ভারতের সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অফ ইন্ডিয়া শনিবারে জানিয়েছে যে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি দুই দিনের সফরে দুবাই গিয়েছেন. এই সফর ব্যক্তিগত কারণে করা হয়েছে ও তা অবাক কাণ্ড বলে মনে হতেই পারত – কারণ পাকিস্তানে এখন সারা দেশ জোড়া নির্বাচনের মাত্র এক মাসের কিছু সময় বেশী দেরী রয়েছে. নির্বাচন হওয়ার কথা ১১ই মে. কিন্তু একটা ওজনদার কারণ রয়েছে যে, কেন দেশের রাষ্ট্রপতি ও পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পাকিস্তান পিপলস্ পার্টির নেতা দেশে ভোটের প্রচারের একেবারে চরম সময়ে দেশ ছেড়ে গিয়েছেন.

এক সপ্তাহ আগে দুবাই চলে গিয়েছে আসিফ আলি জারদারি ও পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ছেলে বিলাবল ভুট্টো জারদারি. তখন সংবাদ মাধ্যম খুবই সক্রিয়ভাবে আলোচনা করা হয়েছিল বিলাবলের সঙ্গে তাঁর পিতা আসিফ আলি জারদারি ও পিতার ভগ্নী ফরিয়াল তালপারের ঝগড়া নিয়ে. আর যদিও সরকারি মুখপাত্র ও দলের লোকরা খুবই জোর দিয়ে কোন রকমের গণ্ডগোলের কথা অস্বীকার করেছিলেন, তবুও যা ঘটান সেটাই রয়ে যাচ্ছে: পিপিপি দলের উদীয়মান তারকা, যার নামের সঙ্গে এই দলের ক্ষমতায় থাকার আশা ব্যক্ত করা হয়েছে, সেই দেশ ছেড়ে দলের জন্য এক সঙ্কটময় মুহূর্তে চলে গিয়েছে, এই কথাই উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, পিপিপি দলের অবস্থা সুবিধার নয়. যদিও বর্তমানের পার্লামেন্টের গঠন অনুযায়ী, যেখানে এই দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিল ও যাদের পক্ষে এই দেশের ইতিহাসে প্রথমবার মেয়াদের শেষ পর্যন্ত লোকসভা চালু রাখা সম্ভব হয়েছে, তাদের নিয়ে বর্তমানে খুব কম সংখ্যক পর্যবেক্ষকই নির্বাচনে সাফল্যের সম্ভাবনার বাজী ধরবেন. বিলাবল অন্তত পাকিস্তানের যুব সমাজের একাংশের উপরে নির্বাচনের বিষয়ে প্রভাব ফেলতে পারত, কিন্তু মনে হয় যে, তাঁর পিতার ক্ষমতায় থাকার সময়ে ক্ষমতার অলিন্দে জারদারি –ভুট্টো পরিবারের অন্য একটি শাখা বেশী করেই প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে, আর সেটা – তাঁর ২০০৭ সালে নিহত মায়ের আত্মীয়রা নয়, বরং পিতার আত্মীয়রাই”.

পিসি ও ভাইপোর মধ্যে বিবাদ সবচেয়ে বেশী চরমে উঠেছিল, যখন প্রায় একমাস আগে সিন্ধ প্রদেশের থেকে দেশের লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের সময়ে – বিলাবল, তাঁদেরই পরিবারের ঘাঁটি বলে চিহ্নিত এই প্রদেশের থেকে এক দুশো ব্যক্তির তালিকা তৈরী করে দিয়েছিলেন, কিন্তু এই কাজে বাধা এসেছিল পিসি ফরিয়াল তালপারের কাছ থেকেই, তিনি খুবই ছোট করে ছেঁটে দিয়েছিলেন এই তালিকা.

এই পরিস্থিতিতে পর্যবেক্ষকরা বেশী করেই প্রশ্ন করে চলেছেন: যদি পিপিপি দলের হাল এত খারাপ হয়, তবে কে পরবর্তী?

বোধহয়, নিজের মতো করে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে চেয়েছিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি পারভেজ মুশারফ, যিনি কয়েকদিন আগেই দেশে ফিরেছেন প্রায় পাঁচ বছর বাইরে থাকার পরে. দেখাই যাচ্ছে যে, নিজের ফিরে আসার সঙ্গে তিনি ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা জুড়ে দিয়েছেন – যদিও অনেক বেশী বাস্তব মনে হয়েছে তাঁর আদালতে ওঠার সম্ভাবনা, যেখানে তাঁর রাষ্ট্রপতিত্বের সময় নিয়ে অনেক মামলা অপেক্ষা করে আছে. তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“সব দেখে শুনে মনে হয়েছে মুশারফের হিসাব মেলে নি. ২৪শে মার্চ যে করাচী শহরে তিনি এসে পৌঁছেছেন, সেখানে তাঁর জন্য ছিল এক ঠাণ্ডা স্বাগত. বহু হাজার লোকের সমাগমের জায়গায় মাত্র কয়েকশো সমর্থকই তাঁর জন্য অপেক্ষা করেছে. তার ওপরে আবার, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে প্রাক্তন অভিযোগ গুলি নাকচ হয় নি, আর এই শুক্রবারে আদালত তাঁর জামিনের মেয়াদ বৃদ্ধি করে তদন্তের সময়ে দেশ ছেড়ে যেতে নিষেধ করেছে.

পারভেজ মুশারফের সঙ্গে বিশেষ করে খারাপ ঘটনা ঘটেছে যখন তিনি শুক্রবারে আদালত থেকে বেরিয়ে ছিলেন, তখন তাঁকে লক্ষ্য করে জুতো ছোঁড়া হয়েছিল. যদিও প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির গায়ে সে জুতো লাগে নি, তবুও এই ঘটনা প্রকাশ্যে হয়েছে: সব মুসলমানের জন্যই জুতোর বাড়ী সবচেয়ে বড় অপমান”.

বহু পর্যবেক্ষকের মতেই পারভেজ মুশারফ ও তাঁর নেতৃত্বে সারা পাকিস্তান মুসলিম লীগ নির্বাচনে যা আশা করতে পারে, তা মাত্র একটি আসন, আর সেটাও শুধু মুশারফের নিজেই.

অন্য এক নেতা, যিনি এই কিছুদিন আগেও সরকার বিরোধী ঢেউয়ের মাথায় চড়ে আশা করেছিলেন ক্ষমতায় আসতে পারেন ভেবে, সেই প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা ইমরান খানেরও বর্তমানে বিগত কয়েক মাস ধরে জনপ্রিয়তা অনেকটাই কমে গিয়েছে. তার ওপরে ইমরান খানের দৈনন্দিন রাজনৈতিক কাজ কর্মের অভিজ্ঞতাও বেশী নয়, তাই পর্যবেক্ষকরা তাঁর জন্য যা সবচেয়ে বেশী সম্ভাব্য বলে মনে করছেন, তা হল পাকিস্তানের লোকসভায় বিরোধী দলের নেতৃত্ব পাওয়া. এই কথা বলেছেন রুশ বিশেষজ্ঞ.

তাহলেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, সব বাদ দিতে শুরু করে পাওয়া গেল যে, ক্ষমতা হস্তান্তর পাকিস্তানে হতে চলেছে এক ঐতিহ্যবাহী দল থেকে অন্য আরেক ঐতিহ্যবাহী দল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের নেতৃত্বে পাকিস্তান মুসলিম লীগের(এন) হাতেই.

অন্তত, নওয়াজ শরিফের উদ্দেশ্যে অভিযোগের দীর্ঘদিন ব্যাপী কালো দাগ থাকা স্বত্ত্বেও বর্তমানের এই স্ক্যান্ডাল তাঁর জন্যেই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, সুবিধার হয়েছে.