রাশিয়ার শহর ইকাতেরিনবুর্গ এবারে লড়াই করতে নেমেছে, যাতে নিজেদের কাছে বিশ্ব সামগ্রিক প্রদর্শনী “এক্সপো – ২০২০” নিয়ে আসা যায়. এই প্রদর্শনীর সংজ্ঞা, প্রতিদ্বন্দ্বী ও রাশিয়ার বিজয়ের সম্ভাবনা নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে উপ প্রধানমন্ত্রী ও রাশিয়ার আবেদনের সমর্থনের জন্য আয়োজক কমিটির প্রধান আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বিশদ করে বলেছেন.

এক্সপো আয়োজন করার অধিকারের জন্য লড়াই অলিম্পিকের আয়োজনের জন্য লড়াইয়ের চেয়ে কোন অংশে কম নয়. এর জন্য ভোটে অংশ নিয়ে থাকে ১৬২টি রাষ্ট্র, তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সদস্য দেশের চেয়ে সামান্য কিছু মাত্র কম. আর ইকাতেরিনবুর্গের সঙ্গে এই অধিকার পাওয়ার জন্য লড়াই করছে খুবই গুরুতর প্রতিদ্বন্দ্বীরা: ব্রাজিলের সাও পাওলো, তুরস্কের বড় শহর ইজমির, বিখ্যাত পর্যটন ক্ষেত্র ও বিনিয়োগ কেন্দ্র দুবাই আর থাইল্যান্ডের পুরনো রাজধানী - অযোধ্যা. আর্কাদি দ্ভরকোভিচ এক্সপো এত জনপ্রিয় কেন তা ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

“কেন এটা অলিম্পিক বা বিশ্বকাপের চেয়ে কম ইন্টারেস্টিং নয় কেন? প্রদর্শনী কোন বড় ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মতো, তিন - চার সপ্তাহ ধরেই চলে না, বরং চলে কয়েক মাস ধরেই, বাস্তবে ছয় মাস. এই সময়ের মধ্যে শুধু কয়েক হাজারই নয়, বরং লক্ষ অথবা কোটি সমান মানুষ এখানে আসতে পারেন. আর রাশিয়ার জন্য এই সুযোগ ও এমন করা যাতে রাশিয়ার শহর বহু লক্ষ মানুষের জন্য আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে – এটা তার জন্য একটা খুব বড় সুযোগ, যা ছেড়ে দেওয়া খুবই দুঃখের ব্যাপার হবে”.

১৮৫১ সালে প্রথম বিশ্ব প্রদর্শনী আয়োজিত হয়েছিল লন্ডনে. তার পরে থেকেই রাশিয়া এক্সপো হলেই তাতে নিয়মিত ভাবে যোগ দিয়ে এসেছে, তবে কখনও এই প্রদর্শনী নিজেদের দেশে আয়োজন করতে পারে নি. আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বলেছেন, আগামী প্রদর্শনীর মূল বিষয় হতে চলেছে "বিশ্বময় বুদ্ধি", অর্থাত্ বিভিন্ন সভ্যতার বুদ্ধির ক্ষমতা যোগ করা. তিনি আরও বলেছেন:

“"বিশ্বময় বুদ্ধি" নামের এই বিষয়টি আমরাই আমাদের সহকর্মীদের কাছে প্রস্তাব করেছি, আমরা মনে করি যে, তা সকলের জন্যই আগ্রহের হবে. বিশেষ করে আমরা জোর দিয়েছি উন্নতিশীল দেশ গুলির উপরেই, সেই সব দেশ যাদের আয় কম, তাদেরকেই আমরা বিশ্ব প্রদর্শনী আন্দোলনের সঙ্গে জুড়তে চাইছি, সেই সব দেশের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে, তাদের আমাদের কক্ষপথে নিয়ে আসার জন্য. আমরা এর জন্য বিশেষ শক্তি প্রয়োগ করছি, এখানে উন্নতিশীল দেশ গুলিকে সহায়তা করার জন্য বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করা হবে যার আর্থিক পরিমান ১২ কোটি ৫০ লক্ষ ইউরো অর্থের সমান”.

আবেদন পত্রকে অগ্রগতি দেওয়ার অর্থ হল – আর্থিক খরচ ও প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগের প্রশ্ন. এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা যেতে পারত সেন্ট পিটার্সবার্গ অথবা মস্কো শহরেও. কিন্তু বেছে নেওয়া হয়েছে এর প্রাদেশিক কেন্দ্রকেই. রাজধানীর কিছু কম সুবিধা নেই, কিন্তু অসুবিধাও যথেষ্ট, তাই দ্ভরকোভিচ বলেছেন:

“মনে হয় সবই রয়েছে, কিন্তু চলাচল করা ও অতিথিদের থাকার বন্দোবস্ত করা এত কষ্টসাধ্য যে, প্রায় ক্ষেত্রেই দেশ গুলি রাজধানীতে এক্সপো আয়োজন করার ব্যাপার বাদ দিয়ে থাকে. দ্বিতীয় কারণ – এটা যে কোন দেশের ভিতরের অন্যান্য জীবন কেন্দ্র গুলিকেই উন্নত করে তোলার ইচ্ছা. আমরা সব চেয়ে বড় মাপের ও নানা ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি – তা খেলাধূলার, রাজনৈতিক – দেশের নানা শহরেই. রাশিয়া- ইউরোপীয় সঙ্ঘ শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে যেমন খাবারভস্ক শহরে, তেমনই খান্তি-মানসিস্কে, আবার দন –তীরের- রস্তভ শহরেও. ব্রিক শীর্ষ সম্মেলন, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলন হয়েছে ইকাতেরিনবুর্গ শহরে. আর আমরা এই সব অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্যে দিয়ে এই সব জায়গার পরিকাঠামোর সমূহ উন্নতি করছি, এই সব শহরকে আরও ভাল করছি”.

ইকাতেরিনবুর্গ – একটি বড় পনেরো লক্ষ মানুষের শহর, যার শিল্প, সংস্কৃতি, বৈজ্ঞানিক ও শিক্ষার একটা ঐতিহ্য রয়েছে.

এই প্রদর্শনী আয়োজনের জন্য সরাসরি খরচ পড়বে ছয় হাজার কোটি রুবল বা প্রায় দুশো কোটি ডলারের সমান. সেই অর্থও সন্দেহ নেই যে, পাওয়া যাবে খুঁজে.

মার্চ মাসের শেষে রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী ব্যুরোর প্রতিনিধি দল, যাঁরা তার সাধারণ সম্পাদক ভিনসেন্ট লোস্সেরতালেস এর নেতৃত্বে এসেছিল, তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেছিলেন. দেশের রাষ্ট্রপতি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, যদি ইকাতেরিনবুর্গের সমর্থনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তবে রাশিয়ার প্রশাসন এই ব্যুরোর সমস্ত পরামর্শই পালন করবে.