ছেলেমেয়েদের সন্ধ্যার পরে বাড়িতে থাকাই বাঞ্ছনীয়. দেখা যাচ্ছে, যে পারিবারিক নৈশভোজ বয়স, লিঙ্গ ও সমৃদ্ধির মান নির্বিশেষে সুফল দেয়. বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন. রাশিয়ার মনস্তত্ত্ববিদেরাও এর সঙ্গে একমত.

মানুষের জীবনে বয়ঃসন্ধিকালের মতো জটিল পর্যায় আর নেই. মনে হয়, কদিন আগেও ছেলেটা বাধ্য ছিল, শান্ত, আদুরে ছিল, মা-বাবার ও শিক্ষকের সব চাহিদা পূরণ করতো. কিন্তু একটা মুহুর্তে সবকিছু তালগোল পাকিয়ে যায়. পছন্দ-অপছন্দ বদলে যায়, নতুন নতুন বন্ধুর আবির্ভাব হয়, যাদের সম্পর্কে মা-বাবারা তেমন কিছু জানেন না, পড়াশোনা করার ইচ্ছা নিভে যায়.

নিজের সন্তানকে চিনতে পারছেন না? তাহলে বেশি ঘনঘন ছেলেমেয়েদের সাথে একসঙ্গে নৈশভোজ করুন. ওরা তাহলে খুশি থাকবে ও ব্যবহারও ভালো করবে – বলছেন ক্যানাডার বিজ্ঞানীরা. এই স্থিরবিশ্বাস আছে সেন্ট-পিটার্সবার্গের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মনস্তত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপিকা ওকসানা জাশিরিনস্কায়ারও.-

নৈশভোজ হয় সন্ধ্যায়. সন্ধ্যার পরে আমরা সবাই মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে যাই বিভিন্ন সমস্যা থেকে. কিন্তু কিশোর বা কিশোরীর পরিবারে যদি সুস্থ পারিবারিক পরিবেশ থাকে, তাহলে তারা উত্তেজনাকর অবস্থা থেকে মসৃনভাবে শান্ত হতে শেখে. কারণ তারা দ্যাখে, যে মাবাবা শান্ত হতে জানেন, বিভিন্ন সমস্যা থাকা সত্বেও তারা একে অপরের প্রতি যত্নশীল. তার নিজের জন্যও দিনভর জমা হওয়া উত্তেজনার প্রশমণের এটা আদর্শ পরিবেশ. এই অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়া মানে সত্যিকারের পরিপূর্ণ বিশ্রাম.

বিশেষজ্ঞের মতে, শান্ত পারিবারিক সন্ধ্যা কিশোরকিশোরীদের একাকীত্বের অনুভূতি থেকে মুক্তি দেয়, যা বয়ঃসন্ধিকালে বেশি জ্বালাতন করে. বড় শহরের অধিবাসী টিনএজারদের এক-তৃতীয়াংশ ঠিক মানসিক একাকীত্বেই ভোগে. অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তার কারণ – মা-বাবার সাথে কদাচিত মেলামেশা – বিজ্ঞানীরা এই বিষয়ে একমত. আমেরিকায় গবেষকরা একটি আগ্রহোদ্দীপক সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন, টিনএজাররা কতটা সময় সমবয়স্কদের সাথে কাটায় আর কতটা সময় মা-বাবার সাথে – সেটা তুলনা করে. তাদের সবাইকে পেজার দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে দিনের বিভিন্ন সময়ে তাদের মনস্তত্ত্ববিদদের প্রশ্নের চটজলদি উত্তর দেওয়ার দরকার ছিল, যে তারা এইমুহুর্তে কোথায় এবং কি করছে. দেখা গেল, যে টিনএজাররা সময়ের সিংহভাগ কাটায় সমপাঠী ও সমবয়সীদের সাথে(৫০%), ২০% সময় কাটায় তারা মাবাবার সাথে, বাকি ৩০% সময় তাদের নিজের জন্য খালি পড়ে থাকে.

এক কথায় বলতে গেলে, সম্মিলিত নৈশভোজ, সান্ধ্যভ্রমণ, কথাবার্তা – এই সবকিছুই দুই প্রজন্মের চিরকালীন মতদ্বন্দের সমাধান করার যাদুকাঠি.