সাতাশতম বিশ্ব গ্রীষ্ম ইউনিভার্সিয়াড শুরু হতে একশ দিন বাকী রয়েছে, ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আগুন এবারে ইয়াকুত্সক শহরে এসে পৌঁছেছে. সেখানে রাশিয়া জুড়ে এই আগুন বয়ে নিয়ে যাওয়ার তৃতীয় অধ্যায় চলছে. শুরু হয়েছিল ভ্লাদিভস্তকে, আর শেষ হবে জুলাই মাসের শুরুতে ইউনিভার্সিয়াডের রাজধানী কাজান শহরে. এই শহর বাস্তবে প্রায় সম্পূর্ণ ভাবেই তৈরী হয়েছে এই প্রতিযোগিতার জন্য, এই বিষয়ই সমর্থন করেছে আন্তর্জাতিক ছাত্র ক্রীড়া সংগঠন.

কাজানের ইউনিভার্সিয়াডে যোগ দেবেন ১৩ হাজারেরও বেশী মানুষ, এঁরা – খেলোয়াড়, প্রশিক্ষক ও সরকারি প্রতিনিধি, যাঁরা আসছেন বিশ্বের ১৩০টিরও বেশী দেশ থেকে. প্রসঙ্গতঃ, এখনও আবেদন পত্র জমা নেওয়া চলছে, আয়োজকরা বিশ্বাস করেন যে, এই ক্রীড়ার ভৌগোলিক প্রসার শুরু হওয়ার আগে আরও বাড়বেই. নিজেদের দেশের জন্য স্বর্ণ পদক জয়ের ইচ্ছা নিয়ে এখানে যে কোন ছাত্রই ১৭ থেকে ২৮ বছর বয়সের মধ্যে যোগ দিতে পারেন. দলে থাকতে পারে একেবারেই কেউ চেনেন না এমন প্রতিভাধর খেলোয়াড়, আর অলিম্পিকের চ্যাম্পিয়নও. এই খেলাধূলা বাস্তবিক ভাবেই একেবারেই আগে থেকে অনুমানের অযোগ্য হতে চলেছে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন আন্তর্জাতিক ছাত্র ক্রীড়া সংগঠনের সহ সভাপতি ওলেগ মাতীতসিন:

“ইউনিভার্সিয়াডে দল তৈরী করা হয়ে থাকে জয়ের হিসাব করেই. সেরা খেলোয়াড়রা, যাঁরা অলিম্পিকে, বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন, তাঁরা এখানে যোগ দেওয়ার অধিকার রাখেন. এখানে প্রতিযোগিতার স্তর মূল্যায়ণ করা খুব কঠিন. কাজানের ইউনিভার্সিয়াডের প্রতি আগ্রহ বিশেষ ধরনের. এখানে প্রথম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দল তৈরী করা হবে তাদের দেশের জাতীয় কলেজ অ্যাথলেটিক্স অ্যাশোসিয়েশন থেকে, প্রাথমিক ভাবে এঁরা দৌড় ইত্যাদি অ্যাথলেটিক্স ও সাঁতারের বিষয়ে যোগ দেবেন. ঐতিহ্য মেনেই শক্তিশালী দল আসবে গণ প্রজাতন্ত্রী চিন, জাপান, কোরিয়া থেকে. এশিয়ার দেশ গুলিতে জাতীয় দলের জন্য রিজার্ভ দল তৈরীর বিষয়ে খুব বেশী করেই মনোযোগ দিয়ে থাকে. জাপানের দল ইতিমধ্যেই তৈরী হচ্ছে রিও-ডি-জেনেইরো অলিম্পিকের জন্য. এই দলের শতকরা ৮০ ভাগই কাজানের ইউনিভার্সিয়াডে আসবেন. রাশিয়ার দলও তৈরী করা হয়েছে দেশের সবচেয়ে সেরা খেলোয়াড়দের দিয়েই. তাদের অনেকেই লন্ডনের অলিম্পিকে অংশ নিয়েছেন আর পদকও জয় করেছেন”.

এই খেলা শুরু হওয়ার একশ দিন আগে কাজানে সব কিছুই তৈরী হয়েছে অতিথিদের স্বাগত জানাতে ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে. এখানে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে ও তৈরী হয়েছে বহু হোটেল, যেখানে ফ্যানদের থাকার ব্যবস্থা হবে. বাকী রয়েছে শুধু কাজান – অ্যারেনা নামের প্রধান ষ্টেডিয়াম, সমস্ত বাকী জায়গাই তৈরী, এই কথা উল্লেখ করে ওলেগ মাতীতসিন বলেছেন:

“এখন চালু রয়েছে উদ্বোধনী ও সমাপ্তি অনুষ্ঠানের মহড়া. এটা বিশাল আকারের অনুষ্ঠান হবে. এই প্রতিযোগিতার আয়োজনে কাজকর্মের মধ্যে যে অংশ বাকী রয়েছে, তা হল এখন কিছু জায়গায় যন্ত্রপাতি বসানো হচ্ছে. আমার নিজের মূল্যায়ণে সব কিছুই তৈরী রয়েছে শতকরা ৯৫ ভাগ. কাজানের ইউনিভার্সিয়াড এখানে আন্তর্জাতিক সংগঠনের জন্য অনেক উদ্ভাবনী প্রকল্প নিয়ে এসেছে. এটা ইউনিভার্সিয়াডের আগুন বয়ে নিয়ে যাওয়ার মশাল দৌড়, যা আমরাই প্রথম প্রস্তাব করেছি, স্বেচ্ছাসেবকদের যোগ করার পরিকল্পনা”.

কাজানে রেকর্ড সংখ্যক মেডেল নিয়ে প্রতিযোগিতা হতে চলেছে – মোট সাড়ে তিনশ রকমের. এটা লন্ডনের অলিম্পিকের চেয়ে বেশী, যেখানে ছিল ৩০২ রকমের মেডেল. এখানে খেলাধূলা হবে ২৭ রকমের, এটা আগের বারে ২০১১ সালে শেন্চঝেন ইউনিভার্সিয়াডের চেয়ে বেশী. এই বারে প্রতিযোগিতার মধ্যে ঢুকেছে সিনক্রোনাইজড সুইমিং, সাম্বো ও বেল্ট পরে কুস্তির বিশেষ ধরন. এটা একটা প্রাচীন খেলা, যা বিশ্বের বহু জাতির মধ্যেই রয়েছে, যখন দুজন কুস্তি গীর একে অপরের পোষাকের উপরে পরা বেল্ট ধরে টান দেয়.

কাজান স্রেফ খেলাধূলার শহর নয়, এটা রাশিয়ার তৃতীয় জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র, মস্কো আর সেন্ট পিটার্সবার্গে পরেই. কাজানে ইউরোপীয় ও এশিয়ার সংস্কৃতির মেল বন্ধন দেখতে পাওয়া যায়. হাজার বছরের বেশী ইতিহাস সমৃদ্ধ এই শহরে একশরও বেশী প্রজাতির মানুষ একে অপরের সঙ্গে একসাথে রয়েছেন.

বর্তমানের ইউনিভার্সিয়াড ইতিহাসে প্রথম বিশ্বের বহু দেশে সরাসরি প্রচার করা হবে. নিজের আকারে এটা অলিম্পিকের চেয়ে কোন ভাবেই কম নয়. রাশিয়ার জন্য এই প্রতিযোগিতা সোচী শহরে ২০১৪ সালের শীত অলিম্পিকের আগে প্রধান মহড়ার কাজ করবে. এই বারের গ্রীষ্ম কালেই খেলাধূলার ক্ষেত্রে নতুন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরীক্ষা করে দেখা হবে, আয়োজন ও অতিথি স্বাগত জানানোর নতুন পদ্ধতিও প্রথমবার ব্যবহার করা হবে. বেশীর ভাগ স্বেচ্ছাসেবকরা ও ম্যানেজাররা, যাঁরা এই ইউনিভার্সিয়াডে অংশ নেবেন, তাঁরাই আগামী শীতে অলিম্পিকের সময়ে কাজ করবেন.