রাষ্ট্রসঙ্ঘের “সহস্রাব্দের নতুন লক্ষ্য” পরিকল্পনার প্রথম অধ্যায় শেষ হওয়ার জন্য বাকী রয়েছে ১০০০ দিন. ২০০০ সালে এক সিদ্ধান্ত ঘোষণা গ্রহণ করে একটি মুখ্য কাজ বলে বলা হয়েছিল চরম নিঃস্বতা অতিক্রম করাকে – সেই পরিস্থিতিকে, যখন বিশ্বের বহু কোটি মানুষ দারিদ্র সীমার নীচে বাস করছেন.

২০১৫ সালের ৫ই এপ্রিল এই শতাব্দীর সবচেয়ে প্রধান সমস্যা গুলির সঙ্গে সবচেয়ে প্রসারিত ভাবে লড়াইয়ের ফলাফল বুঝতে পারা উচিত্ হবে সমগ্র মানব সমাজের. ২০০০ সালে সেই গুলিকে নির্দিষ্ট করেছিলেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য দেশ গুলি. বেশীর ভাগ দেশের নেতারা সমঝোতায় এসেছিলেন যে, তাঁরা নিজেদের দেশে নিঃস্বতা ও বুভুক্ষার মাত্রা দ্বিগুণ কমিয়ে আনবেন, পরিবেশ পরিবর্তনের মোকাবিলা করবেন, সংক্রামক রোগের সাথে লড়াই করবেন, স্বাস্থ্য সম্মত নিকাশী ব্যবস্থার অভাব ও পরিশ্রুত পানীয় জলের অভাবের সুরাহা করবেন, শিক্ষার প্রসার ঘটাবেন ও মহিলাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করবেন. একটি প্রধান সামাজিক দলিল হয়েছে নিঃস্বতা ও বুভুক্ষার বিরুদ্ধে লড়াই. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক বান কী মুনের তথ্য অনুযায়ী বিগত দশ বছরে ষাট কোটি মানুষ চরম নিঃস্বতার থেকে রেহাই পেয়েছেন, যার অর্থ হল তা অর্ধেক কমে গিয়েছে. এই তথ্য, খুবই বাড়িয়ে বলা, বলে মনে করেছেন স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা ও পূর্বাভাস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার গুসেভ. তিনি বিশ্বাস করেন যে, “সবচেয়ে ইতিবাচক পূর্বাভাস অনুযায়ী আজ বিশ্বের অর্ধেক লোক অনাহারে রয়েছেন”. এই সমস্যার কি করে সমাধান করা সম্ভব? তাই আলেকজান্ডার গুসেভ বলেছেন:

“আমাদের দেশ গুলির রসদ, অর্থনীতির রসদ, এই সব সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম, আমরা সমস্ত অনাহারে থাকা মানুষদেরই খাবার দিতে পারি – এটা বোধগম্য. কিন্তু এখানে একই মেডেলের অপর পিঠ রয়েছে. ধনী দেশ গুলি খুব একটা চায় না তাদের সম্পদের ভাগ দিতে. যদি রাশিয়া প্রজাতন্ত্র সম্বন্ধে বলা হয়, তবে আমরা সাহায্য করে থাকি. যদি বিশ্বে কিছু একটা ঘটে, আমরা যথেষ্ট দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে থাকি. আমাদের সহায়তা সরাসরি দেশ গুলির কাছেই পাঠানো হয়. আমরা যেমন শষ্য দিয়ে সহায়তা করে থাকি, তেমনই খাওয়ার জিনিষও দিই, আমরা কম্বল দিয়ে থাকি আরও এই ধরনের কাজ করে থাকি. রাশিয়া একটা বা অন্য দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ের সময়ে ত্রাণ কর্মে সাহায্য করে থাকে”.

আগের মতই সবচেয়ে গরীব এলাকা রয়ে গিয়েছে সাহেল, আফ্রিকার শৃঙ্গ ও মধ্য এশিয়া এলাকা. বিগত সময়ে কালো মহাদেশে আমাদের দেশ মকুব করে দিয়েছে ২ হাজার কোটি ডলারের ঋণ. এখন সমঝোতা তৈরী হচ্ছে আরও প্রায় ৫০ কোটি ডলার ঋণ মকুব করে দেওয়ার. এখানে কথা হচ্ছে বেনিন, মাদাগাস্কার ও জাম্বিয়ার. এছাড়া রাশিয়া সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে উন্নতিশীল দেশ গুলির শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করার জন্য.বর্তমানে রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে প্রায় দশ হাজার ছাত্র আফ্রিকা থেকে এসে পড়াশোনা করছে, তাদের মধ্যে অর্ধেক বিনামূল্যে. আমাদের দেশের পক্ষ থেকে দাতব্য হিসাবে চাঁদা দেওয়া হয়ে থাকে বিশ্ব খাদ্য পরিকল্পনাতে আর তা পৌঁছেছে ইথিওপিয়া, সোমালি, গিনি প্রজাতন্ত্র, কেনিয়া ও জিবুতি দেশে. আন্তর্জাতিক নাগরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার পক্ষ থেকে রাশিয়ার খাবার পৌঁছেছে আইভরি কোস্ট রাষ্ট্রেও.

অর্থনৈতিক ভাবে, খাদ্য ও পরিবেশ সংক্রান্ত সঙ্কট “সহস্রাব্দের উন্নতির লক্ষ্য” অর্জনের প্রক্রিয়াকে কঠিন করে দিয়েছে. কিন্তু বিশ্ব সমাজ তা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করছে. এখন নতুন করে ২০১৫ সালের পরে বিশ্বের উন্নয়নের পরিকল্পনা তৈরী করা হচ্ছে. তা কি রকমের হবে – এখনও বোঝা যাচ্ছে না. কিন্তু একটা ব্যাপারই স্পষ্ট যে, তাতে বিশ্বের সঙ্কটের পরবর্তী সময়ের বাস্তবের বিবেচনা করার দরকার পড়বে, সামাজিক বিষয়ে সঙ্কট পরবর্তী সময়ে পুনরুদ্ধারের প্রসঙ্গ ও এই ক্ষেত্রে উন্নতিশীল দেশ গুলির সফল অভিজ্ঞতাকেও কাজে লাগাতে হবে.