ডারবান শহরে এ সপ্তাহে শেষ হলো ব্রিকস জোটের পঞ্চম শীর্ষ সম্মেলন। দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর নেতারা মন্দাবিরোধী তহবিল, ব্রিকস বানিজ্য পরিষদ গঠনে একমত হয়েছেন এবং জোটের ইতিহাসে প্রথমবারের মত শীর্ষ সম্মেলনের পরিধি বাড়িয়ে ব্রিকস-আফ্রিকা ফোরামে অংশ নেনরাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন শীর্ষ সম্মেলনের ফলাফলে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন যদিওব্রিকস উন্নয়ন ব্যাংক গঠনের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের সমাধান কোন নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না করেই স্থগিত রাখা হয়েছে।

ভারতের প্রধনমন্ত্রী মনমোহন সিং ব্রিকসে নিজের দেওয়া বক্তব্যে বলেন, বিগত পাঁচবছরে ব্রিকস জোটভুক্ত দেশগুলো একসারী উন্নয়ন সম্পন্ন করেছে এবং এখন নতুন শরিক সম্পর্ক প্রসারিত করার সময় এসেছে। বিগত পাঁচবছরে জোটের ঐক্যতা অনেক বেড়েছে আর সম্মেলন তা শুধু আলোচনার একটা প্লাটফর্মে পরিণত হয়েছে। বুধবার সম্মেলনের মূল পর্বে নেতারা ঘোষণা করেছেন যে, ব্রিকস বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের একটি অন্যতম উপকরণ হওয়া উচিত।

অর্থনৈতিক আকারের দিক থেকে বর্তমান বিশ্বের একটি বড় শক্তি ব্রিকস। অন্যন্য অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে পরিচিত দেশগুলোর থেকে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলোর সাথে অর্থনীতির উন্নয়ন সূচকের পার্থক্য হচ্ছে পাঁচ গুনেরও বেশি। ব্রিকস জোটের ব্যবসায়ি প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাতে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি একাধিকবার ওই পরিসংখ্যান উল্লেখ করেন। পুতিন বলেন, “তা সত্যিই খুশি হবার মতই সংবাদ। আফ্রিকায় পাঁচ সংখ্যা বিশেষ অর্থ বহন করছে। আফ্রিকা প্রাকৃতিক সম্পদের আধার এবং এখানে শুধু “বড় পাঁচ” এর মানে বিরাজ করেছে। দেখুন, ব্রিকস জোটও পাঁচটি রাষ্ট্র নিয়ে গঠিত। বিশ্ব অর্থনীতিতে যা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে। বিশ্বে সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে ব্রিকসভুক্ত দেশগুলো। "

ব্রাজিলের রাষ্ট্রপতি দিলমা রৌসেফ বলেন, আজকের দিনে উন্নত দেশগুলোতে যে সমস্যা বিরাজ করছে তা কোনভাবেই ব্রিকস জোটের উন্নয়নে বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। আর এ জন্য নতুন ও সৃজনশীল সিদ্ধান্ত বের করা দরকার যা আগামী উন্নয়ন নিশ্চত করবে। দক্ষিণ আফ্রিকায় অন্যতন একটি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করা হয় এবং তা হচ্ছে ব্রিকস বানিজ্য পরিষদ গঠন করা। এর উদ্দেশ্য হচ্ছে জোটভুক্ত দেশগুলোতে বড় বিনিয়োগ প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন করা। প্রকল্পে অংশগ্রহণকারীদের ভিত্তিতে পরিষদের গুরুত্ব যাচাই করা যাবে। এমনটি রেডিও রাশিয়াকে জানালেন শিল্প ও বানিজ্য চেম্বারের সভাপতি সেরগেই কাতিরিন। তিনি বলেন, “রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওই পরিষদে বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে অবকাঠামো, নতুন প্রযুক্তি ও মুদ্রা। রাশিয়া থেকে যারা পরিষদে যোদ দিচ্ছেন রাশিয়ার রেলপথ বিভাগের প্রধান ভ্লাদিমির ইয়াকুনিন, রসপ্রযুক্তির সেরগেই চেমেজোভ, ও বহিঃঅর্থনীতি বাংকের ভ্লাদিমির দিমিত্রিয়েভ। আমাকে এ কাজের সমন্বয়ক হিসেবে থাকতে বলা হয়েছে। হ্যাঁ, এ কাজ একদম সহজ হবে না। তবে প্রত্যেক অংশগ্রহণকারী বানিজ্য পরিষদে থাকার সিদ্ধান্ত জানানোর কারণে নিজের দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন।"

অন্য যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ডারবানে নেওয়া হয়েছে তা হচ্ছে মন্দাবিরোধী বিশেষ তহবিল গঠন করা। অর্থনৈতিক সংকটে কাজে লাগানোর জন্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের একটি রিজার্ভও গড়ে তোলা হবে। এমন কথাই জানালেন রাশিয়ার অর্থমন্ত্রী আনতোন সিলুয়ানোভ। ব্রিকস জোটের কোন একটি দেশ ওই অর্থ সরবরাহ করবে এবং অন্য কোন দেশের আর্থিক অবস্থা খারপ হলে তখন তা দেওয়া হবে। তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিকস উন্নয়ন বাংক গঠনের চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আর নেওয়া হলো না। রুশ অর্থমন্ত্রী জানান, বাংক গঠনে প্রতিটি দেশ কি পরিমান অর্থ সরবরাহ করবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় ব্রিকস নেতারা। পরের দিন রাশিয়ার সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই রিয়াকোভ সাংবাদিকদের পরিস্থিতি জটিল না করার আহবান জানান এবং বলেন, “এ ধরণের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি কাজের সময়ে হওয়া একদমই সাধারণ ব্যাপার। তিনি আরো বলেন, এ ধরণের একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা নিয়ে কেউই দ্বিমত প্রকাশ করেনি। আমরা মনে করি প্রশ্ন যথেষ্ট জটিল এবং এর সমাধানের জন্য ভবিষ্যত বাংকের মূল উদ্দেশ্য ও দিক নির্দেশনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের কাজ করতে হবে। বাংক প্রতিষ্ঠার পূর্বে এখনো অনেক সময় রয়েছে। যে সিদ্ধান্তে আমরা উপনীত হয়েছে তাতে সবাই সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।