ইউরোপের লোকরা এবারে ভয় পেয়েছে. গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের বহু দেশের পাসপোর্ট হাতে থাকা বহু শত মুসলিম লোক, যারা এখন সিরিয়াতে চরমপন্থীদের মধ্যে যুক্ত হয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে, তারা অদূর ভবিষ্যতে ইউরোপে ফিরে আসতে পারে. এই ধরনের সাবধান বাণী গ্রেট ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টে করা হয়েছে. এই রিপোর্টের লেখকদের মূল্যায়ণে প্রাক্তন জঙ্গীদের কাছ থেকে ইউরোপে বিস্তৃত রকমের অন্তর্ঘাত ও সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের অপেক্ষা করা যেতেই পারে.

একশ জনেরও বেশী গ্রেট ব্রিটেনের নাগরিক বর্তমানে সিরিয়াতে সশস্ত্র যুদ্ধে প্রশাসন বিরোধী শক্তির হয়ে যুদ্ধ করছে. এই সংখ্যা সংযুক্ত রাজতন্ত্রের শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে. প্রসঙ্গতঃ, ব্রিটেনের এই “সোলজারস্ অফ ফরচুন” দলের বা ভাগ্যের সেনানীদের গোষ্ঠী সিরিয়াতে নিয়মিত ভাবেই দলে ভারী হচ্ছে. তাই মোটেও আচমকা নয় এবং একমাত্র এই কারণেই গ্রেট ব্রিটেনের বিমান বন্দর গুলিতে যুদ্ধ অধিকৃত এলাকায় যেতে চাওয়া লোকদের উপরে নিয়ন্ত্রণ কড়া করা হয়েছে.

আরও বেশী করে জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে ফ্রান্স. প্যারিসে সাবধান করে দেওয়া হয়েছে যে, সিরিয়া থেকে উল্টো পথে চরমপন্থীদের ঘরে ফেরা এবারে শুরু হয়েছে. তাছাড়া, ফ্রান্সের কিছু নাগরিক এর আগে ঐস্লামিকদের দল ভারী করেছিল, আর তারাই মালিতে যুদ্ধ করেছে. তাই এবারে, তারা নিজেদের দেশের লোকদেরকেই সেখানে গুলি করতে পারে, কারণ ফ্রান্সের সেনাবাহিনীই বর্তমানে সেই দেশের উত্তরে গিয়েছে জঙ্গী দমনের জন্য, আন্তর্জাতিক বাহিনীর নেতৃত্ব নিয়ে. আর তারপরে এই ভাগ্যের সেনানীদের, যাদের হাতে রয়েছে ফ্রান্সেরই পাসপোর্ট, তাদের কি হবে? খুব বেশী করেই সম্ভাব্য যে, তারা ফ্রান্সেই ফিরে আসবে.

ইউরোপের জন্য হুমকি যথেষ্ট বাস্তব, - এই রকম মনে করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

“এই ধরনের হুমকি যথেষ্ট পরিমানেই রয়েছে. আপাততঃ যোদ্ধাদের সক্রিয়তা সিরিয়ার দিকে. সেখানে যুদ্ধের প্রথম সারি. কিন্তু এই সব লোকরা ফিরে আসবে, তাদের থাকবে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, অন্তর্ঘাত মূলক কাজকর্মের অভিজ্ঞতা, আর অর্থ. এখানে মুখ্য হল যে, তারা খুবই গুরুতর আদর্শগত প্রভাবে আবিষ্ট হবে. আর এই সব কিছু একসাথে নিয়েই তারা ফিরে আসবে সেই জায়গায়, যেখান থেকে রওয়ানা হয়েছিল”.

ইউরোপীয় সঙ্ঘের জন্য সন্ত্রাসের হুমকি সেই সব ভাগ্যের সেনানীদের তরফ থেকেই রয়েছে, যারা আজ সিরিয়াতে লড়াই করছে, এই কথা আগেও বহুবার রাশিয়ার রাজনীতিবিদেরা সাবধান করে দিয়ে বলেছেন. এই কথাই রেডিও রাশিয়াকে উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“এই সব যোদ্ধারা বর্তমানে খুব সম্ভবতঃ তুরস্ক হয়েই যাচ্ছে – সেখানে রয়েছে ভাড়াটে সৈন্যদের সদর দপ্তর, সেখান থেকেই তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে সিরিয়ার অভ্যন্তরে. এই সব দপ্তরের উপরে নজরদারি করছে ন্যাটো জোটের গোয়েন্দা বাহিনী ও তুরস্ক. তাতে নতুন কিছুই নেই. স্রেফ এটা এবারে আরও বেশী করে প্রকাশ্য ও প্রসারিত সমাজের জন্য অনুধাবন যোগ্য হচ্ছে. এখনই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, চরমপন্থী বিরোধী পক্ষ – এটা সিরিয়ার বাইরে থেকে সৃষ্ট শক্তি. আর সঙ্কটের সামরিক রূপান্তর, তার প্রাবল্য বৃদ্ধি – এটা বাইরের থেকে সহায়তারই ফল. রাজনৈতিক প্রক্রিয়া চালু করার একমাত্র উপায় – সিরিয়ার বিরোধীদের বাইরে থেকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করা, বাইরের থেকে অস্ত্র ও বিদেশী ভাড়াটে সেনা দিয়ে সাহায্য বন্ধ করা”.

সিরিয়াতে সরকারি ফৌজের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা ইউরোপের লোকদের সম্মিলিত সংখ্যা, ইউরোপের দেশ গুলির সরকারি পরিসংখ্যানেই বলা হচ্ছে বেশ কয়েকশো লোক. এই মূল্যায়ণ – খুবই মোটামুটি রকমের. সম্ভবতঃ, এদের সংখ্যা সিরিয়াতে – অনেক বেশী. যদিও বোঝাই যাচ্ছে যে, ভাড়াটে সেনাদের বেশীর ভাগই – এসেছে নিকটপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশ গুলি থেকে. প্রসঙ্গতঃ, এই ধরনের লোকরা – অন্তত পক্ষে, তাদের মধ্যে অনেকেই – আগেই হোক বা পরেই হোক, দেশে ফিরে আসতে চাইবেই.