কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকা এবারে যুদ্ধের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে. শুক্রবার ভোর রাতে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চেন ঈন আদেশ করেছেন উত্তর কোরিয়ার রকেট বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে. সম্ভাব্য লক্ষ্য – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড, প্রশান্ত মহাসাগর ও দক্ষিণ কোরিয়াতে আমেরিকার সামরিক ঘাঁটি. এই নির্দেশ ঠিক তার পরেই স্বাক্ষর করা হয়েছে, যখন দুটি স্ট্র্যাটেজিক স্টেলথ বোমারু বিমান প্রথম দক্ষিণ কোরিয়ার উপরে বোমা ফেলার অনুশীলন করেছে.

প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত দুটি ফাঁকা বোমা ফেলা হয়েছে সামরিক বাহিনী শূণ্য এলাকা থেকে মাত্র ২০০ কিলোমিটার দূরে. এই সীমারেখা কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকাকে দুটি রাষ্ট্রে ভাগ করেছে. স্টেলথ বোমারু বিমান পারমানবিক অস্ত্র বয়ে নিয়ে যেতে সক্ষম, সেই গুলিকে বর্তমানে হওয়া দক্ষিণ কোরিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক মহড়ায় নিযুক্ত করা হয়েছিল.

পিয়ং ইয়ং এই মহড়া এক অত্যন্ত গর্হিত প্ররোচনা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে উত্তর কোরিয়ার উপরে আঘাত হানার প্রস্তুতি হিসাবেই দেখেছে.শুক্রবারে দক্ষিণ কোরিয়ার উত্স থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী উত্তর কোরিয়ার মাঝারি ও দূর পাল্লার রকেটের ঘাঁটি গুলিতে বাড়তি সক্রিয়তা দেখতে পাওয়া গিয়েছে. অংশতঃ, খুবই দ্রুত বেড়ে উঠেছে সামরিক বাহিনী ও পরিবহনের ব্যস্ত চলাচল.

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে পরিস্থিতি গত বেশ কয়েক দশকের মধ্যে অভূতপূর্ব রকমের উত্তেজনা বৃদ্ধির স্তরে পৌঁছেছে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের কোরিয়া প্রকল্পের ডিরেক্টর গিওর্গি তলোরায় বলেছেন:

“যুদ্ধ কারোরই চাই না. তা এতই খরচের বিষয়, রক্তক্ষয়ী হতে পারে, যে দুই পক্ষই স্রেফ তৈরী নয় যুদ্ধ করার জন্য. কিন্তু, দুঃখের বিষয় হল যে, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেক বেশী বড় বিপর্যয়ের মতো হতে পারে. যথেষ্ট হবে একটা ছোটখাট আর আচমকা ঘটনারই উদ্ভব হওয়া. যখন সামরিক বাহিনী উত্তেজিত হয়ে রয়েছে যুদ্ধ প্রস্তুতি করে, তখন সেটাই বিরোধে উপনীত হতে সাহায্য করবে. এই প্রসঙ্গে বোধগম্য নয় যে, কি করে তা ঠাণ্ডা করা সম্ভব হবে, যদি দুই দেশেরই রাজনৈতিক নেতৃত্বের ইচ্ছার মধ্যে বিরোধ না থাকে. পরিস্থিতি সত্যই খুব বিপজ্জনক. দুই পক্ষেরই উচিত্ হবে একে অপরকে প্ররোচনা না দেওয়া, শান্ত হওয়া আর আলোচনার টেবিলে পরামর্শ করার জন্য প্রস্তুত হওয়া”.

এরই মধ্যে প্ররোচনার ঝুঁকি কোন কাগুজে বাঘ নয় – এই ক্ষেত্রে নিদর্শন যোগ্য হতে পারে দুই দেশের মধ্যে সীমান্তে ঘটে যাওয়া এক ঘটনা. দক্ষিণ কোরিয়ার এক সৈন্যের মনে হয়েছিল যে, কেউ কাছের ঝোপে রয়েছে. সে গুলি চালনা করেছিল. পরে গুপ্তচর বাহিনীর লোকরা সেখানে কাউকে দেখতে পায় নি, কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ ভাবেই যুদ্ধ প্রস্তুতি নিয়েছিল. উত্তেজনা বৃদ্ধি হওয়া সব সময়েই সেই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, যাতে কোন না কোন পক্ষের স্রেফ স্নায়ু বৈকল্য হতেই পারে. এই বিষয়েই মনোযোগ আকর্ষণ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ কনস্তানতিন আসমোলভ বলেছেন:

“আর এবারে মনে করে দেখা যেতে পারে, কি হতে পারতো, যদি অবোধ্য কিছু একটা ঝোপের পিছনে নড়তে চড়তে দেখে এমন গুরুতর গুলি চালনা করা হত যে, কেউ একজন উত্তরে পক্ষ থেকে আহত হত. তাহলে, উত্তর থেকে ভাবা হত যে, এটা প্ররোচনা, আর নিজেদের স্ট্র্যাটেজি অনুযায়ী তারা তার প্রত্যুত্তর দিত. আর আমরা দেখতে পেতাম একটা বিরোধ বেঁধেছে, যাতে প্রত্যেক পক্ষই অন্য পক্ষকে দোষ দিচ্ছে. আর এবারে মনে করি শেষ আমেরিকা- দক্ষিণ কোরিয়ার সম্মিলিত ঘোষণার কথা, যাতে তাত্ত্বিক ভাবে তাদের হাতে অধিকার আসে কিম চেন ঈনকে ড্রোন পাঠিয়ে শিকার করার চেষ্টা করা”.

এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অস্বীকার করেছে যে, নিজেদের স্টেলথ বোমারু বিমান ব্যবহার করে তারা উত্তর কোরিয়াকে বাধ্য করেছে নিজেদের সমস্ত রকেট বাহিনীকে সম্পূর্ণ ভাবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হতে দিতে. এই বিষয়ে শুক্রবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী চাক হেগেল ঘোষণা করেছেন. তিনি একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত্ হবে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও অন্যান্য সহকর্মী জোটের দেশকে বুঝতে দেওয়ার যে, তারা সম্পূর্ণ গুরুত্ব দিয়েই এবারে উত্তর কোরিয়ার প্ররোচনার প্রত্যুত্তর দেবে. এই প্রসঙ্গে মন্ত্রী নির্দিষ্ট করে বলেন নি যে, কি ভাবে এই প্রতিক্রিয়া দেখানো হতে পারে.