সারা রাশিয়া গণ ফ্রন্ট (ওএনএফ) এক সামাজিক আন্দোলনে পুনর্গঠিত হওয়া উচিত হবে. এই রকমের ঘোষণা দিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন, তিনি দন-তীরের-রস্তভ শহরে সারা রাশিয়া গণ ফ্রন্টের প্রথম সম্মেলন, যেটির নাম দেওয়া হয়েছে “ন্যায়বিচার নির্মাণ”, তাতে অংশ নিয়েছেন. এই প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপ্রধান বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, ফ্রন্টের প্রধান উদ্দেশ্য অবিচল থাকা উচিত্ – “এক প্রসারিত মঞ্চ নির্মাণ, যেখানে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণের ও অবস্থানের মানুষের পক্ষে দেশের উন্নয়নের প্রধান প্রশ্নগুলির বিষয়ে সমঝোতা খোঁজার সম্ভাবনা থাকবে”.

দু বছর আগে ওএনএফ সৃষ্টি করা হয়েছিল ভ্লাদিমির পুতিনের উদ্যোগেই ও তা ঐক্যবদ্ধ করেছে সামাজিক সংস্থা ও আন্দোলন গুলির সাথে বহু নির্দল মানুষকেও, যাঁরা দেশের প্রাত্যহিক জীবনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে চেয়েছেন. তখন, দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনের সময়ে, ঠিক করা হয়েছিল যে, “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের তরফ থেকে নির্বাচনে পাওয়া মোট সদস্য পদের এক তৃতীয়াংশ দেওয়া হবে এই ফ্রন্টের সদস্যদের. কিন্তু দেশের পার্লামেন্টে কাজ করা দিয়েই ফ্রন্টের কাজ সীমাবদ্ধ থাকবে না. দন-তীরের-রস্তভ শহরে দেশের সমাজের সামনে থাকা সমস্যা নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনার এক নতুন মঞ্চকে পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে.

ওএনএফ সংগঠনের প্রথম সম্মেলনে একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে. এই প্রশ্নগুলি, যা স্বাস্থ্য সুরক্ষা, শিক্ষা, পরিবার সুরক্ষা ও শিশু কল্যাণের বিষয়ে. সেই সমস্ত অর্থনৈতিক সমস্যা গুলিও তোলা হয়েছে, কিন্তু আবারও নাগরিক অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকেই. এখানে কথা হয়েছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্য কর কম করা নিয়ে, কর্মসংস্থান ও উদ্যোগী হওয়ার জন্য প্রশ্রয় দেওয়ার অর্থের পরিমান নিয়ে. আর তাও প্রধান বিষয় শুধু আলোচনাই নয়, বরং সেই গুলিকে একটা বাস্তব পরিসরে পেশ করার. এই প্রসঙ্গে ভোলা উচিত হবে না ন্যায় বিচারের নীতি নিয়ে, এই কথাই উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“ন্যায় বিচার কি? এটা গুণমান সম্পন্ন ও বিনামূল্যের চিকিত্সা, বিনামূল্যে শিক্ষার অধিকার, পরিবার ও শিশু কল্যাণ, এটা মাতৃত্ব সমর্থন ও সামগ্রিক শৈশবের রক্ষণাবেক্ষণ, অনাথদের সহায়তা, এটা শ্রমের প্রতি সম্মান জনক সম্পর্ক, এটা নিজের শ্রমের উপযুক্ত বেতন ইত্যাদি ও ইত্যাদি বিষয়. তাই বাস্তব ব্যবহারের ক্ষেত্রে ও বাস্তবের পরিসরণে এই প্রশ্নগুলিকে এই প্রশ্ন গুলি শুধু সম্ভবই নয়, বরং আলোচনা করারও দরকার রয়েছে, এই গুলি যে কোন দেশের কাজকর্মের প্রধান দিক, আর অংশতঃ আমাদের দেশেরও. একটি গুরুত্বপূর্ণতম প্রশ্ন – এটা দারিদ্রের সঙ্গে লড়াই”.

তারই মধ্যে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন ২০০০ সালের তুলনায় দেশে প্রায় তিন ভাগ দারিদ্র কমে যাওয়ার কথা, তিরিশ থেকে শতকরা এগারো ভাগ. আর, তা স্বত্ত্বেও, দেশের প্রধান যেমন বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, “এটা যথেষ্ট বেশী স্তরের ও প্রয়োজন রয়েছে দারিদ্র সীমার নীচে বাস করা মানুষের সংখ্যা কমানোর”. একই সময়ে, তাঁর কথামতো, একই ধরনের সমস্যা বিশ্বের বহু দেশের জন্যই চরিত্রগত হয়ে রয়েছে, যেখানে রাশিয়ার চেয়ে সমাজের স্তর বিভেদ বহু গুণে বেশী.

সামাজিক রাজনীতি ও ন্যায় বিচার নিয়ে দুই দিন ব্যাপী এই সম্মেলন এক রকম ভাবে ওএনএফ সাংগঠনিক সম্মেলনের একটি সামগ্রিক মহড়ায় পরিণত হয়েছে, যা হবে ১১- ১২ জুন. তার ফলাফল অনুযায়ী ফ্রন্ট এক সামাজিক আন্দোলন হিসাবে নথিভুক্ত হবে, যা ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থকদের কোন রকমের দলের সদস্য পরিচয় ব্যতিরেকেই ঐক্যবদ্ধ করবে.