংইয়ং নিজেদের দিকে সাহায্য করতে আকর্ষণ করছে. আমি বোধহয় বলব যে, যখন পিয়ংইয়ং এর উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে ও তারা এই রকমের “একঘরে দেশ” আর থাকবে না, তখন তাদের আর কোন রকমের সাহায্যের প্রয়োজন হবে না. তাদের জন্য প্রধান হল – তাদের বর্তমানের অবস্থান পরিবর্তন করা”.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞরা সন্দেহ করছেন যে, উত্তর আসন্ন কয়েক বছরের মধ্যে রকেট তৈরী করতে পারবে বলে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অবধি পারমানবিক অস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হবে. কিন্তু একই সময়ে কোরিয়ার সমুদ্র তীরের দিকে পাঠানো হয়েছে রকেট বাহী যুদ্ধ জাহাজ ফিটজেরাল্ড. তাতে রয়েছে রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এজিস ও লক্ষ্য করার ব্যবস্থা, আর এই ব্যবস্থা দিয়ে ব্যালিস্টিক রকেট ধ্বংস করা সম্ভব.