রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বৈকাল হ্রদে এক বিরল পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছেন. বিশ্বের সবচেয়ে গভীর হ্রদের নীচে তাঁরা জলের নীচের ভূমিকম্প নির্ণয় করার স্টেশন বসিয়েছেন. এই স্টেশন থেকে পাওয়া তথ্য ভূমিকম্প শুরু হওয়ার বেশ কয়েক দিন আগেই পূর্বাভাস দিতে পারবে.

ভূপৃষ্ঠ থেকে দেড় কিলোমিটার নীচে ইস্পাতের খোলসে বন্দী এই স্টেশনের ভিতরে রাখা খুবই নির্দিষ্ট তথ্য নিরুপণে সক্ষম বৈদ্যুতিন যন্ত্র, পাওয়া সঙ্কেত গুলিকে বিশ্লেষণ করে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিতে পারে. এত গভীরে খুবই সামান্য রকমের বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের পরিবর্তনও এতে ধরা পড়ে.

রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর ভূপৃষ্ঠ পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানীরা পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্রের উল্লম্ব অংশের তথ্য বিচার করে ভূমিকম্পের পূর্বানুমান করা নিয়ে ধারণা তৈরী করেছেন. বৈকাল হ্রদে একটি পরীক্ষামূলক যন্ত্র তৈরী করা সম্ভব হয়েছে ও ২০০৭ সালে ভূমিকম্পের তিন দিন আগেই এই যন্ত্রে ধরা পড়েছিল বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের খুবই বড় রকমের পরিবর্তন. বিশেষ করে শক্তিশালী ভাবে তা দেখা গিয়েছিল ভূমিকম্প হওয়ার ১৫ ঘন্টা আগে. এই তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে বাস্তব পরিবর্তন ঘটেছে, এই কথা উল্লেখ করে ইরকুত্সক রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর নিকোলাই বুদনেভ বলেছেন:

“এখন আমরা জানি যে, এই ধরনের পরিবর্তন ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দিয়ে থাকে. প্রাথমিক ফলাফল পেয়ে, আমরা বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রে পরিমাপের বিষয়ে আরও জটিল ও ভাল মাত্রা সমেত যন্ত্র তৈরী করেছি. ২৬শে মার্চ এই যন্ত্র দীর্ঘদিন ধরে পরিমাপ করার জন্য আমরা স্থাপন করেছি. এটাই এই পরীক্ষার মূল অর্থ”.

এই কাজ করা হচ্ছে বৈকাল হ্রদের স্বচ্ছ জলে. কিন্তু এর ফলাফল অনেক বেশী প্রসারিত ভাবে ব্যবহার করা যায়, এই কথা বিশেষ করে জোর দিয়ে উল্লেখ করে বৈকাল হ্রদের গভীর জলে তড়িত্চুম্বক ক্ষেত্র নির্ণয় প্রকল্পের প্রধান ও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর ভূপৃষ্ঠ পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের কর্মী সের্গেই করতায়েভ বলেছেন:

“এই পদ্ধতি, যখন শেষ অবধি তৈরী হয়ে যাবে, তখন তা মহা সমুদ্রে নিয়ে যাওয়া চলবে, যাতে ভূমিকম্প ও ত্সুনামির পূর্বাভাস পাওয়া যাবে. কিন্তু ভূপৃষ্ঠে এটা কোন ভাবেই ব্যবহার করা যাবে না. বৈকাল সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তো তা হল যে, প্রতি বছরে তা কয়েক সেন্টিমিটার করে চওড়া হচ্ছে. সেই সব ভূমিকম্প, যা আমরা লক্ষ্য করতে পারছি, তা বৈকাল হ্রদ চওড়া হওয়ার সঙ্গেই যুক্ত. আমরা এই হ্রদের সবচেয়ে সক্রিয় জল তলের খাদের উপরেই কাজ করছি. এই যন্ত্র ৫০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধে সমস্ত ভূমিকম্পের আভাস দিতে পারে”.

জানাই আছে যে, ভূমিকম্প বহু সময় ধরেই তৈরী হতে থাকে. বৈজ্ঞানিকরা এর “প্রস্তুতি” পর্ব সম্বন্ধে অনেক তথ্য সংগ্রহ করতে পেরেছেন. এটা দীর্ঘ দিনের জন্য পূর্বাভাস দেওয়ার জন্য ভাল উপকরণ হয়েছে. কিন্তু এটা ভূমিকম্প সহ্য করতে সক্ষম এমন নির্মাণের বিষয়ে নির্দেশ ছাড়া আর কিছুই নয়. স্বল্প সময়ের জন্য পূর্বাভাস দেওয়া – সব থেকে কঠিন কাজ. তা বর্তমানে রাশিয়ার বিজ্ঞানীরা বৈকাল হ্রদে পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ণয় করছেন.