উত্তর কোরিয়ার যুদ্ধের ঘোষণা দেওয়া নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমের ভুল অনুবাদের স্বীকার হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংইয়ং থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, শত্রুদের পক্ষ থেকে প্ররোচনা দেওয়া হলে উত্তর কোরিয়া আইন মেনে নিয়েই সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকবে

যুদ্ধ যদিও ঘোষণা করা হয় নি তা প্রকাশ পায় সিউলের নিরব প্রতিক্রিয়ায় পিয়ংইয়ংয়ের ঘোষণাকে দক্ষিণ কোরিয়ায় এমনকি নিজেদের জন্য নতুন কোন হুমকি হিসেবে দেখে নি বরং তা বিগত সময়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নিয়ে সংযুক্ত একটি বিবৃতি বলে মনে করা হয়েছে

মার্চ মাসের শুরুতে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়ার জবাবে পিয়ংইয়ং দুই কোরিয়ার মধ্যে বিদ্যমান শান্তিচুক্তি বাতিল করেছে এবং এমনকি সিউলের সাথে জরুরি টেলিফোন আলাপে রাজি হয় নি উত্তর কোরিয়ার সরকার শতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্ররোচনার জবাব তারা দিবে এমন কথা রেডিও রাশিয়াকে জানালেন দূরপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের কোরিয়া গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ইভগেনী কিম তিনি বলেন, “উত্তর কোরিয়ার কাছাকাছি সত্য হলেও দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশে মার্কিন পরমাণু বোমাবাহী বিমান বি-৫২ ৩ বার উড্ডয়ন করেছে যা পরমাণু বোমা হামলা করতে সক্ষম এ ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার জনগন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মার্কিনীরা এতেও ক্ষান্ত হোন নি ২৮ মার্চ মিসুরী রাজ্য যা কোরিয়া থেকে ২০ হাজার কিলোমিটার দূরে অবস্থিতি সেখানে আরো ২টি বি-২ বিমান মোতায়েন করেছে যার প্রতিটি ১৬টি করে পরমাণু রকেট বহন করতে সক্ষম আর সম্প্রতি যে সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতেও ওই বিমান ব্যবহার করা হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র খোলাখুলিও উত্তর কোরিয়াতে প্ররোচিত করছে।"

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার থেকে যুক্তরাষ্ট্র পিয়ংইয়ং এর হুমকিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের মুখপাত্র কেটলিন হেডেন বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন সম্প্রতি উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চিন ইন স্ট্রাটেজিক রকেট সেনাদের প্রযুক্তিগত তৈরী থাকা নিয়ে এক নির্দেশনামায় সই করেন এতে বলা হয়, শত্রুদের কাছ থেকে প্ররোচনা আসলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুয়াম ও হাওয়াই দ্বীপ এবং সেই সাথে দক্ষিণ কোরিয়ার উপকূলীয় সামরিক ঘাঁটিতে হামলা করার হবে তবে পরিষ্কার যে, উত্তর কোরিয়ার কোন রকেটই ওই সামর্থ নেই যা উড়ে প্রশান্ত মহাসাগরের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত করবে এমনটি বলছেন রাজনীতি ও যুদ্ধ গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেকসান্দার খ্রারামচিখান তিনি বলেন,

“আমি মনে করি না যে, উত্তর কোরিয়া সত্যিই যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তবে উত্তেজনা অবশ্য বিরাজ করছে এবং হুমকিও রয়েছে এমন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ঘটনার ওপর পরবর্তি ঘটনা কোন দিকে মোড় নিবে তা নির্ভর করে সামগ্রিক অর্থে উভয় পক্ষের দ্বারা গৃহিত কর্মসূচির ওপর।"

এরই মধ্যে কোরিয়ার সীমান্তে আবার নতুন উত্তেজনা শুরু হয়েছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মধ্যে চুড়ান্ত যুদ্ধ শুরুর কিনারায় পৌঁছে গেছে দক্ষিণ কোরিয়ার কোন এক সেনা দেখতে পেয়েছে যে, উত্তর কোরিয়ার দিক থেকে কে যেন এগিয়ে আসার চেষ্টা করছে ওই সেনা নিজেকে আর শান্ত রাখতে পারলেন না এবং উত্তর কোরিয়ার অভিমুখে গ্রেনেড ছোড়েন পুরো ঘটনাই ছিল সাজানো তবে কেউই হতাহত হয় নি ঘটনা আর পরবর্তিতে এগিয়ে যায় নি যদিও কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে