যদি এই জোট তৈরী সম্ভব হয়, তবে তা উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য এলাকা ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের পরে তৃতীয় বৃহত্তম জোটে পরিণত হবে. জোট তৈরীর জন্য আলোচনা শুরু করেছে চিন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া.

সিওলে প্রথম রাউন্ডের আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বেশীর ভাগ অংশে প্রশাসনিক প্রশ্ন নিয়ে পরামর্শ করবেন. বাণিজ্য জোট গঠনের জন্য এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিগুলি ইতিমধ্যেই কয়েক বছর ধরে আলোচনা করে যাচ্ছে. বিগত সময়ে এই বিষয়ে সক্রিয় হয়ে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে চিন. প্রাথমিক ভাবে রাজনৈতিক কারণে: বাণিজ্য জোট দিয়ে বেজিং এই এলাকায় আমেরিকার কোম্পানী গুলির প্রভাব কমিয়ে দিতে চাইছে.

বাণিজ্য জোট সৃষ্টির নির্দিষ্ট কোন সময় সীমা আজ কেউই বলতে চাইবেন না, অংশগ্রহণকারী বা বিশেষজ্ঞরা কেউই নয়. রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ভিতালি শ্ভীদকো মনে করেন যে, সবই নির্ভর করছে, কতখানি ঘনিষ্ঠভাবে এই দেশ গুলি সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করবে, তাই তিনি বলেছেন:

“বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে কোন ধরনের সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া সবসময়েই কোন না কোন শিল্পের থেকে খুবই শক্তিশালী বিরোধিতার সম্মুখীণ হয়ে থাকে. আর এই সব বিষয়ে সহমতে পৌঁছনো সাধারণতঃ অনেক সময় নিয়ে থাকে. এটা কি রকমের কাঠামোতে এটা তৈরী করা হবে, তার উপরেই নির্ভর করছে. সাধারণতঃ এটা তা থেকেই নির্দিষ্ট হয়ে থাকে যে, কতটা গভীর হবে সমাকলনের প্রক্রিয়া ও বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পারস্পরিক বাধা নিষেধ তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া কতদূর অবধি যাবে. যদি সামনে খুব বিনীত ধরনের লক্ষ্য রাখা হয়, তবে এটার জন্য তিন- চার বছর লাগতে পারে. আর যদি কথা হয়, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের বিষয়ে গভীর ও একেবারেই চরম ভাবে সমস্ত রকমের বাধা তুলে নেয়ার, তবে এটা অনেক দীর্ঘ প্রক্রিয়া হতে পারে – পাঁচ- ছয় বছর ধরে”.

এশিয়ার বাণিজ্য জোট তৈরীর কথাবার্তা সবে শুরু হয়েছে, কিন্তু ইতিমধ্যেই এই উদ্যোগের বিরোধীদের উদয় হয়েছে. তাদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার কৃষকরা, যারা সিওলে প্রতিবাদ মিছিল, সমাবেশ করেছে. তারা ভয় পেয়েছে যে, বাণিজ্যের বাধা তুলে নেওয়ার পরে তারা বিদেশী কোম্পানীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পেরে উঠবে না. একই ধরনের ভীতির কথা তুলেছে জাপানের কৃষি পণ্য উত্পাদন শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লোকরা. তার ওপরে, কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন যে, এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনীতিগুলির বাণিজ্য জোট তৈরীই হবে না. ইউরোপের দেশ গুলির মতো বাণিজ্য জোট এশিয়াতে তৈরী করা সম্ভব হবে না, কারণ সেখানে প্রায়ই খুব গুরুতর সঙ্কট সৃষ্টি হয়ে থাকে. যেমন, বর্তমানের খুবই তীক্ষ্ণ সীমান্ত নিয়ে বিতর্ক, যা চলছে চিন – জাপান ও জাপান – দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে. এই ধরনের বিরোধ গুলিই প্রায় বাণিজ্য যুদ্ধের সামনে এনে ফেলেছিল, সেই দেশ গুলিকেই, যারা আজ বাণিজ্য জোট তৈরীর কথা বলছে.