শান্তির পথে সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে আরব লীগের রাষ্ট্র সমূহ. এই রকমই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন আরব লীগের পক্ষ থেকে দামাস্কাসের প্রশাসনের আসন বিরোধী ও বৈপ্লবিক জাতীয় জোটের প্রতিনিধিদের দেওয়ার জন্য. বিরোধী পক্ষ ২৬শে মার্চ আরব লীগের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে দোহা শহরে সিরিয়ার সরকারি প্রতিনিধি দল হিসাবে যোগ দিয়েছে.

ভিতালি চুরকিন মনে করেন যে, সিরিয়ার বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসায় আরব লীগের সিদ্ধান্ত কোন ভাবেই সহায়তা করে না. তাছাড়া, তাঁর কথামতো, আরব লীগের মধ্যে বিরোধী পক্ষকে বিরোধী পক্ষকে আরব লীগের মধ্যে জায়গা করে দেওয়া, যা আইন অনুযায়ী দামাস্কাসের প্রাপ্য. তা আইন সংক্রান্ত প্রশ্নেরও উদ্রেক করে. সিরিয়া লীগ থেকে বাদ পড়ে নি, তার সদস্যপদ বন্ধ করে রাখা হয়েছিল.

আরব লীগের সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক স্তরে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে সমর্থন কি আগে থেকে নির্দিষ্ট করে দিয়েছে? এই প্রসঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক অ্যাকাডেমীর উপ সভাপতি ভ্লাদিমির আনোখিন বলেছেন:

“আমি মনে করি, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জঙ্গীদের বিফল হওয়া এই বিষয়ে চাপ সৃষ্টি করেছে. আরব লীগ বর্তমানে আরও বেশী করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের এক শাখায় পরিণত হয়েছে, আরব রাষ্ট্র গুলির সামগ্রিক স্বার্থ বজায় রাখার চেষ্টা করার চেয়ে. এখানে খুবই বড় নীতিগত এক ভুল করা হয়েছে. আরব লীগের সনদে লেখা রয়েছে যে, নিজেদের সদস্য দেশ গুলির কোন একটিতেও লীগ কোন অধিকার রাখে না, অথবা অন্য কোন ভাবেও প্রভাব ফেলতে পারে না কোন রকমের রাষ্ট্র ব্যবস্থার পরিবর্তনের অথবা প্রশাসন পরিবর্তনের. আরব লীগ বর্তমান ক্ষেত্রে নিজেদের দায়িত্বের সীমা অতিক্রম করেছে. তারা সেই সমস্ত দেশের সুবিধার জন্য কাজ করছে, যারা বাশার আসাদকে সরিয়ে দিতে চায়”.

আরব লীগের সনদ ও নীতির বিরোধ দোহা শহরে নেওয়া আরও একটি সিদ্ধান্তে করা হয়েছে. যেখানে নতুন সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে যে, লীগের প্রত্যেক সদস্য দেশ সিরিয়ার বিরোধীদের সামরিক সহায়তা করতে পারে.

আরব লীগে যোগ দেওয়ার জন্য বিরোধীদের জোটকে শর্ত হিসাবে বলা হয়েছিল অন্তর্বর্তী কালীণ সরকার গঠনের. তা তৈরী করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বিরোধী জোটের দ্বারা নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হাসান হিট্টো কে. তারই মধ্যে মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এশিয়া ও আফ্রিকা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ মনে করেন যে, এই কাজ বিরোধী পক্ষের করার ক্ষমতার উর্দ্ধে, তাই তিনি বলেছেন:

“বিরোধী পক্ষের আসন্ন সময়ের মধ্যে এই কাজ করা হয়ে উঠবে না. তাদের দুঃখের বিষয় হল যে, তারা নিজেদের মধ্যেই সহমতে আসতে সক্ষম নয়. তারা নানা রকম ভাবে সিরিয়ার ভবিষ্যত কল্পনা করেছে. সেখানে এমন সব শক্তি রয়েছে, যারা সিরিয়ার প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও তার পরবর্তী বিবর্তনের মাধ্যমে পরিস্থিতি বদল ঘটাতে প্রস্তুত রয়েছে, তাদের কোন বিপ্লবের প্রয়োজন নেই. আবার সেই সমস্ত শক্তির পক্ষপাতিত্ব করার মতো লোকও রয়েছে, যারা মনে করে যে, শুধু সামরিক উপায়েই কাজ করা সম্ভব. এমন সব লোকও আছে যারা স্রেফ ঐস্লামিক চরমপন্থী. তারা আরও একটি আরব দেশে পরিস্থিতি টালমাটাল থাকাকে নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য উপযুক্ত বলে ভাবে, যেমন এটা এক সারি দেশ জুড়ে হয়েছে, যাকে বলা হয় “আরব বসন্ত””.

সিরিয়ার জায়গা বিরোধীদের ছেড়ে দেওয়াকে সমালোচনা করেছে ইরান. তেহরানে মনে করা হয়েছে যে, এটা এক বিপজ্জনক ধারা, যা শুরু হতে চলেছে আরব বিশ্বে – যাদের উপরে দেশের জনগনের সমর্থন নেই, তাদের হাতে জায়গা ছেড়ে দেওয়া. এই কাজ এই এলাকায় আরব লীগের গঠন মূলক ভূমিকার শেষ করে দেবে, এই কথা উল্লেখ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র দপ্তরের উপমন্ত্রী হুসেইন আমির আবদোলাখিয়ান.